সংবাদ

অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন


প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি : সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর সোহাগী খাতুন (১৪) নামে এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. এম. এম. রাইসুল ইসলাম। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ।

গত ২৭ আগস্ট অসুস্থ হলে সোহাগীকে জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. রফিকুল ইসলাম অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরে নিয়ে পরদিন অস্ত্রোপচার করেন। ৩০ আগস্ট তাকে বাড়ি ফেরানো হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর থেকেই বমি, মাথাব্যথা ও জ্বর শুরু হয়। ২ সেপ্টেম্বর আবার ক্লিনিকে নেওয়া হলে নিহতের মা লাভলী খাতুনের অভিযোগ, চিকিৎসক প্রথমে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। পরে আবার ভর্তি করে চিকিৎসা দিলেও অবস্থার অবনতি হয়। একপর্যায়ে একটি ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার পর সোহাগী অচেতন হয়ে পড়েন এবং আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি তার মায়ের।

পরবর্তীকালে ডা. রফিকুল ইসলামের পরামর্শে সোহাগীকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খিঁচুনি শুরু হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউতে নেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান।

নিহতের খালা নাসিমা খাতুন ও বাবা মোমিনুর রহমান মণ্ডল ক্লিনিকের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের দুর্ব্যবহার, অবহেলা এবং সোহাগীর সামনে গালিগালাজের অভিযোগ তুলেছেন। বাবা বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় আমার মেয়ে মারা গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা চাই।’

সোহাগী জীবননগরের হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মোমিনুর রহমান মণ্ডলের মেয়ে এবং স্থানীয় বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশনের পর মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর সোহাগী খাতুন (১৪) নামে এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. এম. এম. রাইসুল ইসলাম। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ।

গত ২৭ আগস্ট অসুস্থ হলে সোহাগীকে জীবননগরের মনোয়ারা সনো সেন্টার অ্যান্ড নার্সিং হোমে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. রফিকুল ইসলাম অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরে নিয়ে পরদিন অস্ত্রোপচার করেন। ৩০ আগস্ট তাকে বাড়ি ফেরানো হয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর থেকেই বমি, মাথাব্যথা ও জ্বর শুরু হয়। ২ সেপ্টেম্বর আবার ক্লিনিকে নেওয়া হলে নিহতের মা লাভলী খাতুনের অভিযোগ, চিকিৎসক প্রথমে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। পরে আবার ভর্তি করে চিকিৎসা দিলেও অবস্থার অবনতি হয়। একপর্যায়ে একটি ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার পর সোহাগী অচেতন হয়ে পড়েন এবং আর জ্ঞান ফেরেনি বলে দাবি তার মায়ের।

পরবর্তীকালে ডা. রফিকুল ইসলামের পরামর্শে সোহাগীকে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে খিঁচুনি শুরু হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউতে নেওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান।

নিহতের খালা নাসিমা খাতুন ও বাবা মোমিনুর রহমান মণ্ডল ক্লিনিকের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের দুর্ব্যবহার, অবহেলা এবং সোহাগীর সামনে গালিগালাজের অভিযোগ তুলেছেন। বাবা বলেন, ‘ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় আমার মেয়ে মারা গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা চাই।’

সোহাগী জীবননগরের হাসাদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মোমিনুর রহমান মণ্ডলের মেয়ে এবং স্থানীয় বিসিকেএমপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ছিল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত