কদিন আগেও যার কপালে জোটেছিল চোর ও মাদকাসক্তের অবমাননাকর তকমা, আজ তার জীর্ণ কুটিরেই ভিড় জমাচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ। তবে কোনো আক্রমণাত্মক মনোভাব বা ক্ষোভ নিয়ে নয়, তাদের চোখে মুখে কেবল সহানুভূতি আর হাতে সাহায্যের হাতছানি।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবনে এই আকস্মিক ও অভাবনীয় পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া সেই হৃদয়বিদারক ভিডিও। যেখানে দেখা গিয়েছিল, চুরির অপবাদে স্থানীয়দের হাতে গাছে বাঁধা রয়েছেন বাবা, আর চরম দুর্বিষহ সেই মুহূর্তে একটু চা আর পাউরুটি হাতে নিয়ে ছুটে গেছে নয় বছরের ছোট্ট মেয়ে তুবা। নিজের নরম তুলতুলে হাতে বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ওই দৃশ্যটি নিমেষেই কাঁদিয়েছিল পুরো দেশের মানুষকে।
এই মানবিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে সরাসরি অনিকের বাড়িতে হাজির হন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। আকস্মিক এই প্রশাসনিক উপস্থিতি ভেঙে যাওয়া পরিবারটির মাঝে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন ও আশার সঞ্চার করেছে। ইউএনও মহোদয় ভুক্তভোগী পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, তিনি এইচএসসি পাস করেছেন। তাদের সংসার আলো করে রয়েছে দুই সন্তান তুবা ও তিন বছরের ছোট্ট তুরিন ইসলাম তুনা। সংসারে নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস না থাকায় চরম অভাব-অনটনেই দিন কাটছিল তাদের।
সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর একটি কর্মসংস্থান কিংবা নিজের একটি চাকরি অত্যন্ত প্রয়োজন বলে আকুতি জানান তিনি। জান্নাতুল ফিরদাউস আরও জানান, তার স্বামী অনিক সমস্ত অন্ধকার ও ভুল পথ চিরতরে ত্যাগ করে এখন আলোর পথে ফিরে আসার শপথ নিয়েছেন।
অশ্রুসজল নয়নে নিজের ভুল স্বীকার করে অনিক সরদার বলেন, আমি এখন সমাজের মূল ধারায় ফিরে এসে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আমাকে সামান্য আয়-রোজগারের একটি স্থায়ী পথ তৈরি করে দেন, তবে আমি কসম কেটে বলছি নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলব।
দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে একটি চাকরির আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বাবার প্রতি ওই ছোট্ট মেয়ের নিষ্পাপ ও গভীর ভালোবাসা দেখেছে পুরো দেশ তথা বিশ্ববাসী। অনিক সরদার যদি সত্যিই অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে এই দুর্গত পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার ভোরের দিকে বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে গ্রামবাসী অনিককে ধরে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেছিল। সকালে তার ৯ বছরের শিশুকন্যা তুবা হাত-পা বাঁধা অবয়বে নিজ বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কদিন আগেও যার কপালে জোটেছিল চোর ও মাদকাসক্তের অবমাননাকর তকমা, আজ তার জীর্ণ কুটিরেই ভিড় জমাচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ। তবে কোনো আক্রমণাত্মক মনোভাব বা ক্ষোভ নিয়ে নয়, তাদের চোখে মুখে কেবল সহানুভূতি আর হাতে সাহায্যের হাতছানি।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবনে এই আকস্মিক ও অভাবনীয় পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া সেই হৃদয়বিদারক ভিডিও। যেখানে দেখা গিয়েছিল, চুরির অপবাদে স্থানীয়দের হাতে গাছে বাঁধা রয়েছেন বাবা, আর চরম দুর্বিষহ সেই মুহূর্তে একটু চা আর পাউরুটি হাতে নিয়ে ছুটে গেছে নয় বছরের ছোট্ট মেয়ে তুবা। নিজের নরম তুলতুলে হাতে বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ওই দৃশ্যটি নিমেষেই কাঁদিয়েছিল পুরো দেশের মানুষকে।
এই মানবিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে সরাসরি অনিকের বাড়িতে হাজির হন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। আকস্মিক এই প্রশাসনিক উপস্থিতি ভেঙে যাওয়া পরিবারটির মাঝে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন ও আশার সঞ্চার করেছে। ইউএনও মহোদয় ভুক্তভোগী পরিবারটির খোঁজখবর নেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন।
অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, তিনি এইচএসসি পাস করেছেন। তাদের সংসার আলো করে রয়েছে দুই সন্তান তুবা ও তিন বছরের ছোট্ট তুরিন ইসলাম তুনা। সংসারে নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস না থাকায় চরম অভাব-অনটনেই দিন কাটছিল তাদের।
সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর একটি কর্মসংস্থান কিংবা নিজের একটি চাকরি অত্যন্ত প্রয়োজন বলে আকুতি জানান তিনি। জান্নাতুল ফিরদাউস আরও জানান, তার স্বামী অনিক সমস্ত অন্ধকার ও ভুল পথ চিরতরে ত্যাগ করে এখন আলোর পথে ফিরে আসার শপথ নিয়েছেন।
অশ্রুসজল নয়নে নিজের ভুল স্বীকার করে অনিক সরদার বলেন, আমি এখন সমাজের মূল ধারায় ফিরে এসে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আমাকে সামান্য আয়-রোজগারের একটি স্থায়ী পথ তৈরি করে দেন, তবে আমি কসম কেটে বলছি নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলব।
দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে একটি চাকরির আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বাবার প্রতি ওই ছোট্ট মেয়ের নিষ্পাপ ও গভীর ভালোবাসা দেখেছে পুরো দেশ তথা বিশ্ববাসী। অনিক সরদার যদি সত্যিই অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফিরে আসেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে এই দুর্গত পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার ভোরের দিকে বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে গ্রামবাসী অনিককে ধরে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেছিল। সকালে তার ৯ বছরের শিশুকন্যা তুবা হাত-পা বাঁধা অবয়বে নিজ বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দৃশ্যটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

আপনার মতামত লিখুন