সংবাদ

সাতক্ষীরায় ১০ কিশোরীর ৭ জনেরই বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছরের আগে


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

সাতক্ষীরায় ১০ কিশোরীর ৭ জনেরই বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছরের আগে
ছবি : সংগৃহীত

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটি পরিবারের নজরদারির অভাবে ১৫ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে। কিন্তু স্বপ্নের সংসার দ্রুতই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। স্বামী জুয়াড়ি ও ঋণগ্রস্ত হওয়ায় শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে সে। সব বাধা পেরিয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ-মাইনাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এই কিশোরী।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে। জেলাটিতে বাল্যবিবাহের হার প্রায় ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন কিশোরীর মধ্যে ৭ জনেরই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।

উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সম্প্রতি দাতিনাখালী গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ে হয়েছে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করার পরও তা ভঙ্গ করে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতার কারণে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়া পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।

সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের পেছনে দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাবের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। উপকূলীয় এলাকার মানুষের ধারণা, নোনা পানির কারণে মেয়েদের সৌন্দর্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই আগেভাগে বিয়ে দেওয়াই ভালো। গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, তাদের ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এটি আইনের অপব্যবহার মাত্র।

মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত বলেন, ‘৭২ শতাংশ বাল্যবিবাহ শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি মাঠের রূঢ় বাস্তবতা। নজরদারির ঘাটতির কারণেই এফিডেভিটের মাধ্যমে বেআইনি বিয়ে বন্ধ হচ্ছে না।’ সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও রাতে বিয়ে হওয়ার কারণে অনেক সময় খবর পাওয়া যায় না, তবে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরায় ১০ কিশোরীর ৭ জনেরই বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছরের আগে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটি পরিবারের নজরদারির অভাবে ১৫ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসে। কিন্তু স্বপ্নের সংসার দ্রুতই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। স্বামী জুয়াড়ি ও ঋণগ্রস্ত হওয়ায় শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একপর্যায়ে ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে সে। সব বাধা পেরিয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ-মাইনাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে এই কিশোরী।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে। জেলাটিতে বাল্যবিবাহের হার প্রায় ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০ জন কিশোরীর মধ্যে ৭ জনেরই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।

উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সম্প্রতি দাতিনাখালী গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ে হয়েছে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করার পরও তা ভঙ্গ করে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে শ্যামনগর থানার ওসি শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতার কারণে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়া পুলিশের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।

সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের পেছনে দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাবের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। উপকূলীয় এলাকার মানুষের ধারণা, নোনা পানির কারণে মেয়েদের সৌন্দর্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই আগেভাগে বিয়ে দেওয়াই ভালো। গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, তাদের ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই। এটি আইনের অপব্যবহার মাত্র।

মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত বলেন, ‘৭২ শতাংশ বাল্যবিবাহ শুধু একটি সংখ্যা নয়, এটি মাঠের রূঢ় বাস্তবতা। নজরদারির ঘাটতির কারণেই এফিডেভিটের মাধ্যমে বেআইনি বিয়ে বন্ধ হচ্ছে না।’ সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও রাতে বিয়ে হওয়ার কারণে অনেক সময় খবর পাওয়া যায় না, তবে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত