সুন্দরবনে টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিন ৪টি বনদস্যু বাহিনীর ৫২ জন সদস্য র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনার র্যাব-৬ কার্যালয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের মধ্যে ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর ১৬ জন, ‘আনারুল’ বাহিনীর ১৩ জন, ‘আফজাল ওরফে দুলাভাই’ বাহিনীর ১৫ জন এবং ‘আফতাব’ বাহিনীর ৮ জন সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনীগুলো সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তবে এবারের আত্মসমর্পণে কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ জমা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বাহিনীর প্রধানেরা এই প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত ছিলেন।
র্যাব-৬-এর মিডিয়া উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার ঠিক আগে এই আত্মসমর্পণ বড় একটি সাফল্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতায় দস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে তারা অপরাধের পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আগে একবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে আবারও দস্যুতায় জড়িয়েছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দস্যুদের এই আত্মসমর্পণের ফলে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের কাজের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন