বাবাদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল গাড়িগুলো কক্সবাজারে ঘুরতে এনে চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন তরুণ। বৈধ আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় কক্সবাজারের একটি নামকরা পাঁচতারকা হোটেলের পার্কিং থেকে জাপানি ও জার্মান ব্র্যান্ডের তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
শুক্রবার
ওশান প্যারাডাইস হোটেলের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে
সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য
জানান।
গোয়েন্দা
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন
ধরে একটি চক্র ‘ইউজড
কার পার্টস’ বা ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ
আমদানির আড়ালে অভিনব কৌশলে গাড়ি এনে দেশে
সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে আসছিল।
মোংলা বন্দরে আসা কিছু চালানের
সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে
চট্টগ্রামের পর কক্সবাজারের এই
পাঁচতারকা হোটেলের সন্ধান পায় শুল্ক গোয়েন্দারা।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পার্কিংয়ে থাকা গাড়িগুলোর কাছে
গিয়ে মালিক দাবিদার তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
গাড়িগুলোর
সঙ্গে থাকা যুবকরা দাবি
করেন এগুলো তাদের বাবার কাছ থেকে উপহার
হিসেবে পাওয়া এবং এর রেজিস্ট্রেশনের
প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ‘অ্যাপ্লাইড ফর
রেজিস্ট্রেশন’ লেখা বা এ-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র
তারা দেখাতে পারেননি। সারাদিন নানা টালবাহানা ও
সময়ক্ষেপণ করার পর অবশেষে
আইন অনুযায়ী ডিটেনশন মেমো ইস্যু করে
গাড়িগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন গোয়েন্দারা।
প্রাথমিকভাবে
শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা তিন তরুণ
নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন: মোহাম্মদ
হাসিবুর রহমান সিনহা, মোহাম্মদ সাফিয়াত মাহমুদ এবং মোহাম্মদ সারাফাত
রহমান ঈশান। যাদের জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট ও হোটেলের সিসিটিভি
ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে
এই ঘটনার পর সংবাদ সংগ্রহ
করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ওই তরুণরা অশালীন
আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে
তাদের ওপর চড়াও হন।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেজভী আহম্মেদ আরও জানান, জব্দ
করা গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিক কারা এবং এগুলো
কোথায় সংযোজন করা হয়েছে তা
খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক
মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং
এবং মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিষয়গুলোও
তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্ত
শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
বাবাদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল গাড়িগুলো কক্সবাজারে ঘুরতে এনে চরম বিপাকে পড়েছেন দেশের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন তরুণ। বৈধ আমদানি ও ক্রয়সংক্রান্ত কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় কক্সবাজারের একটি নামকরা পাঁচতারকা হোটেলের পার্কিং থেকে জাপানি ও জার্মান ব্র্যান্ডের তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
শুক্রবার
ওশান প্যারাডাইস হোটেলের হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে
সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য
জানান।
গোয়েন্দা
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন
ধরে একটি চক্র ‘ইউজড
কার পার্টস’ বা ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ
আমদানির আড়ালে অভিনব কৌশলে গাড়ি এনে দেশে
সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে আসছিল।
মোংলা বন্দরে আসা কিছু চালানের
সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমে
চট্টগ্রামের পর কক্সবাজারের এই
পাঁচতারকা হোটেলের সন্ধান পায় শুল্ক গোয়েন্দারা।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পার্কিংয়ে থাকা গাড়িগুলোর কাছে
গিয়ে মালিক দাবিদার তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
গাড়িগুলোর
সঙ্গে থাকা যুবকরা দাবি
করেন এগুলো তাদের বাবার কাছ থেকে উপহার
হিসেবে পাওয়া এবং এর রেজিস্ট্রেশনের
প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ‘অ্যাপ্লাইড ফর
রেজিস্ট্রেশন’ লেখা বা এ-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র
তারা দেখাতে পারেননি। সারাদিন নানা টালবাহানা ও
সময়ক্ষেপণ করার পর অবশেষে
আইন অনুযায়ী ডিটেনশন মেমো ইস্যু করে
গাড়িগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন গোয়েন্দারা।
প্রাথমিকভাবে
শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে গাড়িগুলোর সঙ্গে থাকা তিন তরুণ
নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন: মোহাম্মদ
হাসিবুর রহমান সিনহা, মোহাম্মদ সাফিয়াত মাহমুদ এবং মোহাম্মদ সারাফাত
রহমান ঈশান। যাদের জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট ও হোটেলের সিসিটিভি
ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদিকে
এই ঘটনার পর সংবাদ সংগ্রহ
করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ওই তরুণরা অশালীন
আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে
তাদের ওপর চড়াও হন।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা রেজভী আহম্মেদ আরও জানান, জব্দ
করা গাড়িগুলোর প্রকৃত মালিক কারা এবং এগুলো
কোথায় সংযোজন করা হয়েছে তা
খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক
মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, মানি লন্ডারিং
এবং মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিষয়গুলোও
তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্ত
শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন