সার ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের (এমপি) সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সংকটকালে মানুষ যাতে সরকারকে ভুল না বোঝে, সে জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক কারণ ও বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন।
সভায় কৃষিমন্ত্রীর পরিবর্তে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সরবরাহ ও বিতরণে বিঘ্ন ঘটাতে ‘সাবোটাজ’ বা অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে নতুন কমিটি গঠনের কথা জানান তিনি। এ ছাড়া যেসব ইউনিয়নে ডিলাররা পলাতক, সেখানে দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) সভায় জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া নড়বড়ে অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করেন, তারা যেন বিদ্যুৎ ও সারের প্রকৃত অবস্থা নিজ নিজ এলাকার মানুষকে বুঝিয়ে বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দেশে চলমান ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মব কালচারে বিএনপির কিছু লোকজনের সম্পৃক্ততাও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিরোধীরা সরকারবিরোধী ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।’ এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনকারী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নাম দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করতে হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে ‘সৎ ও যোগ্য’ দল-সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকটের প্রকৃত কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে এবং দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ রাখা যাবে না, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় বিএনপির প্রায় সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারের শুরুর দিকে জনমনে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, সে জন্যই এই জরুরি ব্রিফিং ও নির্দেশনার আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
সার ও বিদ্যুৎ সংকট এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের (এমপি) সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সংকটকালে মানুষ যাতে সরকারকে ভুল না বোঝে, সে জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক কারণ ও বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের ব্রিফ করেন।
সভায় কৃষিমন্ত্রীর পরিবর্তে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সরবরাহ ও বিতরণে বিঘ্ন ঘটাতে ‘সাবোটাজ’ বা অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে নতুন কমিটি গঠনের কথা জানান তিনি। এ ছাড়া যেসব ইউনিয়নে ডিলাররা পলাতক, সেখানে দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত) সভায় জানান, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া নড়বড়ে অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করেন, তারা যেন বিদ্যুৎ ও সারের প্রকৃত অবস্থা নিজ নিজ এলাকার মানুষকে বুঝিয়ে বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দেশে চলমান ‘মব কালচার’ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মব কালচারে বিএনপির কিছু লোকজনের সম্পৃক্ততাও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিরোধীরা সরকারবিরোধী ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।’ এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে, অপরাধী যে দলেরই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সভায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনকারী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নাম দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করতে হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদে ‘সৎ ও যোগ্য’ দল-সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকটের প্রকৃত কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে এবং দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ রাখা যাবে না, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সভায় বিএনপির প্রায় সব সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারের শুরুর দিকে জনমনে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, সে জন্যই এই জরুরি ব্রিফিং ও নির্দেশনার আয়োজন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন