সংবাদ

জনপ্রিয় ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’, কতটা উপকারী?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

জনপ্রিয় ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’, কতটা উপকারী?

শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটার বিকল্প নেই। নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্রিয়তা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি হাঁটার নতুন এক ধরন নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’।

এই পদ্ধতিতে হাঁটার সময় শরীর সোজা রাখা, হাত কিছুটা বেশি নাড়ানো এবং গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এতে শরীরে লিম্ফ তরলের চলাচল বাড়ে, ফোলা ও পেট ফাঁপা কমে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাবির সবগুলোর পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং নিয়মিত হাঁটাই মূল বিষয়।

আসলে কী এই লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং?

‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’ নামে কোনো স্বীকৃত বিশেষ চিকিৎসা বা ব্যায়াম পদ্ধতি নেই। মূলত স্বাভাবিক হাঁটার সঙ্গে কিছু সচেতন ভঙ্গি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল যুক্ত করেই এই নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছে।

লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থা শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্ত সঞ্চালনের মতো এর কোনো কেন্দ্রীয় পাম্প নেই। শরীরের পেশির সংকোচন, নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস লিম্ফ তরল চলাচলে সহায়তা করে।

হাঁটা কেন উপকারী?

হাঁটার সময় পা ও শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় থাকে। পেশির এই নড়াচড়া লিম্ফ তরল চলাচলে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রক্তসঞ্চালন ও সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার জন্যও উপকারী।

বিশেষ করে যারা দিনের বড় সময় বসে কাটান, তাদের জন্য নিয়মিত উঠে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখার সহজ উপায়। লিম্ফেডিমার মতো নির্দিষ্ট সমস্যায় ব্যায়াম ও নড়াচড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

‘ডিটক্স’ দাবিতে যতটা সতর্কতা

লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত দাবি হলো এটি শরীরকে ‘ডিটক্স’ করে। কিন্তু সুস্থ মানুষের শরীরে বর্জ্য ও বিপাকীয় পদার্থ অপসারণের নিজস্ব স্বাভাবিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বিশেষ কায়দায় হাঁটলেই শরীর থেকে অতিরিক্ত ‘বিষাক্ত পদার্থ’ বের হয়ে যাবে-এমন দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।

একইভাবে শুধু লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং করলে দ্রুত ওজন কমবে বা পেটের ফোলা ভাব নিশ্চিতভাবে দূর হবে-এমন দাবিও প্রমাণিত নয়।

তাহলে কীভাবে হাঁটবেন?

লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংয়ের জন্য আলাদা কোনো সরঞ্জাম প্রয়োজন নেই।

      ·         হাঁটার সময়-আরামদায়ক গতিতে নিয়মিত হাঁটুন।

      ·         শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ও গভীর রাখার চেষ্টা করুন।

      ·         দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত নড়াচড়া করা। বর্তমানে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই যে বিশেষ ভঙ্গিতে হাঁটা সাধারণ হাঁটার চেয়ে লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থার জন্য বেশি কার্যকর। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড হিসেবে লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং অনুসরণ করা যেতে পারে, তবে এটিকে কোনো ‘জাদুকরী’ ব্যায়াম বা ডিটক্স পদ্ধতি হিসেবে দেখার কারণ নেই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


জনপ্রিয় ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’, কতটা উপকারী?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটার বিকল্প নেই। নিয়মিত হাঁটা হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্রিয়তা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি হাঁটার নতুন এক ধরন নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম ‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’।

এই পদ্ধতিতে হাঁটার সময় শরীর সোজা রাখা, হাত কিছুটা বেশি নাড়ানো এবং গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, এতে শরীরে লিম্ফ তরলের চলাচল বাড়ে, ফোলা ও পেট ফাঁপা কমে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাবির সবগুলোর পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং নিয়মিত হাঁটাই মূল বিষয়।

আসলে কী এই লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং?

‘লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং’ নামে কোনো স্বীকৃত বিশেষ চিকিৎসা বা ব্যায়াম পদ্ধতি নেই। মূলত স্বাভাবিক হাঁটার সঙ্গে কিছু সচেতন ভঙ্গি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল যুক্ত করেই এই নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়েছে।

লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থা শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্ত সঞ্চালনের মতো এর কোনো কেন্দ্রীয় পাম্প নেই। শরীরের পেশির সংকোচন, নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস লিম্ফ তরল চলাচলে সহায়তা করে।

হাঁটা কেন উপকারী?

হাঁটার সময় পা ও শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় থাকে। পেশির এই নড়াচড়া লিম্ফ তরল চলাচলে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থার পাশাপাশি রক্তসঞ্চালন ও সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার জন্যও উপকারী।

বিশেষ করে যারা দিনের বড় সময় বসে কাটান, তাদের জন্য নিয়মিত উঠে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখার সহজ উপায়। লিম্ফেডিমার মতো নির্দিষ্ট সমস্যায় ব্যায়াম ও নড়াচড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

‘ডিটক্স’ দাবিতে যতটা সতর্কতা

লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত দাবি হলো এটি শরীরকে ‘ডিটক্স’ করে। কিন্তু সুস্থ মানুষের শরীরে বর্জ্য ও বিপাকীয় পদার্থ অপসারণের নিজস্ব স্বাভাবিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বিশেষ কায়দায় হাঁটলেই শরীর থেকে অতিরিক্ত ‘বিষাক্ত পদার্থ’ বের হয়ে যাবে-এমন দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই।

একইভাবে শুধু লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং করলে দ্রুত ওজন কমবে বা পেটের ফোলা ভাব নিশ্চিতভাবে দূর হবে-এমন দাবিও প্রমাণিত নয়।

তাহলে কীভাবে হাঁটবেন?

লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিংয়ের জন্য আলাদা কোনো সরঞ্জাম প্রয়োজন নেই।

      ·         হাঁটার সময়-আরামদায়ক গতিতে নিয়মিত হাঁটুন।

      ·         শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ও গভীর রাখার চেষ্টা করুন।

      ·         দীর্ঘ সময় বসে থাকলে মাঝে মাঝে উঠে কয়েক মিনিট হাঁটুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত নড়াচড়া করা। বর্তমানে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই যে বিশেষ ভঙ্গিতে হাঁটা সাধারণ হাঁটার চেয়ে লিম্ফ্যাটিক ব্যবস্থার জন্য বেশি কার্যকর। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড হিসেবে লিম্ফ্যাটিক ওয়াকিং অনুসরণ করা যেতে পারে, তবে এটিকে কোনো ‘জাদুকরী’ ব্যায়াম বা ডিটক্স পদ্ধতি হিসেবে দেখার কারণ নেই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত