সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এই রায় ঘোষণা করবেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন–সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব। আসামিদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভবন মালিক সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রায় উপলক্ষে আজ তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা ও মা মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন পোশাকশ্রমিক। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন, কাঠামো পরিবর্তন এবং অনিয়ম অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্তে উঠে আসে, ২০০৬ সালে ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে ভবনটির নকশা অনুমোদন করা হলেও পরে তথ্য গোপন করে ১০ তলা করা হয়। এছাড়া শপিং কমপ্লেক্সের অনুমোদনে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই বছরই ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ ১২ বছরের আইনি প্রক্রিয়া ও ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
\

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এই রায় ঘোষণা করবেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন–সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব। আসামিদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভবন মালিক সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রায় উপলক্ষে আজ তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা ও মা মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ১০ তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জন প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন পোশাকশ্রমিক। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ভবন নির্মাণে নকশা অনুমোদন, কাঠামো পরিবর্তন এবং অনিয়ম অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্তে উঠে আসে, ২০০৬ সালে ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে ভবনটির নকশা অনুমোদন করা হলেও পরে তথ্য গোপন করে ১০ তলা করা হয়। এছাড়া শপিং কমপ্লেক্সের অনুমোদনে সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই বছরই ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ ১২ বছরের আইনি প্রক্রিয়া ও ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
\

আপনার মতামত লিখুন