রাজধানীর চিরচেনা লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন বাসের বদলে এবার আধুনিক বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ঢাকার সড়কে প্রথমবারের মতো দেখা মিলবে পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহন।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত থাকবে ৫০টি বাস। দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে এসব বাস সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ পদ্ধতিতে বাস কিনতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতেই আমরা সরাসরি কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, তিন মাসের মধ্যে এই বাসগুলো দৃশ্যমান হবে। একই সময়ে চার্জিং স্টেশন নির্মাণ এবং চালক ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের কাজও শেষ করা হবে।’
পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাসের বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০ বছরের বেশি পুরোনো কোনো বাসকে আর ফিটনেস দেওয়া হবে না। বাস মালিকদেরও বৈদ্যুতিক বাসের এই উদ্যোগে শামিল হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে বিশৃঙ্খল এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিকদের কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারের এই দ্রুতগতির উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান মনে করেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কেবল বাস নামালেই সুফল মিলবে না। তিনি বলেন, ‘শুধু বাস কিনলেই হবে না, পুরো ইকোসিস্টেম প্রস্তুত করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল ও সঠিক মাস্টারপ্ল্যান না থাকলে এই উদ্যোগ টেকসই হওয়া কঠিন হবে।’
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নতুন এই বৈদ্যুতিক বাস কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর চিরচেনা লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন বাসের বদলে এবার আধুনিক বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ঢাকার সড়কে প্রথমবারের মতো দেখা মিলবে পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহন।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত থাকবে ৫০টি বাস। দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে এসব বাস সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ পদ্ধতিতে বাস কিনতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতেই আমরা সরাসরি কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, তিন মাসের মধ্যে এই বাসগুলো দৃশ্যমান হবে। একই সময়ে চার্জিং স্টেশন নির্মাণ এবং চালক ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের কাজও শেষ করা হবে।’
পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাসের বিষয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০ বছরের বেশি পুরোনো কোনো বাসকে আর ফিটনেস দেওয়া হবে না। বাস মালিকদেরও বৈদ্যুতিক বাসের এই উদ্যোগে শামিল হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে বিশৃঙ্খল এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মালিকদের কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারের এই দ্রুতগতির উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান মনে করেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া কেবল বাস নামালেই সুফল মিলবে না। তিনি বলেন, ‘শুধু বাস কিনলেই হবে না, পুরো ইকোসিস্টেম প্রস্তুত করতে হবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল ও সঠিক মাস্টারপ্ল্যান না থাকলে এই উদ্যোগ টেকসই হওয়া কঠিন হবে।’
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে নতুন এই বৈদ্যুতিক বাস কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন