সংবাদ

ইলন মাস্ককে নিয়ে তথ্যচিত্র, কেন এত বিতর্ক?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

ইলন মাস্ককে নিয়ে তথ্যচিত্র, কেন এত বিতর্ক?

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে নিয়ে নির্মিত চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবিটির নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মাস্ক। পরিচালককে ‘শূন্য সততার একজন তেতো বুড়ো’ বলার পাশাপাশি তথ্যচিত্রটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভেনিস চলচ্চিত্র উসবে চলতি সপ্তাহে মাস্ককে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার হয়। এর আগে এনরনের পতন, উইকিলিকস ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন গিবনি।

তথ্যচিত্রের নির্মাতার মতে, মাস্কের প্রভাব বর্তমানে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর এর বিভিন্ন দাবি ও নির্মাণশৈলী নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

‘ব্যর্থ অপপ্রচার’, দাবি মাস্কের

২০২২ সালে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে কেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্টে নিজের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটির সমালোচনা করেছেন মাস্ক।

ছবিটিকে ‘ব্যর্থ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি এটিকে ‘বিরক্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেন। গিবনির কাজের সততা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মাস্কের ভাষায়, “গিবনির সততা বলতে কিছু নেই। একবিন্দুও নেই।

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, গিবনি এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছেন, যাদের কারও সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে কিংবা যারা তাঁকে চেনেনই না। পরিচালককে ‘তেতো বুড়ো মানুষ’ আখ্যা দিয়ে মাস্ক আরও বলেন, তিনি অনেক আগেই পথ হারিয়েছেন।

এমনকি গিবনির চেয়েও ‘কুকুরের এক টুকরা মলের’ বেশি সম্মান পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন মাস্ক।

‘সাই-অপ’ নিয়ে মাস্কের ইঙ্গিত

তথ্যচিত্র নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন মাস্ক।

একটি গ্রাফিকে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে পুতুল হিসেবে দেখানো হয়। সেটিকে আবার ‘টিম সোরোস’ নামে আরেকটি পুতুল নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই পুতুলের হাতে থাকা আরেকটি পুতুলে লেখা ‘অ্যালেক্স গিবনি’, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ‘হলিউড’-কে নিয়ন্ত্রণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি শেয়ার করে মাস্ক লিখেছেন, ‘একেবারে নির্ভুল’।

এরপর এক সমর্থক মন্তব্য করেন, মাস্ককে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরির আগে তিনি গিবনির নামই শোনেননি। জবাবে মাস্ক এটিকে ‘সাই-অপ’ বলে উল্লেখ করেন। এ শব্দটি সাধারণত মানুষের চিন্তা বা আচরণকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

আইনি ব্যবস্থার হুমকিও

তথ্যচিত্র নিয়ে বিতর্ক শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানহানির অভিযোগে গিবনির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মাস্কের আইনজীবীরা।

তথ্যচিত্রে মাস্কের পরিচিতজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের উপস্থিতি বা বক্তব্য যথেষ্টভাবে না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্কের সমর্থকদের কেউ কেউ ছবিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

সাবেক সঙ্গীর দাবিও অস্বীকার

তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়েও আলাদা করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাস্কের সাবেক সঙ্গী ও সাবেক মাগা ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার জন্য মাস্কের টিম তাঁকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপন চুক্তিতে সই করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাস্ক। এক্সে তিনি লিখেছেন, তাঁকে কখনো এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ারের ‘মিথ্যা দাবি করার পুরনো রেকর্ড’ রয়েছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী এবং মাস্কের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডজের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক কেটি মিলারের একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন মাস্ক।

ওই পোস্টে কেটি অভিযোগ করেন, তথ্যচিত্রে মাস্কের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতামত বা উপস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ছবিটি মুক্তির আগেই যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি প্রিমিয়ারের পর তা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইলন মাস্ককে নিয়ে তথ্যচিত্র, কেন এত বিতর্ক?

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে নিয়ে নির্মিত চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ছবিটির নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মাস্ক। পরিচালককে ‘শূন্য সততার একজন তেতো বুড়ো’ বলার পাশাপাশি তথ্যচিত্রটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ভেনিস চলচ্চিত্র উসবে চলতি সপ্তাহে মাস্ককে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রটির প্রিমিয়ার হয়। এর আগে এনরনের পতন, উইকিলিকস ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন গিবনি।

তথ্যচিত্রের নির্মাতার মতে, মাস্কের প্রভাব বর্তমানে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর এর বিভিন্ন দাবি ও নির্মাণশৈলী নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

‘ব্যর্থ অপপ্রচার’, দাবি মাস্কের

২০২২ সালে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে কেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্টে নিজের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রটির সমালোচনা করেছেন মাস্ক।

ছবিটিকে ‘ব্যর্থ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি এটিকে ‘বিরক্তিকর’ বলেও মন্তব্য করেন। গিবনির কাজের সততা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মাস্কের ভাষায়, “গিবনির সততা বলতে কিছু নেই। একবিন্দুও নেই।

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, গিবনি এমন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছেন, যাদের কারও সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে কিংবা যারা তাঁকে চেনেনই না। পরিচালককে ‘তেতো বুড়ো মানুষ’ আখ্যা দিয়ে মাস্ক আরও বলেন, তিনি অনেক আগেই পথ হারিয়েছেন।

এমনকি গিবনির চেয়েও ‘কুকুরের এক টুকরা মলের’ বেশি সম্মান পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন মাস্ক।

‘সাই-অপ’ নিয়ে মাস্কের ইঙ্গিত

তথ্যচিত্র নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন মাস্ক।

একটি গ্রাফিকে ডেমোক্রেটিক পার্টিকে পুতুল হিসেবে দেখানো হয়। সেটিকে আবার ‘টিম সোরোস’ নামে আরেকটি পুতুল নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই পুতুলের হাতে থাকা আরেকটি পুতুলে লেখা ‘অ্যালেক্স গিবনি’, যার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ‘হলিউড’-কে নিয়ন্ত্রণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি শেয়ার করে মাস্ক লিখেছেন, ‘একেবারে নির্ভুল’।

এরপর এক সমর্থক মন্তব্য করেন, মাস্ককে নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরির আগে তিনি গিবনির নামই শোনেননি। জবাবে মাস্ক এটিকে ‘সাই-অপ’ বলে উল্লেখ করেন। এ শব্দটি সাধারণত মানুষের চিন্তা বা আচরণকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

আইনি ব্যবস্থার হুমকিও

তথ্যচিত্র নিয়ে বিতর্ক শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নেই। এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানহানির অভিযোগে গিবনির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মাস্কের আইনজীবীরা।

তথ্যচিত্রে মাস্কের পরিচিতজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের উপস্থিতি বা বক্তব্য যথেষ্টভাবে না থাকার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাস্কের সমর্থকদের কেউ কেউ ছবিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

সাবেক সঙ্গীর দাবিও অস্বীকার

তথ্যচিত্রে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়েও আলাদা করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাস্কের সাবেক সঙ্গী ও সাবেক মাগা ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার জন্য মাস্কের টিম তাঁকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপন চুক্তিতে সই করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাস্ক। এক্সে তিনি লিখেছেন, তাঁকে কখনো এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ারের ‘মিথ্যা দাবি করার পুরনো রেকর্ড’ রয়েছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী এবং মাস্কের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা ডজের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক কেটি মিলারের একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন মাস্ক।

ওই পোস্টে কেটি অভিযোগ করেন, তথ্যচিত্রে মাস্কের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতামত বা উপস্থিতি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে ছবিটি মুক্তির আগেই যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি প্রিমিয়ারের পর তা ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত