তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি বিশ্বকে শান্তির বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বাস্তব ও শক্তিশালী সুযোগ তৈরি করেছে।
আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি প্রচারিত হয়।
মক্কা চুক্তির স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এরদোয়ান একে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর নীতি অনুযায়ী যেমন এক সদস্য আক্রান্ত হলে সবাই এগিয়ে আসে, তেমনি এই চুক্তির আওতায় তুরস্ক, সৌদি আরব বা পাকিস্তানের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এরদোয়ান আরও জানান, এই জোট কেবল তিন দেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ভবিষ্যতে মিসরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশ চাইলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির কড়া সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক সবসময় শান্তির পক্ষে। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলই প্রধান দায়ী।’ তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধকে উৎসাহিত করছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক দেশকে। গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজাকে তুরস্ক কখনো একা ছেড়ে দেবে না।
সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, ‘সিরিয়া আমাদের ভাই। তাদের স্থিতিশীলতার জন্য তুরস্ক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে খুব শিগগির তিনি দামেস্ক সফরের পরিকল্পনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন এরদোয়ান। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫৩ বছর ধরে তুরস্ককে অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। ইইউতে যোগ দেওয়া এখন তুরস্কের প্রধান অগ্রাধিকার নয়, বরং তুরস্ককে প্রত্যাখ্যান করলে ইউরোপই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান আরও জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া সুদান, লিবিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
\

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি বিশ্বকে শান্তির বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বাস্তব ও শক্তিশালী সুযোগ তৈরি করেছে।
আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি প্রচারিত হয়।
মক্কা চুক্তির স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এরদোয়ান একে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর নীতি অনুযায়ী যেমন এক সদস্য আক্রান্ত হলে সবাই এগিয়ে আসে, তেমনি এই চুক্তির আওতায় তুরস্ক, সৌদি আরব বা পাকিস্তানের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এরদোয়ান আরও জানান, এই জোট কেবল তিন দেশেই সীমাবদ্ধ নয়; ভবিষ্যতে মিসরসহ অন্যান্য মুসলিম দেশ চাইলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির কড়া সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘তুরস্ক সবসময় শান্তির পক্ষে। কিন্তু বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলই প্রধান দায়ী।’ তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধকে উৎসাহিত করছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে অনেক দেশকে। গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজাকে তুরস্ক কখনো একা ছেড়ে দেবে না।
সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, ‘সিরিয়া আমাদের ভাই। তাদের স্থিতিশীলতার জন্য তুরস্ক প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে খুব শিগগির তিনি দামেস্ক সফরের পরিকল্পনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন এরদোয়ান। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫৩ বছর ধরে তুরস্ককে অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। ইইউতে যোগ দেওয়া এখন তুরস্কের প্রধান অগ্রাধিকার নয়, বরং তুরস্ককে প্রত্যাখ্যান করলে ইউরোপই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান আরও জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া সুদান, লিবিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
\

আপনার মতামত লিখুন