যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে দেশটির আলোচনার টেবিলে ফেরার বিষয়ে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো টাইম শিডিউল বা সময়সূচি নেই। আমি কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই।’
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠান শেষে আল জাজিরার প্রতিনিধি তানিয়া নুরিকে ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে আলোচনার জন্য তিনি কতটুকু সময় দিচ্ছেন, তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে ‘বড় জয়’ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানে বর্তমানে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি চলছে, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং তারা নিজ দেশের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আমি সময় নিয়ে ভাবছি না; যা প্রয়োজন তা-ই করা হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে পা দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এটি মাত্র চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু তার সেই দাবির প্রতিফলন ঘটেনি। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও চলতি মাসের শুরুতে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আওতায় ইরানের ৬০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ এবং ‘সিস্টেমেটিক বুলিং’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। বর্তমানে খোলা বাজারে ১ ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এত চাপের পরও ইরান নতি স্বীকার করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই যায় চীনে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। এ বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমি এখনই বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে চাই না।’
কোয়েন্সি ইনস্টিটিউটের প্রধান ত্রিতা পারসি বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানি জনগণের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে, কিন্তু এর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো বা নীতি পরিবর্তন করানো সহজ হবে না।
/

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে দেশটির আলোচনার টেবিলে ফেরার বিষয়ে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বুধবার (২৬ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো টাইম শিডিউল বা সময়সূচি নেই। আমি কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই।’
হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠান শেষে আল জাজিরার প্রতিনিধি তানিয়া নুরিকে ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে আলোচনার জন্য তিনি কতটুকু সময় দিচ্ছেন, তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে ‘বড় জয়’ পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানে বর্তমানে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি চলছে, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং তারা নিজ দেশের জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আমি সময় নিয়ে ভাবছি না; যা প্রয়োজন তা-ই করা হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ ছয় মাসে পা দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এটি মাত্র চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু তার সেই দাবির প্রতিফলন ঘটেনি। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও চলতি মাসের শুরুতে এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আওতায় ইরানের ৬০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ এবং ‘সিস্টেমেটিক বুলিং’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। বর্তমানে খোলা বাজারে ১ ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এত চাপের পরও ইরান নতি স্বীকার করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই যায় চীনে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। এ বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমি এখনই বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে চাই না।’
কোয়েন্সি ইনস্টিটিউটের প্রধান ত্রিতা পারসি বলেন, এসব নিষেধাজ্ঞা ইরানি জনগণের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে, কিন্তু এর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো বা নীতি পরিবর্তন করানো সহজ হবে না।
/

আপনার মতামত লিখুন