সংবাদ

চেনা কথা, জানা ইতিহাস


আনোয়ারুল হক
আনোয়ারুল হক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

চেনা কথা, জানা ইতিহাস
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সমাধি সৌধ

মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘জুলাই মাস্টার মাইন্ড’ মাহফুজ আলমের একটি সাক্ষাৎকার ইউটিউবে শুনছিলাম। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দীন সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। সেখানে মাহফুজ আলম বললেন, ‘শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার ‘আনকন্ট্রোভারশিয়াল’ নেতা এবং তার নেতৃত্বেই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পরেও তিনি ‘আনকন্ট্রোভারশিয়াল’ ছিলেন। ’৭২-এর সংবিধান রচনা ও কার্যকর করার পরে মুজিব বিতর্কিত হন। ‘তর্কের খাতিরে মাহফুজ আলমের বক্তব্য যদি মেনেও নেই, তারপরও তারই ভাষায় ‘সংবিধান নিয়ে বিতর্কিত’ কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত এবং অবিতর্কিত নেতাকে স্বপরিবারে পাশবিক নৃশংসতায় নিহত করার দিনটিকে তারা ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে পাল্টে দিয়ে মুজিব হত্যাকারীদের পক্ষেই প্রকারান্তরে অবস্থান নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনে রেখে, বঙ্গভবন থেকে মুজিবের ছবি মাহফুজ আলম যেভাবে নিজ উদ্যোগে খুলে ফেলে দিলেন তখনই বুঝা গেলো যত আক্রোশ তা স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতার প্রতি।

এতদিন মুজিব স্মৃতি বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে এখন আবার সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি’। অথচ স্থপতির সকল স্মৃতি চিহ্ন তারা গুড়িয়ে দিলেন! তাদের সরকারের ছত্রছায়ায় দুই দিন ধরে মব বাহিনী ৩২নং এর বাড়িটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলো । তারা চেয়ে চেয়ে দেখলেন। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মব বাহিনীকে পুরাটা সময় নিরাপত্তা দিয়ে রাখলেন। সে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলেও মনে হয় না। এখনো যে কেউ ব‍্যক্তিগতভাবেও মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৩২নং এর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িটির সামনে গেলে প্রথমে হেনস্থা এবং তারপরে গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

ইউনূস, মাহফুজ আলম, আসিফ নজরুলরা কি বললেন বা কি করলেন বা বর্তমান সরকারও কি ভূমিকা নিল, তাতে তো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন করে রচিত হবে না। ‘ভায়েরা আমার’ বলে সেই যে সম্বোধন; আর সেই ডাক ‘এ বারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এ বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাংলাদেশের কেউ কি কোনদিন ভুলতে পারবে? ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা কিছু আছে, তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা কিছু আছে আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ এতো সহজ ভাষায় স্বাধীনতার ডাক, সংগ্রামের বার্তা এর আগে বাংলাদেশ কি কখনো শুনেছে ?

এই ডাকেই তো বিরাট ওলট পালট। কৃত্রিম এক দেশ ভেঙে বেরিয়ে আসলো নতুন দেশ, নতুন জাতি, নতুন নাম, নতুন নাগরিক। বদলে গেলো এশিয়ার মানচিত্র। তবে তার সমালোচনার জায়গাও ছিল। স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসন প্রবর্তন মুজিবের বিরাট ভুল ছিলো। তারই ছায়াসংগী, তার বন্দীদশা অবস্থায় যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামকে অগ্রসর করে নিয়েছিলেন সেই তাজউদ্দিনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে তিনি মারাত্মক ভুল করেছেন। রক্ষী বাহিনীর দৌরাত্ম্য, লাল বাহিনীর স্বেচ্ছাচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। দলের নেতাদের ‘ফুটানি’ বন্ধ করতে পারেননি। ফুটানি মারতে যেয়ে একদল ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, আরেকদল সেটা না করতে পেরে ‘ক্যাপস্টেনের প্যাকেটেই স্টার সিগারেট ঢুকিয়ে’ জনসমক্ষে ঠিকই ফুটানি মেরেছেন।

আর এসবের সুযোগ নিয়ে, নতুন দেশ ও নতুন জাতি গঠনের বিরোধী শক্তি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের কালরাতে সংঘটিত করে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতাকে স্বপরিবারে হত্যা করে তারা বদলা নিলো। বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন মুজিবের দুই কন্যা, হাসিনা এবং রেহানা। এ হত্যাকাণ্ডের অর্ধ শতাব্দী পরেও তাদের জিঘাংসা মেটেনি। এই তো গত বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বললেন, ‘যিনি খারাপ কাজ করবেন তা ফের তার ওপরই আসবে। শেখ মুজিবুর রহমান এই অবিভক্ত পাকিস্তানকে দুই ভাগ করেছিলেন। যিনি পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি অবশেষে তার করুণ পরিণতি ভোগ করেছেন।’ এমনকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম ‘দা ক্যাচ লাইন’ পত্রিকা ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরে এক নিবন্ধে লিখেছে ‘৫৪ বছর পর হিসাব নিকাশের সময় এসেছে। পূর্ব পাকিস্তানকে ফিরে আসতে হবে’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী পাকিস্তানের এ সব বক্তব্যের প্রতিবাদ না করে আমরা একতরফা মহব্বতের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি।

তবে পাকিস্তানের বা তাদের এদেশীয় দোসরদের এসব উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ৩২নং এর ঐতিহাসিক বাড়িটিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা ও ভাস্কর্য ভাঙার মানে হচ্ছে, শেখ মুজিব আজও আমাদের সঙ্গে এই বাংলাদেশেই আছেন। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কেননা তিনিই আমাদের স্বাধীনতার নেতা। স্বাধীনতা সংগ্রামে আরো অনেকের অবদান আছে। সৈয়দ নজরুল-তাজউদ্দীন, ভাসানী-মোজাফফর, মনি সিংহ-ফরহাদ, ওসমানী-জিয়া-খালেদ মোশারফ এমনি আরো অনেক চরিত্র আছে। আন্তর্জাতিক ভাবেও অনেক চরিত্র আছে। যেমন ইন্দিরা গান্ধী, পোদগর্নি যাদের সহায়তা ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন আরো কঠিন হত। কিন্তু এ সবই পার্শ্ব চরিত্র। প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্র শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর গগনচুম্বি ও সর্বপ্লাবী ভূমিকাই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল স্বাধীনতার মরনপন লড়াইয়ে। 

১৯৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা বঙ্গবন্ধুকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চাওয়া যেমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত তেমনি ‘বঙ্গবন্ধু’ বিষয়টি শুধু নির্দিষ্ট একটি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা, পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুযোগে গোটা দেশকে মুজিবময় করে তোলার প্রয়াসের মাধ্যমেও মুজিবের বিশালতাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে কোনো দলের প্রতি আনুগত্য নয় বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ। শেষ বিচারে বাংলাদেশের জনগণের লড়াই-ই মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মূল শক্তি। জনগণই ইতিহাসের স্রষ্টা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেই জনগণের মাঝেই চিরঞ্জীব থাকবেন। সেই জনগনকে ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’! শোকের ১৫ আগস্টে তার স্মৃতির প্রতি রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।

(লেখকের নিজস্ব মত )

[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


চেনা কথা, জানা ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘জুলাই মাস্টার মাইন্ড’ মাহফুজ আলমের একটি সাক্ষাৎকার ইউটিউবে শুনছিলাম। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দীন সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। সেখানে মাহফুজ আলম বললেন, ‘শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার ‘আনকন্ট্রোভারশিয়াল’ নেতা এবং তার নেতৃত্বেই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পরেও তিনি ‘আনকন্ট্রোভারশিয়াল’ ছিলেন। ’৭২-এর সংবিধান রচনা ও কার্যকর করার পরে মুজিব বিতর্কিত হন। ‘তর্কের খাতিরে মাহফুজ আলমের বক্তব্য যদি মেনেও নেই, তারপরও তারই ভাষায় ‘সংবিধান নিয়ে বিতর্কিত’ কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত এবং অবিতর্কিত নেতাকে স্বপরিবারে পাশবিক নৃশংসতায় নিহত করার দিনটিকে তারা ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় শোক দিবস হিসাবে পালনের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে পাল্টে দিয়ে মুজিব হত্যাকারীদের পক্ষেই প্রকারান্তরে অবস্থান নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনীত রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনে রেখে, বঙ্গভবন থেকে মুজিবের ছবি মাহফুজ আলম যেভাবে নিজ উদ্যোগে খুলে ফেলে দিলেন তখনই বুঝা গেলো যত আক্রোশ তা স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতার প্রতি।

এতদিন মুজিব স্মৃতি বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে এখন আবার সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি’। অথচ স্থপতির সকল স্মৃতি চিহ্ন তারা গুড়িয়ে দিলেন! তাদের সরকারের ছত্রছায়ায় দুই দিন ধরে মব বাহিনী ৩২নং এর বাড়িটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলো । তারা চেয়ে চেয়ে দেখলেন। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মব বাহিনীকে পুরাটা সময় নিরাপত্তা দিয়ে রাখলেন। সে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলেও মনে হয় না। এখনো যে কেউ ব‍্যক্তিগতভাবেও মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৩২নং এর ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িটির সামনে গেলে প্রথমে হেনস্থা এবং তারপরে গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

ইউনূস, মাহফুজ আলম, আসিফ নজরুলরা কি বললেন বা কি করলেন বা বর্তমান সরকারও কি ভূমিকা নিল, তাতে তো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন করে রচিত হবে না। ‘ভায়েরা আমার’ বলে সেই যে সম্বোধন; আর সেই ডাক ‘এ বারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এ বারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাংলাদেশের কেউ কি কোনদিন ভুলতে পারবে? ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যা কিছু আছে, তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা কিছু আছে আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ এতো সহজ ভাষায় স্বাধীনতার ডাক, সংগ্রামের বার্তা এর আগে বাংলাদেশ কি কখনো শুনেছে ?

এই ডাকেই তো বিরাট ওলট পালট। কৃত্রিম এক দেশ ভেঙে বেরিয়ে আসলো নতুন দেশ, নতুন জাতি, নতুন নাম, নতুন নাগরিক। বদলে গেলো এশিয়ার মানচিত্র। তবে তার সমালোচনার জায়গাও ছিল। স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসন প্রবর্তন মুজিবের বিরাট ভুল ছিলো। তারই ছায়াসংগী, তার বন্দীদশা অবস্থায় যিনি স্বাধীনতা সংগ্রামকে অগ্রসর করে নিয়েছিলেন সেই তাজউদ্দিনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে তিনি মারাত্মক ভুল করেছেন। রক্ষী বাহিনীর দৌরাত্ম্য, লাল বাহিনীর স্বেচ্ছাচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। দলের নেতাদের ‘ফুটানি’ বন্ধ করতে পারেননি। ফুটানি মারতে যেয়ে একদল ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, আরেকদল সেটা না করতে পেরে ‘ক্যাপস্টেনের প্যাকেটেই স্টার সিগারেট ঢুকিয়ে’ জনসমক্ষে ঠিকই ফুটানি মেরেছেন।

আর এসবের সুযোগ নিয়ে, নতুন দেশ ও নতুন জাতি গঠনের বিরোধী শক্তি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের কালরাতে সংঘটিত করে ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতাকে স্বপরিবারে হত্যা করে তারা বদলা নিলো। বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন মুজিবের দুই কন্যা, হাসিনা এবং রেহানা। এ হত্যাকাণ্ডের অর্ধ শতাব্দী পরেও তাদের জিঘাংসা মেটেনি। এই তো গত বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বললেন, ‘যিনি খারাপ কাজ করবেন তা ফের তার ওপরই আসবে। শেখ মুজিবুর রহমান এই অবিভক্ত পাকিস্তানকে দুই ভাগ করেছিলেন। যিনি পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি অবশেষে তার করুণ পরিণতি ভোগ করেছেন।’ এমনকি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম ‘দা ক্যাচ লাইন’ পত্রিকা ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরে এক নিবন্ধে লিখেছে ‘৫৪ বছর পর হিসাব নিকাশের সময় এসেছে। পূর্ব পাকিস্তানকে ফিরে আসতে হবে’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী পাকিস্তানের এ সব বক্তব্যের প্রতিবাদ না করে আমরা একতরফা মহব্বতের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি।

তবে পাকিস্তানের বা তাদের এদেশীয় দোসরদের এসব উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ৩২নং এর ঐতিহাসিক বাড়িটিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা ও ভাস্কর্য ভাঙার মানে হচ্ছে, শেখ মুজিব আজও আমাদের সঙ্গে এই বাংলাদেশেই আছেন। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কেননা তিনিই আমাদের স্বাধীনতার নেতা। স্বাধীনতা সংগ্রামে আরো অনেকের অবদান আছে। সৈয়দ নজরুল-তাজউদ্দীন, ভাসানী-মোজাফফর, মনি সিংহ-ফরহাদ, ওসমানী-জিয়া-খালেদ মোশারফ এমনি আরো অনেক চরিত্র আছে। আন্তর্জাতিক ভাবেও অনেক চরিত্র আছে। যেমন ইন্দিরা গান্ধী, পোদগর্নি যাদের সহায়তা ছাড়া স্বাধীনতা অর্জন আরো কঠিন হত। কিন্তু এ সবই পার্শ্ব চরিত্র। প্রধান ও কেন্দ্রীয় চরিত্র শেখ মুজিবর রহমান। তাঁর গগনচুম্বি ও সর্বপ্লাবী ভূমিকাই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল স্বাধীনতার মরনপন লড়াইয়ে। 

১৯৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা বঙ্গবন্ধুকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চাওয়া যেমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত তেমনি ‘বঙ্গবন্ধু’ বিষয়টি শুধু নির্দিষ্ট একটি দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা, পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুযোগে গোটা দেশকে মুজিবময় করে তোলার প্রয়াসের মাধ্যমেও মুজিবের বিশালতাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে কোনো দলের প্রতি আনুগত্য নয় বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ। শেষ বিচারে বাংলাদেশের জনগণের লড়াই-ই মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মূল শক্তি। জনগণই ইতিহাসের স্রষ্টা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেই জনগণের মাঝেই চিরঞ্জীব থাকবেন। সেই জনগনকে ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’! শোকের ১৫ আগস্টে তার স্মৃতির প্রতি রইলো শ্রদ্ধাঞ্জলি।

(লেখকের নিজস্ব মত )

[লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত