নাথান লায়নের বলটি লং অফে ঠেলে দিয়েই বুঝে গিয়েছিলেন স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছেন। রান নেওয়ার মাঝপথেই আনন্দে আকাশে লাফিয়ে উঠলেন তানজিদ হাসান তামিম। দুই হাত মেলে ধরে উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট ও হেলমেট। ডারউইনের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরাও।
প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরির মহাকাব্য লিখলেন এই তরুণ ওপেনার।
ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট এবং দেশের বাইরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই এমন অনন্য কীর্তি গড়লেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের তিন অঙ্কের জাদুকরী দেখা পাওয়া সহজ কথা নয়। ম্যাচের শুরুতে ব্যক্তিগত মাত্র ২ রানে স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে জীবন পাওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাননি তিনি।
মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে তোলেন ১০২ রানের এক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জুটি। অফস্টাম্পের বাইরের বিপজ্জনক বল বিচক্ষণতার সঙ্গে ছেড়েছেন, আবার সুযোগ পেলেই দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভে বাউন্ডারি কুড়িয়েছেন। বিউ ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারা ছক্কাটি ছিল তার সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাসেরই বড় প্রমাণ।
ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের দুর্দান্ত মিশেলে প্রথম ফিফটি করতে তানজিদ খরচ করেন ১০২ বল। এরপর দলের প্রয়োজন বুঝে ব্যাটিংয়ের গতি বাড়িয়ে পরবর্তী ৫০ রান তুলে নেন মাত্র ৮৬ বলে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে শতক পূর্ণ করার পর ১০১ রানে থামে তার স্মরণীয় এই ইনিংসটি।
এর আগে কেবল শাহরিয়ার নাফীসেরই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি, তবে তা ছিল দেশের মাটিতে। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান কিংবা মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও ক্যাঙ্গারুর দেশে যে উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি, ক্যারিয়ারের শুরুতেই তা স্পর্শ করলেন তানজিদ। এই সেঞ্চুরি কেবল একটি স্কোরকার্ডের সংখ্যা বা রেকর্ড বইয়ের পাতা নয়; কঠিন পরিস্থিতিতে বুক চিতিয়ে লড়াই করার এক অবিনাশী প্রতীক হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
নাথান লায়নের বলটি লং অফে ঠেলে দিয়েই বুঝে গিয়েছিলেন স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছেন। রান নেওয়ার মাঝপথেই আনন্দে আকাশে লাফিয়ে উঠলেন তানজিদ হাসান তামিম। দুই হাত মেলে ধরে উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট ও হেলমেট। ডারউইনের গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানালেন অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরাও।
প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরির মহাকাব্য লিখলেন এই তরুণ ওপেনার।
ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট এবং দেশের বাইরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই এমন অনন্য কীর্তি গড়লেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের তিন অঙ্কের জাদুকরী দেখা পাওয়া সহজ কথা নয়। ম্যাচের শুরুতে ব্যক্তিগত মাত্র ২ রানে স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে জীবন পাওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাননি তিনি।
মুমিনুল হকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে তোলেন ১০২ রানের এক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জুটি। অফস্টাম্পের বাইরের বিপজ্জনক বল বিচক্ষণতার সঙ্গে ছেড়েছেন, আবার সুযোগ পেলেই দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভে বাউন্ডারি কুড়িয়েছেন। বিউ ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারা ছক্কাটি ছিল তার সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাসেরই বড় প্রমাণ।
ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনের দুর্দান্ত মিশেলে প্রথম ফিফটি করতে তানজিদ খরচ করেন ১০২ বল। এরপর দলের প্রয়োজন বুঝে ব্যাটিংয়ের গতি বাড়িয়ে পরবর্তী ৫০ রান তুলে নেন মাত্র ৮৬ বলে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বলে শতক পূর্ণ করার পর ১০১ রানে থামে তার স্মরণীয় এই ইনিংসটি।
এর আগে কেবল শাহরিয়ার নাফীসেরই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি, তবে তা ছিল দেশের মাটিতে। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান কিংবা মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও ক্যাঙ্গারুর দেশে যে উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি, ক্যারিয়ারের শুরুতেই তা স্পর্শ করলেন তানজিদ। এই সেঞ্চুরি কেবল একটি স্কোরকার্ডের সংখ্যা বা রেকর্ড বইয়ের পাতা নয়; কঠিন পরিস্থিতিতে বুক চিতিয়ে লড়াই করার এক অবিনাশী প্রতীক হয়ে থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন