প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতেই রাজশাহীর পদ্মার চরের কন্যাশিশুদের অনেকের জীবনে শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বই-খাতার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে তাদের বসতে হচ্ছে বিয়ের পিঁড়িতে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অভাব বাল্যবিয়েকে যেন স্বাভাবিক সামাজিক রীতিতে পরিণত করছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বাল্যবিয়ের ক্ষতি বহুমাত্রিক। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে একটি শিশুর শিক্ষা, নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে কিশোরী মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোরী মায়েদের গর্ভাবস্থা ও প্রসবের সময় কিছু জটিলতার ঝুঁকি ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের তুলনায় বেশি।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের মতে, বাল্যবিয়ে মেয়েদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত করতে পারে। ফলে একটি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে শুধু তার বর্তমান জীবনকেই বদলে দেয় না, ভবিষ্যতে তার নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলে।
চরাঞ্চলে সমস্যাটি আরও জটিল হওয়ার কারণ হলো রাষ্ট্রীয় সেবার দুর্বল উপস্থিতি। বাল্যবিয়ের জন্য শুধু অভিভাবককে দায়ী করলে চলবে না। যদি মেয়েকে পড়ানোর জন্য বিদ্যালয় না থাকে, নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকে এবং মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সামাজিক সুরক্ষা না থাকে তাহলে অনেক পরিবারের পক্ষেই করার কিছু থাকে না।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইন অবশ্যই কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তবে শুধু আইন ও প্রচার দিয়ে এই সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে।
চরাঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতে হবে। নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকা চাই। বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে আছে এমন কন্যাশিশুদের জন্য উপবৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে। বাল্যবিয়ে বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সমাজকর্মী ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবকে নিয়ে নিয়মিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতেই রাজশাহীর পদ্মার চরের কন্যাশিশুদের অনেকের জীবনে শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বই-খাতার সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে তাদের বসতে হচ্ছে বিয়ের পিঁড়িতে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অভাব বাল্যবিয়েকে যেন স্বাভাবিক সামাজিক রীতিতে পরিণত করছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বাল্যবিয়ের ক্ষতি বহুমাত্রিক। ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে একটি শিশুর শিক্ষা, নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। অল্প বয়সে গর্ভধারণের কারণে কিশোরী মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোরী মায়েদের গর্ভাবস্থা ও প্রসবের সময় কিছু জটিলতার ঝুঁকি ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের তুলনায় বেশি।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের মতে, বাল্যবিয়ে মেয়েদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত করতে পারে। ফলে একটি মেয়ের অল্প বয়সে বিয়ে শুধু তার বর্তমান জীবনকেই বদলে দেয় না, ভবিষ্যতে তার নিজের ও পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলে।
চরাঞ্চলে সমস্যাটি আরও জটিল হওয়ার কারণ হলো রাষ্ট্রীয় সেবার দুর্বল উপস্থিতি। বাল্যবিয়ের জন্য শুধু অভিভাবককে দায়ী করলে চলবে না। যদি মেয়েকে পড়ানোর জন্য বিদ্যালয় না থাকে, নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকে এবং মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সামাজিক সুরক্ষা না থাকে তাহলে অনেক পরিবারের পক্ষেই করার কিছু থাকে না।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইন অবশ্যই কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তবে শুধু আইন ও প্রচার দিয়ে এই সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে।
চরাঞ্চলের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতে হবে। নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকা চাই। বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে আছে এমন কন্যাশিশুদের জন্য উপবৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে। বাল্যবিয়ে বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সমাজকর্মী ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবকে নিয়ে নিয়মিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন