কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে ড্রেজিং শেষে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকট কেটে গেলেও মিলছে না একটি ফেরিরও। নাব্যতা সংকট ও মেরামতের অজুহাত দেখিয়ে গত তিন মাসে পর্যায়ক্রমে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’, ‘কুঞ্জলতা’ ও ‘কদম’ নামের তিনটি ফেরি সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে উত্তরবঙ্গের পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকট দেখিয়ে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জুলাই 'কুঞ্জলতা' ও ২ সেপ্টেম্বর 'কদম' ফেরিটি মেরামতের কথা বলে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। আর 'বেগম সুফিয়া কামাল' ফেরিটি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসেই প্রত্যাহার করা হয়। ফলে বর্তমানে চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটটি পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে নৌপথ সচল করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে খননকাজ শুরু করে। সংস্থাটি কারিগরি তত্ত্বাবধানে চিলমারী নৌবন্দর ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ারচর থেকে দুই বিঘা চর পর্যন্ত নদীপথ খনন করে চলাচলের উপযোগী করে তোলে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খননকাজ শেষ হলেও ফেরি না থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, নদীপথে বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে। পলি জমে যাতে নতুন করে সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং কাজও চালু রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীর সোনারহাট এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ফেরি বন্ধ থাকায় আমরা ঢাকায় সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছি না। বিকল্প পথে অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটিই অনেক বেড়ে গেছে।’
চিলমারী নদীবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর চন্দ্র পাল বলেন, চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে পুনরায় ফেরি চালু করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রেজিংয়ের পর চ্যানেলটি সচল রাখতে দ্রুত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি; অন্যথায় পলি জমে আবারও চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
একটি গোপন সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অলস বসে থাকলেও কুঞ্জলতা ফেরিটি ডকিং শেষে চিলমারীতে না পাঠিয়ে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও এ রুটে লোকসানের অজুহাত দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। তবে চালুর পর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতাসহ নানা অজুহাতে ৫৪১ দিনই ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, ‘পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ শেষে ফেরি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।’

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে ড্রেজিং শেষে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকট কেটে গেলেও মিলছে না একটি ফেরিরও। নাব্যতা সংকট ও মেরামতের অজুহাত দেখিয়ে গত তিন মাসে পর্যায়ক্রমে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’, ‘কুঞ্জলতা’ ও ‘কদম’ নামের তিনটি ফেরি সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে উত্তরবঙ্গের পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকট দেখিয়ে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জুলাই 'কুঞ্জলতা' ও ২ সেপ্টেম্বর 'কদম' ফেরিটি মেরামতের কথা বলে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। আর 'বেগম সুফিয়া কামাল' ফেরিটি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসেই প্রত্যাহার করা হয়। ফলে বর্তমানে চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটটি পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে।
এদিকে নৌপথ সচল করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে খননকাজ শুরু করে। সংস্থাটি কারিগরি তত্ত্বাবধানে চিলমারী নৌবন্দর ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ারচর থেকে দুই বিঘা চর পর্যন্ত নদীপথ খনন করে চলাচলের উপযোগী করে তোলে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খননকাজ শেষ হলেও ফেরি না থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, নদীপথে বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে। পলি জমে যাতে নতুন করে সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং কাজও চালু রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারীর সোনারহাট এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ফেরি বন্ধ থাকায় আমরা ঢাকায় সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছি না। বিকল্প পথে অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটিই অনেক বেড়ে গেছে।’
চিলমারী নদীবন্দরের বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর চন্দ্র পাল বলেন, চিলমারী-রৌমারী নৌ রুটে পুনরায় ফেরি চালু করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রেজিংয়ের পর চ্যানেলটি সচল রাখতে দ্রুত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি; অন্যথায় পলি জমে আবারও চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
একটি গোপন সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অলস বসে থাকলেও কুঞ্জলতা ফেরিটি ডকিং শেষে চিলমারীতে না পাঠিয়ে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও এ রুটে লোকসানের অজুহাত দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। তবে চালুর পর থেকে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতাসহ নানা অজুহাতে ৫৪১ দিনই ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, ‘পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ শেষে ফেরি চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে।’

আপনার মতামত লিখুন