নরসিংদীতে এখন আমন ধান রোপণের ধুম লেগেছে। জেলার মাঠজুড়ে কৃষাণ-কৃষাণীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪১ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ১৬ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ শেষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আগামী ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে রোপণ কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হবে। এবার ব্রিধান ৪৯, ৭৫, ৮০, ৮৭, ৯৩, ৯৫, ১০৩ ছাড়াও বিনা ধান-৭, ১৭, ২৬ ও হাইব্রিড ধানী গোল্ড জাতের চাষ বেশি হচ্ছে।
মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা জমিতে কাজ করছেন। শিবপুরের দরগাবন্দ গ্রামের কৃষক রহিম জানান, বৃষ্টির অভাবে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সেচ দিয়ে ধান রোপণ করতে হচ্ছে। ফলে বিঘা প্রতি খরচ ৩ হাজার ৫০০ টাকার বদলে ৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। পলাশের সেকান্দরদী গ্রামের কৃষক শওকত হোসেন ও লাল মিয়ার মতে, সার, বীজ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় খরচ বাড়লেও ন্যায্যমূল্যের আশায় তারা আবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। রায়পুরার জসিম ও বেলাবোর হারুন জানান, সারের দাম ও শ্রমিকের উচ্চ মজুরি আমন চাষকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে ধান রোপণে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
কৃষি শ্রমিক নুরমোহাম্মদ জানান, এক বিঘা জমি রোপণের জন্য তারা ৩ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি নিচ্ছেন এবং দিনে প্রায় দুই থেকে তিন বিঘা জমিতে চারা রোপণ করছেন।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘জেলায় আমন উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন এবং কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে ধান রোপণে উৎসাহিত করছেন। আমনের ভালো ফলন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
আপনার মতামত লিখুন