মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইরান ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির জোর দাবি জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সহজ করতে মার্কিন ডলারের বদলে নিজ নিজ জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
বাগদাদে ইরান ও ইরাকের ব্যবসায়ী এবং অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঘালিবাফ বলেন, "দুই দেশের বেসরকারি খাত বর্তমানে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সংকট চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্দেশ্যে দ্রুতই তেহরানে ইরানের চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।"
যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "ইরানের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে যেসব দক্ষ ও মেধাবী শ্রমশক্তি রয়েছে, ইরাক অনায়াসেই তাদের থেকে উপকৃত হতে পারে।"
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনার বিষয়টি টেনে যুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধির সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন ঘালিবাফ। তিনি বলেন, "ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি। তবে দেশের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্ন আসলে যেকোনো মূল্যে সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করে তা প্রতিরোধ করা হবে। যারা যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছে, শান্তির সঠিক মূল্য তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝে। আসলে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকলেই কেবল কূটনীতি কার্যকর রূপ নেয়।"
দুই দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে ঘালিবাফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক উপাদান ও ভৌগোলিক গুরুত্বের প্রতি বহিরাগত শক্তিগুলোর লোভের কারণেই ইতিহাসজুড়ে অঞ্চলটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে।
পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও সুয়েজ খালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় সামুদ্রিক বাণিজ্যিক পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ মুসলিম দেশগুলোর হাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক কৌশলে ব্যর্থ হয়ে এখন মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে।
উক্ত বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং ও শুল্ক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ঘালিবাফ যৌথ শিল্পাঞ্চল স্থাপন, ইরাকি দিনার ও ইরানি তোমানে লেনদেন চালুর পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইরান ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির জোর দাবি জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সহজ করতে মার্কিন ডলারের বদলে নিজ নিজ জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
বাগদাদে ইরান ও ইরাকের ব্যবসায়ী এবং অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঘালিবাফ বলেন, "দুই দেশের বেসরকারি খাত বর্তমানে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সংকট চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্দেশ্যে দ্রুতই তেহরানে ইরানের চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।"
যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "ইরানের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে যেসব দক্ষ ও মেধাবী শ্রমশক্তি রয়েছে, ইরাক অনায়াসেই তাদের থেকে উপকৃত হতে পারে।"
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনার বিষয়টি টেনে যুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধির সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন ঘালিবাফ। তিনি বলেন, "ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি। তবে দেশের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্ন আসলে যেকোনো মূল্যে সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করে তা প্রতিরোধ করা হবে। যারা যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছে, শান্তির সঠিক মূল্য তারাই সবচেয়ে ভালো বোঝে। আসলে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকলেই কেবল কূটনীতি কার্যকর রূপ নেয়।"
দুই দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে ঘালিবাফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক উপাদান ও ভৌগোলিক গুরুত্বের প্রতি বহিরাগত শক্তিগুলোর লোভের কারণেই ইতিহাসজুড়ে অঞ্চলটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে।
পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও সুয়েজ খালের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় সামুদ্রিক বাণিজ্যিক পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ মুসলিম দেশগুলোর হাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক কৌশলে ব্যর্থ হয়ে এখন মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে।
উক্ত বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং ও শুল্ক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ঘালিবাফ যৌথ শিল্পাঞ্চল স্থাপন, ইরাকি দিনার ও ইরানি তোমানে লেনদেন চালুর পাশাপাশি সীমান্ত বাণিজ্যে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।

আপনার মতামত লিখুন