সংবাদ

হাওরের বুকে জীবন ও জলকাব্য


মোহাম্মদ ইয়াছিন
মোহাম্মদ ইয়াছিন
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

হাওরের বুকে জীবন ও জলকাব্য
টাঙ্গুয়ার হাওর

হাওরের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বিস্তৃত জলধারা, দৃষ্টির সীমানা পেরিয়ে দূর-দূরান্তে পানি আর পানি- যেন সম্পূর্ণ পৃথিবীটাই জলরাশিতে আবৃত। বর্ষার ঝুম বৃষ্টির সময় হাতে ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ফোন স্ক্রল করার সময় হাওরের ছবি বা ভিডিও সামনে আসলেই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর আর কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরের মনমাতানো দৃশ্যগুলো দেখলেই ভ্রমণপিপাসুদের পক্ষে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কিন্তু কেমন কাটে হাওড় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মানুষদের দৈনন্দিন জীবন? কীভাবে শুরু হয় তাদের প্রতিদিনের সকাল আর কীভাবে কাটে তাদের সারাটা দিন? বাস্তবে তারাও কি উপভোগ করতে পারে হাওরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নাকি এই সৌন্দর্যই তাদের জন্য বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে?

সংস্কৃত শব্দ ‘সাগর’ এর বিকৃত আঞ্চলিক নাম হচ্ছে ‘হাওর’। বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জমে থাকা দিগন্তজোড়া বিশাল জলরাশিকে দেখতে সাগরের মতো মনে হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘সাগর’ নামে ডাকত, যা কালের পরিক্রমায় ‘হাওর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় হাওরসমূহের মধ্যে রয়েছে সিলেটের হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ও শনির হাওর, কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওর, মৌলভীবাজারের হাইল হাওর ইত্যাদি। প্রতিবছর বর্ষা এলেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে যায় এই সব হাওরে প্রকৃতির সঙ্গে একটুখানি নিবিড় সময় কাটানোর আশায়।

হাওর অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যে ভরা বছরের প্রায় অর্ধেক সময় পানিতে আবদ্ধ থাকে, বাকি অর্ধেক সময় থাকে শুকনো। সাধারণত এপ্রিল থেকে নভেম্বর এই ছয় মাস হাওরে পানি থাকে এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই শীতকালীন সময়ে পানি সম্পূর্ণ রূপে শুকিয়ে যায়। এই সময়টা কৃষকদের ধান চাষের উপযুক্ত সময়। উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ তুলনামূলক কম কষ্টসাধ্য। সাধারণত বীজতলা থেকে চারা তুলে নরম কাদামাটিতে রোপণ করেন স্থানীয় কৃষকরা। মে মাসেই শুরু হয় ধান ঘরে তোলার সমারোহ। পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যার হাত থেকে নিজেদের ফসল বাঁচাতে এই সময়ে হাওরের কৃষকরা তাদের সবচেয়ে ব্যস্ততম সময় কাটান। ধান কাটা, মাড়াই করা, শুকানো, সিদ্ধ করা ও সংরক্ষণ করার কাজে ব্যস্ত থাকেন নারী-পুরুষ উভয়ই। এরপর মে ও জুন মাসের দিকে হাওরে আবার বর্ষার পানি আসতে শুরু করে, যা অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

অন্যদিকে, মে মাসের দিকে ধান কাটার ব্যস্ততা ফুরোলে হাওরবাসীর জীবনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ছোট ছোট নৌকায় ১ থেকে ২ জন মিলে জাল আর বড়শি নিয়ে সকাল সকাল তারা বের হন মাছ ধরার উদ্দেশে। সারাদিন মাছ ধরা শেষে বাড়ি ফিরে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি। তরতাজা মাছের সঙ্গে গরম ভাত—এটাই হাওরের মানুষের নিত্যদিনের স্বস্তির খাবার। ধান চাষ আর মাছ ধরা ছাড়াও এখানকার মানুষ গরু, ছাগল, মুরগি ও হাঁস পালন করে থাকে। এছাড়া অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে পর্যটন এলাকার হাওরগুলোতে নৌকা ও হাউসবোট চালক, অটোরিকশা ও মোটরবাইক চালক এবং ট্যুর গাইড হিসেবে অনেকে কাজ করছেন। অনেকে ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ বা দোকানপাট পরিচালনা করেও জীবিকা নির্বাহ করছেন।

হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ জুড়ানো হলেও এখানকার মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঋতুভিত্তিক চরম আবহাওয়ার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় সময় হাওরবাসীর একমাত্র আয়ের উৎস পানিতে তলিয়ে যায়। পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার ফলে নৌকা ছাড়া যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে যাওয়াও বন্ধ থাকে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো যায় না, ফলে অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যান; বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত মারাত্মক। এছাড়া হাওরের বাতাসে সৃষ্ট ঢেউ বা ‘আফালের’ ধাক্কায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করতে প্রতিবছর হাওরবাসীকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়।

হাওরের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা দূর করতে এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বর্ষার পানিতে না ডোবা উঁচু ‘অল-ওয়েদার’ সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং বর্ষাকালে দ্রুত ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত নৌকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢল সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে বন্যাসহনশীল ধানের চারা বিতরণ এবং ‘আফালের’ ক্ষতিকর আঘাত থেকে বাঁচতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি উঁচু স্থানে আশ্রয় প্রকল্প, চিকিৎসা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকার, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের মিলিত প্রচেষ্টাতেই কেবল হাওরের মানুষের জীবনমান স্থায়ীভাবে উন্নত করা সম্ভব।

[লেখক: শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


হাওরের বুকে জীবন ও জলকাব্য

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হাওরের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বিস্তৃত জলধারা, দৃষ্টির সীমানা পেরিয়ে দূর-দূরান্তে পানি আর পানি- যেন সম্পূর্ণ পৃথিবীটাই জলরাশিতে আবৃত। বর্ষার ঝুম বৃষ্টির সময় হাতে ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ফোন স্ক্রল করার সময় হাওরের ছবি বা ভিডিও সামনে আসলেই সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর আর কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরের মনমাতানো দৃশ্যগুলো দেখলেই ভ্রমণপিপাসুদের পক্ষে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কিন্তু কেমন কাটে হাওড় অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মানুষদের দৈনন্দিন জীবন? কীভাবে শুরু হয় তাদের প্রতিদিনের সকাল আর কীভাবে কাটে তাদের সারাটা দিন? বাস্তবে তারাও কি উপভোগ করতে পারে হাওরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নাকি এই সৌন্দর্যই তাদের জন্য বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে?

সংস্কৃত শব্দ ‘সাগর’ এর বিকৃত আঞ্চলিক নাম হচ্ছে ‘হাওর’। বর্ষার অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জমে থাকা দিগন্তজোড়া বিশাল জলরাশিকে দেখতে সাগরের মতো মনে হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘সাগর’ নামে ডাকত, যা কালের পরিক্রমায় ‘হাওর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় হাওরসমূহের মধ্যে রয়েছে সিলেটের হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ও শনির হাওর, কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম হাওর, মৌলভীবাজারের হাইল হাওর ইত্যাদি। প্রতিবছর বর্ষা এলেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে যায় এই সব হাওরে প্রকৃতির সঙ্গে একটুখানি নিবিড় সময় কাটানোর আশায়।

হাওর অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্যে ভরা বছরের প্রায় অর্ধেক সময় পানিতে আবদ্ধ থাকে, বাকি অর্ধেক সময় থাকে শুকনো। সাধারণত এপ্রিল থেকে নভেম্বর এই ছয় মাস হাওরে পানি থাকে এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই শীতকালীন সময়ে পানি সম্পূর্ণ রূপে শুকিয়ে যায়। এই সময়টা কৃষকদের ধান চাষের উপযুক্ত সময়। উর্বর পলিমাটি সমৃদ্ধ হওয়ায় এখানে কৃষিকাজ তুলনামূলক কম কষ্টসাধ্য। সাধারণত বীজতলা থেকে চারা তুলে নরম কাদামাটিতে রোপণ করেন স্থানীয় কৃষকরা। মে মাসেই শুরু হয় ধান ঘরে তোলার সমারোহ। পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যার হাত থেকে নিজেদের ফসল বাঁচাতে এই সময়ে হাওরের কৃষকরা তাদের সবচেয়ে ব্যস্ততম সময় কাটান। ধান কাটা, মাড়াই করা, শুকানো, সিদ্ধ করা ও সংরক্ষণ করার কাজে ব্যস্ত থাকেন নারী-পুরুষ উভয়ই। এরপর মে ও জুন মাসের দিকে হাওরে আবার বর্ষার পানি আসতে শুরু করে, যা অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

অন্যদিকে, মে মাসের দিকে ধান কাটার ব্যস্ততা ফুরোলে হাওরবাসীর জীবনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ছোট ছোট নৌকায় ১ থেকে ২ জন মিলে জাল আর বড়শি নিয়ে সকাল সকাল তারা বের হন মাছ ধরার উদ্দেশে। সারাদিন মাছ ধরা শেষে বাড়ি ফিরে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি। তরতাজা মাছের সঙ্গে গরম ভাত—এটাই হাওরের মানুষের নিত্যদিনের স্বস্তির খাবার। ধান চাষ আর মাছ ধরা ছাড়াও এখানকার মানুষ গরু, ছাগল, মুরগি ও হাঁস পালন করে থাকে। এছাড়া অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে পর্যটন এলাকার হাওরগুলোতে নৌকা ও হাউসবোট চালক, অটোরিকশা ও মোটরবাইক চালক এবং ট্যুর গাইড হিসেবে অনেকে কাজ করছেন। অনেকে ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ বা দোকানপাট পরিচালনা করেও জীবিকা নির্বাহ করছেন।

হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ জুড়ানো হলেও এখানকার মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। ঋতুভিত্তিক চরম আবহাওয়ার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায় সময় হাওরবাসীর একমাত্র আয়ের উৎস পানিতে তলিয়ে যায়। পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার ফলে নৌকা ছাড়া যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে যাওয়াও বন্ধ থাকে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সঠিক সময়ে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছানো যায় না, ফলে অনেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যান; বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত মারাত্মক। এছাড়া হাওরের বাতাসে সৃষ্ট ঢেউ বা ‘আফালের’ ধাক্কায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করতে প্রতিবছর হাওরবাসীকে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়।

হাওরের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা দূর করতে এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বর্ষার পানিতে না ডোবা উঁচু ‘অল-ওয়েদার’ সড়ক নির্মাণ করতে হবে এবং বর্ষাকালে দ্রুত ও নিরাপদে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত নৌকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢল সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে বন্যাসহনশীল ধানের চারা বিতরণ এবং ‘আফালের’ ক্ষতিকর আঘাত থেকে বাঁচতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি উঁচু স্থানে আশ্রয় প্রকল্প, চিকিৎসা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা প্রয়োজন। সর্বোপরি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকার, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের মিলিত প্রচেষ্টাতেই কেবল হাওরের মানুষের জীবনমান স্থায়ীভাবে উন্নত করা সম্ভব।

[লেখক: শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত