বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো চিফ পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।
সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর আর্থিক সংকটে দিন কাটানো সাংবাদিকের মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন- এটা কি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি সাংবাদিকতার পেশার করুণ পরিণতি!
মেধাবী সম্পাদক Lutfor Rahman Himel এক পোস্টে লিখেছেন, “সমকালের বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান, সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির এই অস্বাভাবিক মৃত্যুটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না। ..সাংবাদিকতাই যখন নিরাপত্তাহীনতা, ভয়, বৈষম্য আর অর্থনৈতিক দৈন্যদশার শিকার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন মূলত রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা আর নিরপেক্ষতার কাঠামোটাই আসলে ভেঙে পড়ে।”
মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের প্রধান সংগঠক Mainul Khan প্রশ্ন তোলেন, “পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ চেয়ার এবং টেবিলের সঙ্গে প্রায় লেগে ঝুলে থাকার যে ছবি দেখা যাচ্ছে সেটা কি একরকম সন্দেহ জাগায় না? উনি তাইলে কোথায় দাঁড়িয়ে রশি টানিয়েছিলেন? পা দুটো ফ্লোরে বেন্ড করা! ছবিটা কি উনারই তো, তাই না? উনি কি ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ছিলেন?”
সাংবাদিক নেতা Saif Ali মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের পাওনা টাকা মেরে দেওয়া সমকালের স্বভাব।”
আরেক সাংবাদিক নেতা Akter Hossain মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের পাওনা টাকা না দিয়ে কীভাবে দামি গাড়িতে চড়ে, কীভাবে আলিশান বাড়িতে থাকে, কীভাবে টাই পড়ে, লজ্জাও নাই। কার্ল মার্কস ঠিকই বলেছেন, সব শোষকের চেহারা এক। দৈনিক সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত করার পর পুলক দা আর্থিক সংকটে পড়েন। শরীরে রোগ নিয়ে হতাশায় তিনি দিন কাটিয়েছেন। তারপরও সমকাল কর্তৃপক্ষ তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।”
Borhanul Haque Shamrat তার পোস্টে লেখেন, “একটা পর্যায়ে বলা হলো দৌড় দে, পিছনে তাকাবি না। পুলকদা বলা হয়নি আপনাকে সে কথা। শুধু অভাবের কারণেই নয়, কত কিছুর পরই তো মরে যাওয়া যেত, তবুও তো বেঁচে আছি। জানি না হয়তো লড়াই করার আর শক্তিই ছিল না।”
জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির (জেজেইউ) সদস্য সচিব Ahsan Kamrul লেখেন, “মাসে মাসে বিএমডব্লিউ/বিওয়াইডি চেঞ্জ করা যায়। কিন্তু সংবাদকর্মীদের ন্যায্য ও ক্ষুদ্র পাওনা পরিশোধের বেলায় কলিজা ফেটে যায়!”
সাংবাদিক Priangka Acharjee লেখেন, “আজ রাতে কতজন সাংবাদিকের চোখের পাতা এক হবে জানা নেই! শেষ বয়সে ক্যারিয়ার ও অর্থ সংকট! বিভুদার পর পুলক দার স্বেচ্ছাঘুম! আমরা জাগব কবে?”
কবি Saokot Hossen লেখেন, “সাংবাদিক সমাজ কথা কও, না হলে হিন্দুরা কথা কবে, তখন আবার কিছু মনে কইরো না!! বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিকে সমকাল-এর বরিশাল ব্যুরোর কার্যালয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ছবিটি দেখে সংশয় জাগে এমন করে আত্মহত্যা করা যায় কিনা?”
সাংবাদিক Noushin Bristi লেখেন, “কত মিথ্যার ওপর দিয়েই মিডিয়া হাউজগুলো চলে, তা সত্যিই অবাক করার মতো। অডিট নিয়ে যে কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারাও পকেট ভারি করে ফেলে। মালিক/সম্পাদক, সরকার, সাংবাদিক সংগঠন, সাংবাদিকদের ভূমিকা কেউ দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। বিভুদা থেকে শুরু করে পুলকদা! পরে হয়তো আমি, আপনি! সোচ্চার হই দাবি আদায়ে, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই!”
কবি ও সাংবাদিক Shahinur Islam লেখেন, “বুকের ভেতরটা নড়িয়ে দিল—একটি চিঠি। সাংবাদিক বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় চিরসুখীজন। সুখ এবং সরলতায় পরিপূর্ণ একটি কলস। তার ভেতরে বঞ্চিত হওয়ার কী পরিমাণ ব্যথার পাহাড় জমা হয়ে আছে, কেউ দেখে না। পুলক দাদা সমকাল থেকে বঞ্চিত আমিও ভোরের কাগজ থেকে। এখনো বেতনের টাকা পাইনি, দেয়নি। আমার মতো অনেকের টাকা মেরে দিয়েছে ভোরের কাগজের চার স্তম্ভ।”
Durjoy Roy লেখেন, “এ দেশে সততা ও আদর্শ নিয়ে সাংবাদিকতা করতে হলে স্বচ্ছলভাবে চলার মতো পৈত্রিক সম্পত্তি থাকতে হবে, অথবা আমার বউয়ের মতো একজন চাকুরিজীবী, সর্বংসহা, সাহসী লক্ষ্মীবউ থাকতে হবে।”
তরুণ আইনজীবী ও সাংবাদিক Aminul Islam Mollik লেখেন, “২০০৫ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায়। ভালো লাগা থেকেই এ প্রফেসনে। কিন্তু ভালো লাগার পাশাপাশি পেশার ভেতরের যন্ত্রণাটাও টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে। একদল দালাল, চাটুকর, বদমাশ ও মাদার বোর্ড এ পেশাটাকে শেষ করে দিচ্ছে দিন দিন।”
বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক Chapal Saha লেখেন, “কাদের কারণে সমকালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি মারা গেলেন কিংবা আত্মহত্যা করলেন এটা একদিন বের হবে!”
সাংবাদিক নেতা Gonesh Dash লেখেন, “সাংবাদিকের শেষ বয়সটা বড় ভয়ংকর। যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের দুর্দিনের খবর লিখেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন—একদিন সেই মানুষটিই নিজের পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে যান। এই দৃশ্য আমি দেখেছি। একবার নয়, বহুবার দেখেছি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের মেধাবী তরুণ সাংবাদিক Tanvir Hasan Tanu লেখেন, “আমাদের পেশা বাঁচাতে হবে সাংবাদিকদেরই। অন্য কেউ এসে এই পেশা বাঁচিয়ে দিয়ে যাবে না। তাই প্রস্তুত হোন...”
Md. Harunur Rashid লেখেন, “সাংবাদিকতা করতে এসে সবচেয়ে বেশি হতাশায় থাকে তারা নিজেরাই।”
প্রখ্যাত লেখক, কবি Taslima Nasrin লেখেন, “সমকালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি চারটে চিঠি এবং একটি সুইসাইড নোট লিখে নিজের জীবন শেষ করেছেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা আর অসহনীয় যন্ত্রণা তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। ভাবছি, মৃত্যুর জন্যও তাঁকে কত কষ্ট করতে হলো! যে মানুষটি জীবনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইছেন, তাঁকে কেন আরও একটি ভয়াবহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে নিজের মৃত্যু নিজেকেই ঘটাতে হবে?”
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু যেন এক নীরব আর্তনাদ; যা বলে যাচ্ছে, সাংবাদিকতা পেশা আজ কতটা অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক দৈন্যদশা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন যাচ্ছে। যারা সারা জীবন অন্যের জন্য কলম ধরেছেন, তারা নিজের শেষ সময়ে এসে পড়ছেন চরম আর্থিক সংকটে। আর এই সংকট কোনো একক ব্যক্তির নয়; গোটা সাংবাদিকতা পেশার এক করুণ বাস্তবতা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এই পেশার মানুষগুলোর জন্যও দরকার ন্যায্য পাওনা, সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তা। নইলে হয়তো আরও অনেক পুলক চ্যাটার্জি হারিয়ে যাবেন, নীরবে-নিভৃতে।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরো চিফ পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।
সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর আর্থিক সংকটে দিন কাটানো সাংবাদিকের মৃত্যু নিয়ে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন- এটা কি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি সাংবাদিকতার পেশার করুণ পরিণতি!
মেধাবী সম্পাদক Lutfor Rahman Himel এক পোস্টে লিখেছেন, “সমকালের বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান, সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির এই অস্বাভাবিক মৃত্যুটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না। ..সাংবাদিকতাই যখন নিরাপত্তাহীনতা, ভয়, বৈষম্য আর অর্থনৈতিক দৈন্যদশার শিকার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন মূলত রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা আর নিরপেক্ষতার কাঠামোটাই আসলে ভেঙে পড়ে।”
মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের প্রধান সংগঠক Mainul Khan প্রশ্ন তোলেন, “পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ চেয়ার এবং টেবিলের সঙ্গে প্রায় লেগে ঝুলে থাকার যে ছবি দেখা যাচ্ছে সেটা কি একরকম সন্দেহ জাগায় না? উনি তাইলে কোথায় দাঁড়িয়ে রশি টানিয়েছিলেন? পা দুটো ফ্লোরে বেন্ড করা! ছবিটা কি উনারই তো, তাই না? উনি কি ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ছিলেন?”
সাংবাদিক নেতা Saif Ali মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের পাওনা টাকা মেরে দেওয়া সমকালের স্বভাব।”
আরেক সাংবাদিক নেতা Akter Hossain মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের পাওনা টাকা না দিয়ে কীভাবে দামি গাড়িতে চড়ে, কীভাবে আলিশান বাড়িতে থাকে, কীভাবে টাই পড়ে, লজ্জাও নাই। কার্ল মার্কস ঠিকই বলেছেন, সব শোষকের চেহারা এক। দৈনিক সমকাল থেকে চাকরিচ্যুত করার পর পুলক দা আর্থিক সংকটে পড়েন। শরীরে রোগ নিয়ে হতাশায় তিনি দিন কাটিয়েছেন। তারপরও সমকাল কর্তৃপক্ষ তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।”
Borhanul Haque Shamrat তার পোস্টে লেখেন, “একটা পর্যায়ে বলা হলো দৌড় দে, পিছনে তাকাবি না। পুলকদা বলা হয়নি আপনাকে সে কথা। শুধু অভাবের কারণেই নয়, কত কিছুর পরই তো মরে যাওয়া যেত, তবুও তো বেঁচে আছি। জানি না হয়তো লড়াই করার আর শক্তিই ছিল না।”
জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটির (জেজেইউ) সদস্য সচিব Ahsan Kamrul লেখেন, “মাসে মাসে বিএমডব্লিউ/বিওয়াইডি চেঞ্জ করা যায়। কিন্তু সংবাদকর্মীদের ন্যায্য ও ক্ষুদ্র পাওনা পরিশোধের বেলায় কলিজা ফেটে যায়!”
সাংবাদিক Priangka Acharjee লেখেন, “আজ রাতে কতজন সাংবাদিকের চোখের পাতা এক হবে জানা নেই! শেষ বয়সে ক্যারিয়ার ও অর্থ সংকট! বিভুদার পর পুলক দার স্বেচ্ছাঘুম! আমরা জাগব কবে?”
কবি Saokot Hossen লেখেন, “সাংবাদিক সমাজ কথা কও, না হলে হিন্দুরা কথা কবে, তখন আবার কিছু মনে কইরো না!! বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকালের সাবেক ব্যুরোপ্রধান সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জিকে সমকাল-এর বরিশাল ব্যুরোর কার্যালয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ছবিটি দেখে সংশয় জাগে এমন করে আত্মহত্যা করা যায় কিনা?”
সাংবাদিক Noushin Bristi লেখেন, “কত মিথ্যার ওপর দিয়েই মিডিয়া হাউজগুলো চলে, তা সত্যিই অবাক করার মতো। অডিট নিয়ে যে কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারাও পকেট ভারি করে ফেলে। মালিক/সম্পাদক, সরকার, সাংবাদিক সংগঠন, সাংবাদিকদের ভূমিকা কেউ দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। বিভুদা থেকে শুরু করে পুলকদা! পরে হয়তো আমি, আপনি! সোচ্চার হই দাবি আদায়ে, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই!”
কবি ও সাংবাদিক Shahinur Islam লেখেন, “বুকের ভেতরটা নড়িয়ে দিল—একটি চিঠি। সাংবাদিক বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় চিরসুখীজন। সুখ এবং সরলতায় পরিপূর্ণ একটি কলস। তার ভেতরে বঞ্চিত হওয়ার কী পরিমাণ ব্যথার পাহাড় জমা হয়ে আছে, কেউ দেখে না। পুলক দাদা সমকাল থেকে বঞ্চিত আমিও ভোরের কাগজ থেকে। এখনো বেতনের টাকা পাইনি, দেয়নি। আমার মতো অনেকের টাকা মেরে দিয়েছে ভোরের কাগজের চার স্তম্ভ।”
Durjoy Roy লেখেন, “এ দেশে সততা ও আদর্শ নিয়ে সাংবাদিকতা করতে হলে স্বচ্ছলভাবে চলার মতো পৈত্রিক সম্পত্তি থাকতে হবে, অথবা আমার বউয়ের মতো একজন চাকুরিজীবী, সর্বংসহা, সাহসী লক্ষ্মীবউ থাকতে হবে।”
তরুণ আইনজীবী ও সাংবাদিক Aminul Islam Mollik লেখেন, “২০০৫ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায়। ভালো লাগা থেকেই এ প্রফেসনে। কিন্তু ভালো লাগার পাশাপাশি পেশার ভেতরের যন্ত্রণাটাও টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে। একদল দালাল, চাটুকর, বদমাশ ও মাদার বোর্ড এ পেশাটাকে শেষ করে দিচ্ছে দিন দিন।”
বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক Chapal Saha লেখেন, “কাদের কারণে সমকালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি মারা গেলেন কিংবা আত্মহত্যা করলেন এটা একদিন বের হবে!”
সাংবাদিক নেতা Gonesh Dash লেখেন, “সাংবাদিকের শেষ বয়সটা বড় ভয়ংকর। যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের দুর্দিনের খবর লিখেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন—একদিন সেই মানুষটিই নিজের পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে যান। এই দৃশ্য আমি দেখেছি। একবার নয়, বহুবার দেখেছি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের মেধাবী তরুণ সাংবাদিক Tanvir Hasan Tanu লেখেন, “আমাদের পেশা বাঁচাতে হবে সাংবাদিকদেরই। অন্য কেউ এসে এই পেশা বাঁচিয়ে দিয়ে যাবে না। তাই প্রস্তুত হোন...”
Md. Harunur Rashid লেখেন, “সাংবাদিকতা করতে এসে সবচেয়ে বেশি হতাশায় থাকে তারা নিজেরাই।”
প্রখ্যাত লেখক, কবি Taslima Nasrin লেখেন, “সমকালের সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি চারটে চিঠি এবং একটি সুইসাইড নোট লিখে নিজের জীবন শেষ করেছেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা আর অসহনীয় যন্ত্রণা তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। ভাবছি, মৃত্যুর জন্যও তাঁকে কত কষ্ট করতে হলো! যে মানুষটি জীবনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইছেন, তাঁকে কেন আরও একটি ভয়াবহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে নিজের মৃত্যু নিজেকেই ঘটাতে হবে?”
পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যু যেন এক নীরব আর্তনাদ; যা বলে যাচ্ছে, সাংবাদিকতা পেশা আজ কতটা অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক দৈন্যদশা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন যাচ্ছে। যারা সারা জীবন অন্যের জন্য কলম ধরেছেন, তারা নিজের শেষ সময়ে এসে পড়ছেন চরম আর্থিক সংকটে। আর এই সংকট কোনো একক ব্যক্তির নয়; গোটা সাংবাদিকতা পেশার এক করুণ বাস্তবতা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এই পেশার মানুষগুলোর জন্যও দরকার ন্যায্য পাওনা, সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তা। নইলে হয়তো আরও অনেক পুলক চ্যাটার্জি হারিয়ে যাবেন, নীরবে-নিভৃতে।

আপনার মতামত লিখুন