সংবাদ

পাত্রীর ‘আকাল!’ ২৯ যুবকের আত্মহত্যা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

পাত্রীর ‘আকাল!’ ২৯ যুবকের আত্মহত্যা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের জলগাঁও জেলায় এক অদ্ভুত মর্মান্তিক সামাজিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।

রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শুধু জলগাঁও জেলাতেই ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উপযুক্ত পাত্রী না পাওয়ার তীব্র হতাশা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত এই পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, আত্মহত্যার নেপথ্যে মাদকের আসক্তি, হতাশা, পারিবারিক চাপ এবং ঋণের মতো বিষয়গুলোও সমানভাবে দায়ী। তবে বিয়ের পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি এই মুহূর্তে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সের প্রায় ১১ শতাংশ নারী অবিবাহিত থাকলেও পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্যটিতে অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন বিয়ের মতো বিষয়টির সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা সাফল্যের মাপকাঠি জড়িয়ে যায়, তখন অনেক তরুণ অবিবাহিত থাকাকে নিজেদের চরম ব্যর্থতা বলে মনে করতে শুরু করেন।

জলগাঁওয়ের তরুণ অধ্যাপক বিশাল পাতিল জানান, ভারতীয় সমাজে ২৪ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে বিয়ে করার এক ধরনের অদৃশ্য চাপ রয়েছে। বয়স ত্রিশ পেরোলেই সমাজ অন্যভাবে দেখতে শুরু করে এবং ধরে নেয় ওই ব্যক্তির মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে।

এই সংকটের নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছিলেন নাসিকের এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করা কৌস্তুভ পোটদার। মায়ের মৃত্যুর পর পরিবার তার জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করলেও নিজস্ব বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় বারবার পাত্রীপক্ষের কাছ থেকেনাশুনতে হয় তাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চরম মানসিক অবসাদে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।

একইভাবে জলগাঁওয়ের এক প্রবীণ মা তার চল্লিশ বছর বয়সী ছেলের জন্য পাত্রী না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছেন, এই আশায় যে বাড়ি হলে হয়তো ছেলের কপালে পাত্রী জুটবে।

গবেষক ময়ূর কুডুপলে জোয়েল কাবালিয়ানের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে জমির বদলে এখন নিয়মিত আয়, কর্মসংস্থান, শহরে বসবাসের সুযোগ এবং নিজস্ব বাড়ি থাকাকেই বিয়ের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক যুবকের জন্যই পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়/ছে।

শামীম রিজভী/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাত্রীর ‘আকাল!’ ২৯ যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের জলগাঁও জেলায় এক অদ্ভুত মর্মান্তিক সামাজিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।

রাজ্য পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শুধু জলগাঁও জেলাতেই ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনায় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উপযুক্ত পাত্রী না পাওয়ার তীব্র হতাশা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত এই পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, আত্মহত্যার নেপথ্যে মাদকের আসক্তি, হতাশা, পারিবারিক চাপ এবং ঋণের মতো বিষয়গুলোও সমানভাবে দায়ী। তবে বিয়ের পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি এই মুহূর্তে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সের প্রায় ১১ শতাংশ নারী অবিবাহিত থাকলেও পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্যটিতে অবিবাহিত পুরুষের সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন বিয়ের মতো বিষয়টির সঙ্গে সামাজিক মর্যাদা সাফল্যের মাপকাঠি জড়িয়ে যায়, তখন অনেক তরুণ অবিবাহিত থাকাকে নিজেদের চরম ব্যর্থতা বলে মনে করতে শুরু করেন।

জলগাঁওয়ের তরুণ অধ্যাপক বিশাল পাতিল জানান, ভারতীয় সমাজে ২৪ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে বিয়ে করার এক ধরনের অদৃশ্য চাপ রয়েছে। বয়স ত্রিশ পেরোলেই সমাজ অন্যভাবে দেখতে শুরু করে এবং ধরে নেয় ওই ব্যক্তির মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো সমস্যা রয়েছে।

এই সংকটের নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছিলেন নাসিকের এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করা কৌস্তুভ পোটদার। মায়ের মৃত্যুর পর পরিবার তার জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু করলেও নিজস্ব বাড়ি বা সরকারি চাকরি না থাকায় বারবার পাত্রীপক্ষের কাছ থেকেনাশুনতে হয় তাকে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চরম মানসিক অবসাদে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।

একইভাবে জলগাঁওয়ের এক প্রবীণ মা তার চল্লিশ বছর বয়সী ছেলের জন্য পাত্রী না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছেন, এই আশায় যে বাড়ি হলে হয়তো ছেলের কপালে পাত্রী জুটবে।

গবেষক ময়ূর কুডুপলে জোয়েল কাবালিয়ানের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে জমির বদলে এখন নিয়মিত আয়, কর্মসংস্থান, শহরে বসবাসের সুযোগ এবং নিজস্ব বাড়ি থাকাকেই বিয়ের ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক যুবকের জন্যই পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়/ছে।

শামীম রিজভী/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত