সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ, এক মাসেই রেকর্ড ১৬ মৃত্যু


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ, এক মাসেই রেকর্ড ১৬ মৃত্যু
ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত এক মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩০ জন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ও আক্রান্তের অর্ধেকের বেশিই ঘটেছে শুধু এই এক মাসে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৪৬৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২১ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৫৪ শতাংশ এবং মোট মৃত্যুর ৭৬ শতাংশই ঘটেছে শুধু সেপ্টেম্বরে।

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১০২ শতাংশের বেশি। আগস্টে আক্রান্ত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন, আর মৃত্যু হয়েছিল দুজনের। গত বছরের (২০২৩) সেপ্টেম্বরের তুলনায়ও এবার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ছিলেন ৯৩৫ জন, মারা যান চারজন।

বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম থাকলেও জুন থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারিতে ৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭, জুনে ১২২ এবং জুলাইয়ে ৫৩৬ জন আক্রান্ত হন। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এসে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।

আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুঝুঁকিতে এগিয়ে নারী ও শিশুরা। মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৬৬ জনের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১৯৩, নারী ১ হাজার ২৭৮ এবং শিশু ৯৯৫ জন। তবে মারা যাওয়া ২১ জনের মধ্যে নারী ১১ জন এবং শিশু ৬ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৫২ শতাংশ নারী ও ২৮ শতাংশ শিশু।

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মিলেছে সীতাকুণ্ডে—৫৬২ জন। এ ছাড়া কর্ণফুলীতে ২৬৭, রাঙ্গুনিয়ায় ১৪৫, বাঁশখালীতে ১৪২, সাতকানিয়ায় ১০৯, আনোয়ারায় ১০৭, রাউজানে ৯৩, পটিয়ায় ৮৮, হাটহাজারীতে ৭৬, মিরসরাইয়ে ৭৪, বোয়ালখালীতে ৭১, চন্দনাইশে ৬৫, লোহাগাড়ায় ৬১, ফটিকছড়িতে ৩৭ এবং সন্দ্বীপে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত যেকোনো রোগীর ‘শক সিনড্রোম’ হতে পারে। এতে পালস ও রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। এ অবস্থায় রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত এই সংক্রমণের প্রবণতা থাকতে পারে। রোগীদের চিকিৎসায় জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি। ঘরবাড়ি ও আঙিনায় যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লক্ষণ দেখামাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের অবশ্যই মশারির ভেতর রাখতে হবে, যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হয়।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ, এক মাসেই রেকর্ড ১৬ মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত এক মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩০ জন, আর প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু ও আক্রান্তের অর্ধেকের বেশিই ঘটেছে শুধু এই এক মাসে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪ হাজার ৪৬৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২১ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৫৪ শতাংশ এবং মোট মৃত্যুর ৭৬ শতাংশই ঘটেছে শুধু সেপ্টেম্বরে।

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১০২ শতাংশের বেশি। আগস্টে আক্রান্ত ছিলেন ১ হাজার ২০২ জন, আর মৃত্যু হয়েছিল দুজনের। গত বছরের (২০২৩) সেপ্টেম্বরের তুলনায়ও এবার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ছিলেন ৯৩৫ জন, মারা যান চারজন।

বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কম থাকলেও জুন থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারিতে ৬৮, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ২০, এপ্রিলে ২৯, মে মাসে ৩৭, জুনে ১২২ এবং জুলাইয়ে ৫৩৬ জন আক্রান্ত হন। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এসে তা ভয়াবহ রূপ নেয়।

আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুঝুঁকিতে এগিয়ে নারী ও শিশুরা। মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৪৬৬ জনের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ১৯৩, নারী ১ হাজার ২৭৮ এবং শিশু ৯৯৫ জন। তবে মারা যাওয়া ২১ জনের মধ্যে নারী ১১ জন এবং শিশু ৬ জন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৫২ শতাংশ নারী ও ২৮ শতাংশ শিশু।

চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মিলেছে সীতাকুণ্ডে—৫৬২ জন। এ ছাড়া কর্ণফুলীতে ২৬৭, রাঙ্গুনিয়ায় ১৪৫, বাঁশখালীতে ১৪২, সাতকানিয়ায় ১০৯, আনোয়ারায় ১০৭, রাউজানে ৯৩, পটিয়ায় ৮৮, হাটহাজারীতে ৭৬, মিরসরাইয়ে ৭৪, বোয়ালখালীতে ৭১, চন্দনাইশে ৬৫, লোহাগাড়ায় ৬১, ফটিকছড়িতে ৩৭ এবং সন্দ্বীপে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত যেকোনো রোগীর ‘শক সিনড্রোম’ হতে পারে। এতে পালস ও রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। এ অবস্থায় রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত এই সংক্রমণের প্রবণতা থাকতে পারে। রোগীদের চিকিৎসায় জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি। ঘরবাড়ি ও আঙিনায় যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। লক্ষণ দেখামাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের অবশ্যই মশারির ভেতর রাখতে হবে, যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হয়।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত