সংবাদ

পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন ও পেনশনে বড় পরিবর্তন

চলতি সপ্তাহেই চালু হচ্ছে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

চলতি সপ্তাহেই চালু হচ্ছে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

দীর্ঘ ১২ বছর পর জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর চলতি সপ্তাহেই এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কোনো একক প্রজ্ঞাপন নয়, বরং বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কিছু বিষয় এসআরও আকারে জারি করা হবে।
চলতি সপ্তাহেই এসব গেজেট জারি হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এই সপ্তাহেই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে।"
দীর্ঘদিনের ব্যবধান নিয়ে তিনি আরও বলেন, "১২ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি ঘটেনি। ৫ বছর অন্তর যেখানে পে স্কেল চেঞ্জ হয়, সেখানে এটা ১২ বছরে হয়নি। তো তাদের জন্যও এটা খুব কষ্টকর এবং জীবনযাত্রার মানও কমে গেছে অনেক। সেটিকে বিবেচনায় রেখে একটা ব্যালান্স করে, এই উভয় দিকে ব্যালান্স করে যেটুকু করা যায় সেটাই করা হয়েছে।"
​নতুন এই কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিনটি ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতার অংশ যুক্ত হবে।
তিন ধাপের সময়সূচি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "তাহলে হয়তো ৬ মাসের একটা প্রথমের থেকে চলে যাবে, এই জুলাই থেকে ইফেক্টিভভাবে। ৬ মাস পরে যে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে, আর লাস্টে গিয়ে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে।"
নতুন স্কেলে নিম্নের ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যেখানে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত বেড়েছে ১০০ শতাংশ। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে ইচ্ছাকৃতভাবেই নিম্নে বেশি বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:১.৭৮-এ নেমে এসেছে।
​পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম ভাতা পাওয়াসমূহে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন স্ল্যাবে পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সচিব জানান, সরকার ধীরে ধীরে 'ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন' ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা যুক্ত করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ কর্মী ও সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকৃত হবেন, যাতে বছরে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
তবে সচিব জানান, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে এই অর্থের প্রয়োজন একবারে হবে না এবং বাজার ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেতন বাড়ার ফলে বাজারের ওপর পড়তে যাওয়া প্রভাব সামলানোর বিষয়ে তিনি বলেন, "আসেন, দেখা যাক কীভাবে হ্যান্ডেল করে গভমেন্ট। দেখতে পাবেন।"
এছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নতুন পে-স্কেলের প্রভাবে এগুলোর অগ্রগতিও জোরদার হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


চলতি সপ্তাহেই চালু হচ্ছে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ ১২ বছর পর জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর চলতি সপ্তাহেই এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কোনো একক প্রজ্ঞাপন নয়, বরং বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কিছু বিষয় এসআরও আকারে জারি করা হবে।
চলতি সপ্তাহেই এসব গেজেট জারি হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এই সপ্তাহেই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে।"
দীর্ঘদিনের ব্যবধান নিয়ে তিনি আরও বলেন, "১২ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি ঘটেনি। ৫ বছর অন্তর যেখানে পে স্কেল চেঞ্জ হয়, সেখানে এটা ১২ বছরে হয়নি। তো তাদের জন্যও এটা খুব কষ্টকর এবং জীবনযাত্রার মানও কমে গেছে অনেক। সেটিকে বিবেচনায় রেখে একটা ব্যালান্স করে, এই উভয় দিকে ব্যালান্স করে যেটুকু করা যায় সেটাই করা হয়েছে।"
​নতুন এই কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিনটি ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভাতার অংশ যুক্ত হবে।
তিন ধাপের সময়সূচি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "তাহলে হয়তো ৬ মাসের একটা প্রথমের থেকে চলে যাবে, এই জুলাই থেকে ইফেক্টিভভাবে। ৬ মাস পরে যে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে, আর লাস্টে গিয়ে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে।"
নতুন স্কেলে নিম্নের ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যেখানে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত বেড়েছে ১০০ শতাংশ। এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, কম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে ইচ্ছাকৃতভাবেই নিম্নে বেশি বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:১.৭৮-এ নেমে এসেছে।
​পেনশনভোগীদের জন্য মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম ভাতা পাওয়াসমূহে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন স্ল্যাবে পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সচিব জানান, সরকার ধীরে ধীরে 'ওয়ান র‍্যাঙ্ক, ওয়ান পেনশন' ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা যুক্ত করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ কর্মী ও সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপকৃত হবেন, যাতে বছরে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
তবে সচিব জানান, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে এই অর্থের প্রয়োজন একবারে হবে না এবং বাজার ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেতন বাড়ার ফলে বাজারের ওপর পড়তে যাওয়া প্রভাব সামলানোর বিষয়ে তিনি বলেন, "আসেন, দেখা যাক কীভাবে হ্যান্ডেল করে গভমেন্ট। দেখতে পাবেন।"
এছাড়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নতুন পে-স্কেলের প্রভাবে এগুলোর অগ্রগতিও জোরদার হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত