যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর দিয়ে বয়ে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গবেষণা তহবিলের চাপের মধ্যে এক বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন একাডেমিক অঙ্গন। হার্ভার্ড, ইয়েল ও মআইটির মতো বিশ্বসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে ৪৮ জন শীর্ষ গবেষক দলবেঁধে পাড়ি জমিয়েছেন কানাডায়।
গত বৃহস্পতিবার কানাডার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে
মোট ৬৪ জন নতুন
গবেষক নিয়োগের ঘোষণা দেয়, যার বড়
একটি অংশই মার্কিন প্রতিষ্ঠান
ছেড়ে আসা এই মেধাবী
মুখ।
মূলত
ট্রাম্প প্রশাসনের নানা কড়াকড়ি নীতি,
একাডেমিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়া এবং
গবেষণা তহবিলে টান পড়ার কারণে
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে
তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই
সুযোগটি লুফে নিয়েছে কানাডা
সরকার।
জলবায়ু
পরিবর্তন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার
মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ৫০ কোটি কানাডীয়
ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে
বিশ্বজুড়ে মেধাবী গবেষকদের আকর্ষণ করছে দেশটি।
কানাডার
শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি এই উদ্যোগকে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেধা আকর্ষণ
প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে,
যখন কিছু দেশ বিজ্ঞান
ও গবেষণা থেকে মুখ ফিরিয়ে
নিচ্ছে, তখন তারা বিজ্ঞানে
বিনিয়োগ দ্বিগুণ করছেন। আগামী বছর দ্বিতীয় ধাপে
আরও ৬৩ জন গবেষক
নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
মার্কিন
প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া বিজ্ঞানীদের
অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএনএ থেরাপিউটিকস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ফিলিপ জামোরে মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন।
তিনি
আক্ষেপ করে বলেন, একসময়
আমেরিকাকে বিজ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে উৎসাহী
দেশ মনে হলেও আজ
পরিস্থিতি বদলে গেছে। সত্যের
পক্ষে বিজ্ঞানীদেরই দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য
করেন তিনি।
এছাড়া
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ছেড়ে
যাওয়া পুষ্টিবিজ্ঞানী কেভিন হল অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার
নিয়ে গবেষণায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলে অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
যোগ দিয়েছেন।
মিশিগান
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেথ গুইকেমাও তহবিল
অনিশ্চয়তার কারণে আগামী জানুয়ারিতে অন্টারিওর ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন বলে
নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একাডেমিক স্বাধীনতা ও সুযোগের খোঁজে
গবেষকদের কানাডামুখী হওয়ার এই প্রবণতা দেশটির
শিক্ষাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর দিয়ে বয়ে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গবেষণা তহবিলের চাপের মধ্যে এক বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন একাডেমিক অঙ্গন। হার্ভার্ড, ইয়েল ও মআইটির মতো বিশ্বসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে ৪৮ জন শীর্ষ গবেষক দলবেঁধে পাড়ি জমিয়েছেন কানাডায়।
গত বৃহস্পতিবার কানাডার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে
মোট ৬৪ জন নতুন
গবেষক নিয়োগের ঘোষণা দেয়, যার বড়
একটি অংশই মার্কিন প্রতিষ্ঠান
ছেড়ে আসা এই মেধাবী
মুখ।
মূলত
ট্রাম্প প্রশাসনের নানা কড়াকড়ি নীতি,
একাডেমিক স্বাধীনতা খর্ব হওয়া এবং
গবেষণা তহবিলে টান পড়ার কারণে
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে
তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই
সুযোগটি লুফে নিয়েছে কানাডা
সরকার।
জলবায়ু
পরিবর্তন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার
মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ৫০ কোটি কানাডীয়
ডলারের বেশি বিনিয়োগ করে
বিশ্বজুড়ে মেধাবী গবেষকদের আকর্ষণ করছে দেশটি।
কানাডার
শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি এই উদ্যোগকে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেধা আকর্ষণ
প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে,
যখন কিছু দেশ বিজ্ঞান
ও গবেষণা থেকে মুখ ফিরিয়ে
নিচ্ছে, তখন তারা বিজ্ঞানে
বিনিয়োগ দ্বিগুণ করছেন। আগামী বছর দ্বিতীয় ধাপে
আরও ৬৩ জন গবেষক
নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
মার্কিন
প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া বিজ্ঞানীদের
অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএনএ থেরাপিউটিকস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ফিলিপ জামোরে মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন।
তিনি
আক্ষেপ করে বলেন, একসময়
আমেরিকাকে বিজ্ঞান নিয়ে সবচেয়ে উৎসাহী
দেশ মনে হলেও আজ
পরিস্থিতি বদলে গেছে। সত্যের
পক্ষে বিজ্ঞানীদেরই দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য
করেন তিনি।
এছাড়া
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ছেড়ে
যাওয়া পুষ্টিবিজ্ঞানী কেভিন হল অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার
নিয়ে গবেষণায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলে অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে
যোগ দিয়েছেন।
মিশিগান
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেথ গুইকেমাও তহবিল
অনিশ্চয়তার কারণে আগামী জানুয়ারিতে অন্টারিওর ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন বলে
নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একাডেমিক স্বাধীনতা ও সুযোগের খোঁজে
গবেষকদের কানাডামুখী হওয়ার এই প্রবণতা দেশটির
শিক্ষাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আপনার মতামত লিখুন