হেঁ হেঁ হেঁ, ছিনতাই নি মিউচিয়ালি, মাইনে বলি কোই কেউ কাউরে নি ছিনতাই করের! আন্নে মিয়া বাহাত্তোইরা বুইড়া যা মনে আসে তাই কন! হেঁ হেঁ হেঁ, মিউচিয়ালি ছিনতাই!
ওই ব্যাটা বুড়বক, পানিওয়ালির পোলা, পৃথিবীতে মিউচিয়ালি ছিনতাই যে কত প্রকার ও কি কি তা তুই জানিস?
এইডা কী কন, মিউচিয়ালি ছিনতাই! মিলিমিশি বোই বোই ছিনতাই! ধ্যাৎ তা হয় নাকি?
হয় নাকি? মানে কিরে আজকাল তো ঘরে ঘরে মিলেমিশে ছিনতাই চলছে, চলবে।
হ হ বুঝছি, বুজঝি, এই যেমুন মনে করেন কনট্রাকটার আর ইক্সিএন টিটিএনওও হ্যাতারা ব্যাবাগতে মিলিমিশি প্রজেক্টের ট্যাকা ছিনতাই করের! হ এইটারে আপনে মিউচিয়ালি ছিনতাই কোইলেও কোইতে পারেন। যেমন বালিশ পাঁচ হাজার টাক! ছাগল বার লক্ষ টাকা... “এইটারে আপনে মিউচিয়ালি ছিনতাই কোইলেও কোইতে পারেন?
তুই দেখিস না বীমা কোম্পানিগুলোতে বড় বড় ব্যবসায়ীরা মিউচুয়ালি দুই নাম্বার পণ্য বোঝাই জাহাজ ডুবিয়ে কোটি কোটি টাকার বিমার প্রিয়াম ভাগবাঁটোয়ারা করে!
হ হ হুনছি হুনছি বিমা কোম্পানিগুলা বিমার প্রিয়ামের ট্যাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার লাই হ্যাতারা বেওয়ারিশ লাশ মেডিকেলের ডোম থ্যেইক্কা কিন্না কোটি কোটি ট্যাকার মাল কামায়!
আরে ব্যাটা এগুলোতো সরাসরি ডাকাতি, আমি বলছিলাম মিউচিয়ালি ছিনতাই’এর কথা। মানে ছোট খাটো চামে চামে যারা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
চামে চামে অনৈতিক কাজ, হেইডা আবার কিরে বাপ।
এই যেমন মনে কর তুই স্কুলে বাচ্চা আনতে গেলি, বাচ্চার স্কুল ছুটি হতে এ্যাখনো তিন ঘণ্টা বাকি, তখন মাটি বা খালাটি কি করবেন, তখন স্কুলের কাছের স্বামী বা দুলাভায়ের বাসায় যেয়ে টিভি ইন্টারনেট এইসব দেখে সময়টা পার করে বাচ্চা বা বইনপুতকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো।
তো ইয়ার মইধ্যে আপনে ছিনতাই দেখলেন কুতায়?
যেই লোক জেগে ঘুমায় তাকেতো আর জাগানো যায় না, যেমন মনে কর এইযে প্রতিদিন তোদের সমাজে চাঁদাবাজী চলছে, কোই তোর লক্ষ লক্ষ হকার ভাই কি এর প্রতিবাদ করে! এইযে প্রতিদিনের লাইনের চাঁদাবাজী চলছে এটা ছিনতাইয়ের চেয়ে কম কি, বল? যে চাঁদা দিচ্ছে আর যে চাঁদা নিচ্ছে দু’জনেই তো মিউচুয়ালি মানে আপোসে ছিনতাই চালাচ্ছে!
তো আপনের পোরশাষণ কি করবো কন? হ্যেরা হোইলো জনগনের, মানে দেশের মালিকের কর্মকর্তা, মালিক যদি নিজেই মিউচিয়ালি ছিনতাই মাইন্না নেয় তয় আমার আপনের কি করনের আছে কন?
কিন্তু তোর কি মনে হয় কোনো মালিক চাইবে তার কর্মচারী তার কাছ থেকে বেতনও নিবে আবার মালিকের কাছ থেকে চান্দাও নিবে, এটা হয় কখনোও!
না না নান না, পীরথীবির কুনো দ্যেশে কর্মচারী বেতনও নিবে আবার মালিকের কাছ থেকে চান্দাও নিবে,এইডা হয় না!
তাহলে সব সম্ভবের দেশ তোর বাংলাদেশে সবই সম্ভব। এই যে রংপুরের একই পরিবারের চার জনকে হত্যা ইয়াবা সেবন দেখে ফ্যেলায় মার্ডার, মার্ডার করছে কে দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলে। এটা কি সম্ভব!! বাড়ীর কর্তা ও গৃহ বধুকে হত্যা করতে গেলে উনারা তো ওই দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলে কি পারবে ওদের সঙ্গে? ধস্তাধস্তি হবে না? দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলের গায়ে কি আঁচড় বা খামচির দাগ থাকবে না? তোর প্রশাষণ বলছে নিহতের চোয়াল ভাঙা আর পোস্টমর্টেম বলছে, চোয়াল-টোয়াল ভাঙেনি, সব ঠিক আছে। আরো মজার ব্যাপার হলো ওই বাড়ীর বিদ্যুতের লাইন রাস্তার মুল খুঁটি থেকে বিছিন্ন করা হয়েছে, যেটা তোর এই দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাহলে এবার তুই বল এইসব কাজ মিউচুয়ালি মানে সবাই মিলেমিশে না করলে কি সম্ভব?
হেঁ হেঁ কি যে কন, মিউচুয়ালি মার্ডার, মানে যারে মার্ডার করবেন হ্যের লগে আলাপ আলোচানার মাধ্যমে মার্ডার! হি হি পিরথীবির কুনো রম্য লেখকও এইরাম ঘটনা চিন্তা করা পারবো না!
কিন্তু বাস্তবেতো ঘটছে ভাই!
স্যার একটা কথা কনতো, এইযে লিখছেন মিউচুয়ালি ছিনতাই ও রিপ্রিন্ট, মিউচুয়ালি ছিনতাই তো বুঝলাম কিন্তু এই রিপ্রিন্ট এইডা কী?
আরে এতো একদম সিম্পেল, রিপ্রিন্টের, আদীবার মা, আকবর স্যারের লেখা উপন্যাসের মতো শাহ্জাদীর কালো নেকাব তুলে বললেন,“ হেঁ হেঁ পাবেন তো মাত্র নয়’শ টাকা, আর এর জন্য কাগজপত্র যোগাড় করতে উকিলের, ফোন বিল, যাতায়াত সবমিলে খরচ হবে মিনিমাম পাঁচ হাজার টাকা।
তাহলে ন’শ টাকার জন্য আপনি কি পাঁচ হাজার টাকা খরচ করবেন? এই কথা শুনে রাসেইল্লা আর চামচ নুরু কয় কী, হি হি বারো হাত কাঁকুড়ের তের হাত বিচি। হি হি হি। ভাই রে ভাই, এ্যাতো প্যাচাইল্লা কারবারে আমারে জড়াইয়েন না স্যার, মিউচিয়াল ছিনতাই, চার মার্ডার, রিপ্রিন্ট, ভাই আপনেগোরে সব বাই বাই, আমি অখন যাই দেশের মালিকের কাছে যাই, দেখি হ্যেরা কি নয়’শ টাকার জইন্য পাঁচ হাজার টাকা খরচ করবো, নাকি চার মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করবো! পারলে প্রতিদিনের লাইনের চন্দাবাজী বন্ধ করবো, হ্যেরা যেইডা করবো হেইডাই আইন...
তাহলে যা তুই তোর দেশের মালিকের কাছে, দ্যাখ জনগণ মানে দেশের মালিক কি চায়...
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
হেঁ হেঁ হেঁ, ছিনতাই নি মিউচিয়ালি, মাইনে বলি কোই কেউ কাউরে নি ছিনতাই করের! আন্নে মিয়া বাহাত্তোইরা বুইড়া যা মনে আসে তাই কন! হেঁ হেঁ হেঁ, মিউচিয়ালি ছিনতাই!
ওই ব্যাটা বুড়বক, পানিওয়ালির পোলা, পৃথিবীতে মিউচিয়ালি ছিনতাই যে কত প্রকার ও কি কি তা তুই জানিস?
এইডা কী কন, মিউচিয়ালি ছিনতাই! মিলিমিশি বোই বোই ছিনতাই! ধ্যাৎ তা হয় নাকি?
হয় নাকি? মানে কিরে আজকাল তো ঘরে ঘরে মিলেমিশে ছিনতাই চলছে, চলবে।
হ হ বুঝছি, বুজঝি, এই যেমুন মনে করেন কনট্রাকটার আর ইক্সিএন টিটিএনওও হ্যাতারা ব্যাবাগতে মিলিমিশি প্রজেক্টের ট্যাকা ছিনতাই করের! হ এইটারে আপনে মিউচিয়ালি ছিনতাই কোইলেও কোইতে পারেন। যেমন বালিশ পাঁচ হাজার টাক! ছাগল বার লক্ষ টাকা... “এইটারে আপনে মিউচিয়ালি ছিনতাই কোইলেও কোইতে পারেন?
তুই দেখিস না বীমা কোম্পানিগুলোতে বড় বড় ব্যবসায়ীরা মিউচুয়ালি দুই নাম্বার পণ্য বোঝাই জাহাজ ডুবিয়ে কোটি কোটি টাকার বিমার প্রিয়াম ভাগবাঁটোয়ারা করে!
হ হ হুনছি হুনছি বিমা কোম্পানিগুলা বিমার প্রিয়ামের ট্যাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার লাই হ্যাতারা বেওয়ারিশ লাশ মেডিকেলের ডোম থ্যেইক্কা কিন্না কোটি কোটি ট্যাকার মাল কামায়!
আরে ব্যাটা এগুলোতো সরাসরি ডাকাতি, আমি বলছিলাম মিউচিয়ালি ছিনতাই’এর কথা। মানে ছোট খাটো চামে চামে যারা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
চামে চামে অনৈতিক কাজ, হেইডা আবার কিরে বাপ।
এই যেমন মনে কর তুই স্কুলে বাচ্চা আনতে গেলি, বাচ্চার স্কুল ছুটি হতে এ্যাখনো তিন ঘণ্টা বাকি, তখন মাটি বা খালাটি কি করবেন, তখন স্কুলের কাছের স্বামী বা দুলাভায়ের বাসায় যেয়ে টিভি ইন্টারনেট এইসব দেখে সময়টা পার করে বাচ্চা বা বইনপুতকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো।
তো ইয়ার মইধ্যে আপনে ছিনতাই দেখলেন কুতায়?
যেই লোক জেগে ঘুমায় তাকেতো আর জাগানো যায় না, যেমন মনে কর এইযে প্রতিদিন তোদের সমাজে চাঁদাবাজী চলছে, কোই তোর লক্ষ লক্ষ হকার ভাই কি এর প্রতিবাদ করে! এইযে প্রতিদিনের লাইনের চাঁদাবাজী চলছে এটা ছিনতাইয়ের চেয়ে কম কি, বল? যে চাঁদা দিচ্ছে আর যে চাঁদা নিচ্ছে দু’জনেই তো মিউচুয়ালি মানে আপোসে ছিনতাই চালাচ্ছে!
তো আপনের পোরশাষণ কি করবো কন? হ্যেরা হোইলো জনগনের, মানে দেশের মালিকের কর্মকর্তা, মালিক যদি নিজেই মিউচিয়ালি ছিনতাই মাইন্না নেয় তয় আমার আপনের কি করনের আছে কন?
কিন্তু তোর কি মনে হয় কোনো মালিক চাইবে তার কর্মচারী তার কাছ থেকে বেতনও নিবে আবার মালিকের কাছ থেকে চান্দাও নিবে, এটা হয় কখনোও!
না না নান না, পীরথীবির কুনো দ্যেশে কর্মচারী বেতনও নিবে আবার মালিকের কাছ থেকে চান্দাও নিবে,এইডা হয় না!
তাহলে সব সম্ভবের দেশ তোর বাংলাদেশে সবই সম্ভব। এই যে রংপুরের একই পরিবারের চার জনকে হত্যা ইয়াবা সেবন দেখে ফ্যেলায় মার্ডার, মার্ডার করছে কে দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলে। এটা কি সম্ভব!! বাড়ীর কর্তা ও গৃহ বধুকে হত্যা করতে গেলে উনারা তো ওই দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলে কি পারবে ওদের সঙ্গে? ধস্তাধস্তি হবে না? দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলের গায়ে কি আঁচড় বা খামচির দাগ থাকবে না? তোর প্রশাষণ বলছে নিহতের চোয়াল ভাঙা আর পোস্টমর্টেম বলছে, চোয়াল-টোয়াল ভাঙেনি, সব ঠিক আছে। আরো মজার ব্যাপার হলো ওই বাড়ীর বিদ্যুতের লাইন রাস্তার মুল খুঁটি থেকে বিছিন্ন করা হয়েছে, যেটা তোর এই দু’জন কিশোর বা পনের ষোল বছরের ছেলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাহলে এবার তুই বল এইসব কাজ মিউচুয়ালি মানে সবাই মিলেমিশে না করলে কি সম্ভব?
হেঁ হেঁ কি যে কন, মিউচুয়ালি মার্ডার, মানে যারে মার্ডার করবেন হ্যের লগে আলাপ আলোচানার মাধ্যমে মার্ডার! হি হি পিরথীবির কুনো রম্য লেখকও এইরাম ঘটনা চিন্তা করা পারবো না!
কিন্তু বাস্তবেতো ঘটছে ভাই!
স্যার একটা কথা কনতো, এইযে লিখছেন মিউচুয়ালি ছিনতাই ও রিপ্রিন্ট, মিউচুয়ালি ছিনতাই তো বুঝলাম কিন্তু এই রিপ্রিন্ট এইডা কী?
আরে এতো একদম সিম্পেল, রিপ্রিন্টের, আদীবার মা, আকবর স্যারের লেখা উপন্যাসের মতো শাহ্জাদীর কালো নেকাব তুলে বললেন,“ হেঁ হেঁ পাবেন তো মাত্র নয়’শ টাকা, আর এর জন্য কাগজপত্র যোগাড় করতে উকিলের, ফোন বিল, যাতায়াত সবমিলে খরচ হবে মিনিমাম পাঁচ হাজার টাকা।
তাহলে ন’শ টাকার জন্য আপনি কি পাঁচ হাজার টাকা খরচ করবেন? এই কথা শুনে রাসেইল্লা আর চামচ নুরু কয় কী, হি হি বারো হাত কাঁকুড়ের তের হাত বিচি। হি হি হি। ভাই রে ভাই, এ্যাতো প্যাচাইল্লা কারবারে আমারে জড়াইয়েন না স্যার, মিউচিয়াল ছিনতাই, চার মার্ডার, রিপ্রিন্ট, ভাই আপনেগোরে সব বাই বাই, আমি অখন যাই দেশের মালিকের কাছে যাই, দেখি হ্যেরা কি নয়’শ টাকার জইন্য পাঁচ হাজার টাকা খরচ করবো, নাকি চার মার্ডারের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করবো! পারলে প্রতিদিনের লাইনের চন্দাবাজী বন্ধ করবো, হ্যেরা যেইডা করবো হেইডাই আইন...
তাহলে যা তুই তোর দেশের মালিকের কাছে, দ্যাখ জনগণ মানে দেশের মালিক কি চায়...
[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন