সংবাদ

বিলুপ্তির পথে গরিবের সেই বিখ্যাত ‘রাজপ্রাসাদ’


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

বিলুপ্তির পথে গরিবের সেই বিখ্যাত ‘রাজপ্রাসাদ’
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আধুনিক দালানের ভিড়ে এখনো টিকে থাকা বহু বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী একটি মাটির ঘর।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের গরিবের ‘রাজপ্রাসাদ’ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। জেলার মধুপুর, ঘাটাইল, সখিপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি লাল মাটি অধ্যুষিত অঞ্চলে একসময় প্রতিটি পরিবারের বসবাসের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই মাটির ঘর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে গিয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এ ছাড়া লাল মাটিতে আনারস, কলা, পেঁপে, কচু, হলুদ, আদা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করে নিজেদের সামাজিকভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন চাষিরা। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় মানুষ প্রাচীন মাটির ঘর ভেঙে সেখানে আধুনিক ও সুন্দর ডিজাইনের পাকা দালান বা সেমিপাকা টিনের ঘর তৈরি করছেন।

একসময় পরিবারে সদস্যরাই কোদাল দিয়ে লাল মাটি গুঁড়ো করে পানি, পাটের আঁশ কিংবা খড়কুটো মিশিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এক-দেড় মাস শ্রম দিয়ে এসব মাটির দেয়াল তৈরি করতেন। সাত-আট ফুট উঁচু দেয়ালের ওপর বাঁশ বা কাঠের কাঠামো তৈরি করে তার ওপর ছন বা খড়ের ছাদ দেওয়া হতো। বিত্তবানদের বাড়িতে থাকত নকশা করা দুই তলা মাটির ঘর। পরবর্তীতে মাটির দেয়ালের ওপর টিনের চাল বসিয়ে দীর্ঘদিন তা ব্যবহার করা হতো।

ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের জোরদিঘী গ্রামে সরেজমিনে দেখা মেলে প্রায় ৪৫ বছর আগের একটি মাটির ঘরের। ঘরের মালিক ফালু মিয়া জানান, তার বৃদ্ধা মা হাজেরা বেগম মাটির ঘরের বিশেষ গুণের কারণে সেখানেই থাকেন। গ্রীষ্মকালে তুলনামূলক শীতল এবং শীতকালে আরামদায়ক পরিবেশ থাকে বলে তাঁর মা ঘরটি ভাঙতে দেননি।

একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার (৯৬) বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি ২০ হাতের একটি মাটির ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কৃষিকাজে সচ্ছলতা আসায় সম্প্রতি সেই ঘর ভেঙে দুটি বড় সেমিপাকা টিনের ঘর তৈরি করেছেন। গ্রামে এখন হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র মাটির ঘর টিকে রয়েছে।

এভাবে মানুষের রুচিবোধের পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার মান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের গ্রামবাংলা থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘরের গ্রামীণ ঐতিহ্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিলুপ্তির পথে গরিবের সেই বিখ্যাত ‘রাজপ্রাসাদ’

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের গরিবের ‘রাজপ্রাসাদ’ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। জেলার মধুপুর, ঘাটাইল, সখিপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি লাল মাটি অধ্যুষিত অঞ্চলে একসময় প্রতিটি পরিবারের বসবাসের একমাত্র অবলম্বন ছিল এই মাটির ঘর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা দেশে গিয়ে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। এ ছাড়া লাল মাটিতে আনারস, কলা, পেঁপে, কচু, হলুদ, আদা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করে নিজেদের সামাজিকভাবে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন চাষিরা। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় মানুষ প্রাচীন মাটির ঘর ভেঙে সেখানে আধুনিক ও সুন্দর ডিজাইনের পাকা দালান বা সেমিপাকা টিনের ঘর তৈরি করছেন।

একসময় পরিবারে সদস্যরাই কোদাল দিয়ে লাল মাটি গুঁড়ো করে পানি, পাটের আঁশ কিংবা খড়কুটো মিশিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এক-দেড় মাস শ্রম দিয়ে এসব মাটির দেয়াল তৈরি করতেন। সাত-আট ফুট উঁচু দেয়ালের ওপর বাঁশ বা কাঠের কাঠামো তৈরি করে তার ওপর ছন বা খড়ের ছাদ দেওয়া হতো। বিত্তবানদের বাড়িতে থাকত নকশা করা দুই তলা মাটির ঘর। পরবর্তীতে মাটির দেয়ালের ওপর টিনের চাল বসিয়ে দীর্ঘদিন তা ব্যবহার করা হতো।

ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের জোরদিঘী গ্রামে সরেজমিনে দেখা মেলে প্রায় ৪৫ বছর আগের একটি মাটির ঘরের। ঘরের মালিক ফালু মিয়া জানান, তার বৃদ্ধা মা হাজেরা বেগম মাটির ঘরের বিশেষ গুণের কারণে সেখানেই থাকেন। গ্রীষ্মকালে তুলনামূলক শীতল এবং শীতকালে আরামদায়ক পরিবেশ থাকে বলে তাঁর মা ঘরটি ভাঙতে দেননি।

একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার (৯৬) বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে তিনি ২০ হাতের একটি মাটির ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কৃষিকাজে সচ্ছলতা আসায় সম্প্রতি সেই ঘর ভেঙে দুটি বড় সেমিপাকা টিনের ঘর তৈরি করেছেন। গ্রামে এখন হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র মাটির ঘর টিকে রয়েছে।

এভাবে মানুষের রুচিবোধের পরিবর্তন ও জীবনযাত্রার মান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের গ্রামবাংলা থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘরের গ্রামীণ ঐতিহ্য।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত