সংবাদ

এবার সীমান্ত নজরদারিতে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

এবার সীমান্ত নজরদারিতে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন

সীমান্তের দুর্গম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে এবার থার্মাল এবং নাইট-মিশন ড্রোন ব্যবহারের যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ( সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরেসীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ারএর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চোরাচালান, মাদক অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে।

দেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, মেধা, প্রযুক্তি জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই বিভিন্ন বাহিনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম ব্যাপকহারে বাড়ানো হচ্ছে।

সীমান্তে আধুনিক নজরদারির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয় অথবা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পাড়ে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং এজন্য অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।

বিজিবির নিজস্ব উদ্যোগে ড্রোন তৈরি অ্যাসেম্বল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি এবং বানাচ্ছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ড্রোন ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে।

এর মাধ্যমে বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সরাসরি সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।

কেবল সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, বরং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকালেও এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো এবং উদ্ধার কার্যক্রমেও ড্রোন ব্যবহার করা যেতে পারে, যার প্রাথমিক প্রয়োগ বিজিবির সদস্যরা ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত আধুনিক ড্রোনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ড্রোনের কিছু এখানে রাখা হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ড্রোনগুলোর পূর্ণ সমাহার এখানে করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত বাহিনীর সদস্যদের জন্য পরিচালিত হলেও, ভবিষ্যতে প্রয়োজন সুযোগ অনুযায়ী সাধারণ বেসামরিক জনগণকেও এর আওতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এবার সীমান্ত নজরদারিতে থার্মাল ও নাইট-মিশন ড্রোন

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সীমান্তের দুর্গম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে এবার থার্মাল এবং নাইট-মিশন ড্রোন ব্যবহারের যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ( সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরেসীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ারএর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চোরাচালান, মাদক অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে।

দেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, মেধা, প্রযুক্তি জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই বিভিন্ন বাহিনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম ব্যাপকহারে বাড়ানো হচ্ছে।

সীমান্তে আধুনিক নজরদারির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয় অথবা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পাড়ে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক অস্ত্র পাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং এজন্য অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।

বিজিবির নিজস্ব উদ্যোগে ড্রোন তৈরি অ্যাসেম্বল করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি এবং বানাচ্ছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য একটি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ড্রোন ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে।

এর মাধ্যমে বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সরাসরি সীমান্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।

কেবল সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, বরং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকালেও এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো এবং উদ্ধার কার্যক্রমেও ড্রোন ব্যবহার করা যেতে পারে, যার প্রাথমিক প্রয়োগ বিজিবির সদস্যরা ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত আধুনিক ড্রোনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক ড্রোনের কিছু এখানে রাখা হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ড্রোনগুলোর পূর্ণ সমাহার এখানে করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত বাহিনীর সদস্যদের জন্য পরিচালিত হলেও, ভবিষ্যতে প্রয়োজন সুযোগ অনুযায়ী সাধারণ বেসামরিক জনগণকেও এর আওতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত