সংবাদ

অভিযাত্রামূলক নির্বান ও প্রত্ন নাটক


হামীম রায়হান
হামীম রায়হান
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

অভিযাত্রামূলক নির্বান ও প্রত্ন নাটক
প্রত্ন নাটক ‘পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’

‘কাব্যেষু নাটকং রম্যম’

সংস্কৃত আলঙ্কারিকগন নাট্য সাহিত্যে কাব্য সাহিত্যের স্থান দিয়েছেন। তাদের মতে নাটক মূলত দু’প্রকার। দৃশ্য কাব্য ও শ্রব্য কাব্য। নাটক মূলত শ্রব্য কাব্য। এটি দৃশ্য ও শ্রব্য কাব্যের সমন্বয়ে রঙমঞ্চে গতিমানব জীবনের প্রতিচ্ছবি আমাদের সম্মুখে মুর্ত্ত করে তোলে। ঔপনিবেশীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিস্তারে বাংলার অধিকাংশ মানুষের মনে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে বাংলা নাটকের জন্ম অষ্টাদশ শতক। কিন্ত খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দে রচিত চর্যাপদের একটি চর্য্যায় বুদ্ধ নাটকের উল্লেখ পাই। 

‘নাচন্তি বাজিল গায়ন্তি দেবী/বুদ্ধ নাটক বিসমা হোহৗ’ 

তাহলে বুদ্ধ নাটক সম্পর্কে আমরা ধারনা পাই বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নির্দশন চ্যারা থেকে। এই পদটি বাংলা নাটকের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের ইতিহাস। পুরনো এই ইতিহাস ও সভ্যতার অনেক কিচু হারিয়ে গেছে কালের প্রবাহে। মাটি চাপা পড়েছে সভ্যতা। এই সভ্যতাই আমাদের শেকড়। এই শেকড় রক্ষাই নতুন ধারায় উপস্থাপন করা শুরু হয়েছে। এই ঐহিত্য সম্পদ রক্ষায় জনসচেতনা সৃষ্টিতে এই প্রথম বাঙ্গালীর সংস্কৃতির পথে বানানো হচ্ছে প্রত্ননাটক। 

বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যের যে প্রাচুর্যময় ভাণ্ডার রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল আমাদের প্রত্ন প্রত্নতান্ত্রিক নির্দশন। এসব নির্দশন সংরক্ষনের জন্য বিভিন্ন প্রত্ন নাটক রচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও উয়ারী বটেশ্বর স্থাপনা নিয়ে দুটি প্রত্ন নাটক রচিত ও প্রদর্শিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রত্ন এলাকার ইতিহাস নিয়ে এমন প্রত্ন নাটক তৈরী হবে। এই নাটকের বৈশিষ্ট্যহল প্রত্ন সম্পদ এলাকার মানুষের অভিনয়েই তা প্রদর্শিত হবে। এ জন্য কোন মঞ্চ নয়, প্রত্ন সাইটই মঞ্চ। এভাবেই দেশের প্রথম প্রত্ন নাটক ‘সোমপুর কথন’ প্রদর্শিত হয় উত্তরাঞ্চলের পাহাড়পুরে। এই নাটকের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে, বিশ্বের কত বড় সম্পদ ধারণ করে আছে এই মাটি। এই সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব বর্তায় ঐ এলাকার মানুষেরই ওপর। 

এমনি আরেকটি প্রত্ন নাটক ‘পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি মূলত চট্টগ্রামের আনোয়ারাই হতে যাওয়া আর্ন্তজাতিক পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় ও অত্র এলাকার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে। উল্লেখ্য যে, বাংলার পাল রাজাদের চারশত বছরের রাজত্বকালে ভারত-বাংলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সাহিত্য-দর্শন ও শিল্প-ভাস্কর্যের অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়। পাল বংশের স্বর্ণযুগ স্রষ্টা দ্বিতীয় ধর্মপাল (৭৭০-৮১০) খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে তাঁর সমগ্র সাম্রাজ্যে যে ৫০টি সংঘরাম প্রতিষ্ঠা করেন। তন্মধ্যে অন্যতম এই পন্ডিত বিহার। এটা ছিল নালন্দা, সোমপুর, তক্ষশীলা প্রভৃতি মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমপর্যায়ের। তিব্বতের বিশ্ব বিশ্রুত ঐতিহাসিক লামা তারানাথের (১৬০৮ খ্রি.) ‘হিস্ট্রি অব বুড্ডিজম’ গ্রন্থে এই বিহার চট্টগ্রামে অবস্থিত ও সম্রাট ধর্মপালের অন্যতম মহৎর্কীতি বলে উল্লেখ করেন। 

তিব্বতী সূত্র থেকে জানা যায় প্রাচীনকালে বৌদ্ধ শাস্ত্র অধ্যয়ন, রচনা, অনুবাদ ও চর্চা করা হতো এসব বিহারে। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সপ্তক শতকে পুন্ড্রবর্ধনে বিশটি বিহার, সমতটে ত্রিশটি, তাম্রলিপিতে দশটি, কজঙ্গলে ছয়-সাতটি এবং কর্ণসুবর্ণে দশটি বিহার দেখতে পান। প্রখ্যাত বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে ছিলো মগধ বা দক্ষিণ বিহারস্থিত নালন্দা, বিক্রমশীলা এবং তদন্তপুরা। সেই সময় পূর্ববঙ্গের আরো কয়েকটি বিহার বর্তমান ছিল। তাদের মধ্যে ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরী বিহার, কুমিল্লার সন্নিকটে পট্টিকের কনকস্তুপ বিহার ও চট্টগ্রামের পন্ডিত বিহার উল্লেখযোগ্য (কর্ণফুলী বহমান- সম্পাদক, সরোজ রঞ্জন চৌং, কলি- ২০০৪, পৃ-৩১)। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত পাল, চন্দ্র, দেব, আরাকানি প্রভৃতি বৌদ্ধ রাজন্যবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় এই পন্ডিত বিহার সগৌরবে তার অস্তিত বজায় রেখেছিল। 

বর্তমান পটিয়া থানার অন্তর্গত বড় উঠান ছিল এককালে বৌদ্ধ রাজা কান্তিদেবের রাজধানী। বড় উঠান এলাকায় দেয়াং পাহাড়ের একটি অংশের নাম বিশ্বমুড়া। এখানে আরকান রাজ বিক্রম রাজার বাড়ি ছিল। তার নামানুসারে দেয়াং পাহাড়ের একটি অংশের নামকরণ করা হয় বিশ্বমুড়া। এখানে খনন কাজ করলে এখনো পাকা ইটের দেয়াল ও ছোট আকারের বুদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ডিসটিক গেজেটিয়া ১৯৭৫ অনুসারে দেয়াং পাহাড়েই ছিল সেই বিশ্ব বিখ্যাত পন্ডিত বিহার। এই বিহারের প্রথম উপাচার্য ছিলেন চট্টগ্রামের চক্রশালা গ্রামের কৃতি সন্তান মহাপন্ডিত প্রজ্ঞাভদ্র। যার শিষ্য ছিলেন আরেক মহাপন্ডিত অতীশ দীপংকর। যাকে গৌতমবুদ্ধের পর সম্মান করে চীনের মানুষ। 

দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণি, চুরাশি সিদ্দাচার্যগণ এই বিদ্যাপীঠে বসে চর্যাগীতি বা চর্যাপদ রচান করেন। এ চর্যাপদ বা চর্যাগীতি থেকে পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার গোড়াপত্তন হয়। কাল প্রবাহে হারিয়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে নেয়া এই উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার অন্যতম কারণ বরাদ্দকৃত ভূমিতে সরকারের আরেকটি মন্ত্রনালয় কর্তৃক গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নদী গর্ভে নির্মিতব্য প্রস্তাবিত টানেল নদীর ঐ পাড়ে বরাদ্দকৃত স্থানে দিয়ে উঠতে পারে বলে শুনা যাচ্ছে। অর্থাৎ সরকারের আন্তঃমন্ত্রনালয় সমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে একটি মহতী কাজটি এখনো ফাইল বন্দী হয়ে আছে। 

 [লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


অভিযাত্রামূলক নির্বান ও প্রত্ন নাটক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‘কাব্যেষু নাটকং রম্যম’

সংস্কৃত আলঙ্কারিকগন নাট্য সাহিত্যে কাব্য সাহিত্যের স্থান দিয়েছেন। তাদের মতে নাটক মূলত দু’প্রকার। দৃশ্য কাব্য ও শ্রব্য কাব্য। নাটক মূলত শ্রব্য কাব্য। এটি দৃশ্য ও শ্রব্য কাব্যের সমন্বয়ে রঙমঞ্চে গতিমানব জীবনের প্রতিচ্ছবি আমাদের সম্মুখে মুর্ত্ত করে তোলে। ঔপনিবেশীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিস্তারে বাংলার অধিকাংশ মানুষের মনে একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে বাংলা নাটকের জন্ম অষ্টাদশ শতক। কিন্ত খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দে রচিত চর্যাপদের একটি চর্য্যায় বুদ্ধ নাটকের উল্লেখ পাই। 

‘নাচন্তি বাজিল গায়ন্তি দেবী/বুদ্ধ নাটক বিসমা হোহৗ’ 

তাহলে বুদ্ধ নাটক সম্পর্কে আমরা ধারনা পাই বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নির্দশন চ্যারা থেকে। এই পদটি বাংলা নাটকের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের ইতিহাস। পুরনো এই ইতিহাস ও সভ্যতার অনেক কিচু হারিয়ে গেছে কালের প্রবাহে। মাটি চাপা পড়েছে সভ্যতা। এই সভ্যতাই আমাদের শেকড়। এই শেকড় রক্ষাই নতুন ধারায় উপস্থাপন করা শুরু হয়েছে। এই ঐহিত্য সম্পদ রক্ষায় জনসচেতনা সৃষ্টিতে এই প্রথম বাঙ্গালীর সংস্কৃতির পথে বানানো হচ্ছে প্রত্ননাটক। 

বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যের যে প্রাচুর্যময় ভাণ্ডার রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল আমাদের প্রত্ন প্রত্নতান্ত্রিক নির্দশন। এসব নির্দশন সংরক্ষনের জন্য বিভিন্ন প্রত্ন নাটক রচিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও উয়ারী বটেশ্বর স্থাপনা নিয়ে দুটি প্রত্ন নাটক রচিত ও প্রদর্শিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রত্ন এলাকার ইতিহাস নিয়ে এমন প্রত্ন নাটক তৈরী হবে। এই নাটকের বৈশিষ্ট্যহল প্রত্ন সম্পদ এলাকার মানুষের অভিনয়েই তা প্রদর্শিত হবে। এ জন্য কোন মঞ্চ নয়, প্রত্ন সাইটই মঞ্চ। এভাবেই দেশের প্রথম প্রত্ন নাটক ‘সোমপুর কথন’ প্রদর্শিত হয় উত্তরাঞ্চলের পাহাড়পুরে। এই নাটকের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে, বিশ্বের কত বড় সম্পদ ধারণ করে আছে এই মাটি। এই সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব বর্তায় ঐ এলাকার মানুষেরই ওপর। 

এমনি আরেকটি প্রত্ন নাটক ‘পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়’। এটি মূলত চট্টগ্রামের আনোয়ারাই হতে যাওয়া আর্ন্তজাতিক পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় ও অত্র এলাকার ইতিহাসকে কেন্দ্র করে। উল্লেখ্য যে, বাংলার পাল রাজাদের চারশত বছরের রাজত্বকালে ভারত-বাংলায় জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সাহিত্য-দর্শন ও শিল্প-ভাস্কর্যের অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়। পাল বংশের স্বর্ণযুগ স্রষ্টা দ্বিতীয় ধর্মপাল (৭৭০-৮১০) খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে তাঁর সমগ্র সাম্রাজ্যে যে ৫০টি সংঘরাম প্রতিষ্ঠা করেন। তন্মধ্যে অন্যতম এই পন্ডিত বিহার। এটা ছিল নালন্দা, সোমপুর, তক্ষশীলা প্রভৃতি মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমপর্যায়ের। তিব্বতের বিশ্ব বিশ্রুত ঐতিহাসিক লামা তারানাথের (১৬০৮ খ্রি.) ‘হিস্ট্রি অব বুড্ডিজম’ গ্রন্থে এই বিহার চট্টগ্রামে অবস্থিত ও সম্রাট ধর্মপালের অন্যতম মহৎর্কীতি বলে উল্লেখ করেন। 

তিব্বতী সূত্র থেকে জানা যায় প্রাচীনকালে বৌদ্ধ শাস্ত্র অধ্যয়ন, রচনা, অনুবাদ ও চর্চা করা হতো এসব বিহারে। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সপ্তক শতকে পুন্ড্রবর্ধনে বিশটি বিহার, সমতটে ত্রিশটি, তাম্রলিপিতে দশটি, কজঙ্গলে ছয়-সাতটি এবং কর্ণসুবর্ণে দশটি বিহার দেখতে পান। প্রখ্যাত বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে ছিলো মগধ বা দক্ষিণ বিহারস্থিত নালন্দা, বিক্রমশীলা এবং তদন্তপুরা। সেই সময় পূর্ববঙ্গের আরো কয়েকটি বিহার বর্তমান ছিল। তাদের মধ্যে ঢাকার অদূরে বিক্রমপুরী বিহার, কুমিল্লার সন্নিকটে পট্টিকের কনকস্তুপ বিহার ও চট্টগ্রামের পন্ডিত বিহার উল্লেখযোগ্য (কর্ণফুলী বহমান- সম্পাদক, সরোজ রঞ্জন চৌং, কলি- ২০০৪, পৃ-৩১)। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত পাল, চন্দ্র, দেব, আরাকানি প্রভৃতি বৌদ্ধ রাজন্যবর্গের পৃষ্ঠপোষকতায় এই পন্ডিত বিহার সগৌরবে তার অস্তিত বজায় রেখেছিল। 

বর্তমান পটিয়া থানার অন্তর্গত বড় উঠান ছিল এককালে বৌদ্ধ রাজা কান্তিদেবের রাজধানী। বড় উঠান এলাকায় দেয়াং পাহাড়ের একটি অংশের নাম বিশ্বমুড়া। এখানে আরকান রাজ বিক্রম রাজার বাড়ি ছিল। তার নামানুসারে দেয়াং পাহাড়ের একটি অংশের নামকরণ করা হয় বিশ্বমুড়া। এখানে খনন কাজ করলে এখনো পাকা ইটের দেয়াল ও ছোট আকারের বুদ্ধমূর্তি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ডিসটিক গেজেটিয়া ১৯৭৫ অনুসারে দেয়াং পাহাড়েই ছিল সেই বিশ্ব বিখ্যাত পন্ডিত বিহার। এই বিহারের প্রথম উপাচার্য ছিলেন চট্টগ্রামের চক্রশালা গ্রামের কৃতি সন্তান মহাপন্ডিত প্রজ্ঞাভদ্র। যার শিষ্য ছিলেন আরেক মহাপন্ডিত অতীশ দীপংকর। যাকে গৌতমবুদ্ধের পর সম্মান করে চীনের মানুষ। 

দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণি, চুরাশি সিদ্দাচার্যগণ এই বিদ্যাপীঠে বসে চর্যাগীতি বা চর্যাপদ রচান করেন। এ চর্যাপদ বা চর্যাগীতি থেকে পরবর্তীকালে বাংলা ভাষার গোড়াপত্তন হয়। কাল প্রবাহে হারিয়ে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে নেয়া এই উদ্যোগটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার অন্যতম কারণ বরাদ্দকৃত ভূমিতে সরকারের আরেকটি মন্ত্রনালয় কর্তৃক গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নদী গর্ভে নির্মিতব্য প্রস্তাবিত টানেল নদীর ঐ পাড়ে বরাদ্দকৃত স্থানে দিয়ে উঠতে পারে বলে শুনা যাচ্ছে। অর্থাৎ সরকারের আন্তঃমন্ত্রনালয় সমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে একটি মহতী কাজটি এখনো ফাইল বন্দী হয়ে আছে। 

 [লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত