রংপুরে ওএমএসের (খোলা বাজারে বিক্রি) চাল ও আটা বিক্রিতে বিশৃঙ্খলা এবং ডিলারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বৈরাগী পাড়া এলাকায় ওএমএসের একটি ট্রাক সেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
খাদ্য বিভাগ জানায়, ওএমএসের ট্রাকে জনপ্রতি ২৪ টাকা দরে ৫ কেজি আটা এবং ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি চাল বিক্রির কথা। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বৈরাগী পাড়ায় ভিড় করেন শত শত নারী-পুরুষ।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলার লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষকে পণ্য না দিয়ে নিজের পছন্দের লোকদের দিয়েছেন। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষের ঘোষণা দিলে অপেক্ষমাণ মানুষের মধ্যে দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে কম দামে চাল-আটা কিনতে এসে খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় ক্ষোভ জানান তারা।
দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকের সামনে একটির বদলে তিন-চারটি লাইন করে বিশৃঙ্খলভাবে পণ্য দেওয়া হচ্ছে।
নগরীর কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম বলেন, ‘ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টা বেজে গেলেও চাল-আটা পাইনি। এটা ডিলারের কারসাজি। চাল-আটা না পেলে আজ বাসায় রান্না হবে না।’
বৈরাগী পাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা সুজা মিয়া বলেন, ‘সকাল ৯টা থেকে অপেক্ষা করছি। একটি লাইনের জায়গায় চারটি লাইন করা হয়েছে; কাকে দিচ্ছে, কারা পাচ্ছে-কিছুই বুঝতে পারছি না।’
একই অভিযোগ করেন নুরপুর, স্টেশন রোড ও আলমনগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আরও অনেকে।
তবে স্বজনপ্রীতি বা কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ডিলারের ব্যবস্থাপক রমজান আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা ১ টন চাল ও ১ টন আটা বরাদ্দ পেয়েছি, যা দিয়ে মাত্র ২০০ জনকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লাইনে মানুষ ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ জন। বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখানে কোনো কারসাজি করা হয়নি।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত খাদ্য বিভাগের তদারককারী কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে পণ্য দেওয়া যাচ্ছে না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ন্যায্যমূল্যে চাল-আটা নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষকে পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে।’
আপনার মতামত লিখুন