নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে ধস ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২,৪২৬ জন। যাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা এখন ‘জলাভূমিতে’ পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদীপথে ধেয়ে আসা কাদা, পাথর ও পানির তোড়ে ভেসে গেছে গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। ধ্বংসলীলার এ চিত্র দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও দুর্গমতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে আশার খবরও আছে- একটি নার্সিংহোমের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাগ্নে বলছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে তোলার সময় তাকে ‘যোদ্ধার মতো’ দেখাচ্ছিল।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া যোগাযোগব্যবস্থা ফেরাতে কাজ করছে প্রশাসন। এ পর্যন্ত ১৪৫টি টেলিফোন লাইন মেরামত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন, যারা কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় এসেছিলেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মোট ১২৯ জন বিদেশি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ভারতের ১১৪ জন, চীনের ২৭ জন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ জন রয়েছেন। তবে এখনও ৪২০ জন পর্যটকের খোঁজ মেলেনি।
ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় চীন তাদের উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত করেছে। ওই হ্রদে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পুনরায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিপর্যয় মোকাবিলায় পুনর্বাসনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে নেপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নয়, বরং বিশেষায়িত কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে ধস ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২,৪২৬ জন। যাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা এখন ‘জলাভূমিতে’ পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদীপথে ধেয়ে আসা কাদা, পাথর ও পানির তোড়ে ভেসে গেছে গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। ধ্বংসলীলার এ চিত্র দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
নেপালি কর্মকর্তারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও দুর্গমতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে আশার খবরও আছে- একটি নার্সিংহোমের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তার ভাগ্নে বলছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে তোলার সময় তাকে ‘যোদ্ধার মতো’ দেখাচ্ছিল।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া যোগাযোগব্যবস্থা ফেরাতে কাজ করছে প্রশাসন। এ পর্যন্ত ১৪৫টি টেলিফোন লাইন মেরামত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পর্যটক রয়েছেন, যারা কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় এসেছিলেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মোট ১২৯ জন বিদেশি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ভারতের ১১৪ জন, চীনের ২৭ জন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ জন রয়েছেন। তবে এখনও ৪২০ জন পর্যটকের খোঁজ মেলেনি।
ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদ থেকে পানি উপচে পড়ার আশঙ্কায় চীন তাদের উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত করেছে। ওই হ্রদে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পুনরায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিপর্যয় মোকাবিলায় পুনর্বাসনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে নেপালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধারে বিদেশি সহায়তা নয়, বরং বিশেষায়িত কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন