সংবাদ

পাংশায় সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু


প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

পাংশায় সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর পাংশায় সাপের কামড়ের শিকার হওয়া এক শিশুকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পর শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটির নাম আসুযাত (৫)। সে পাংশা উপজেলার যশাই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে কোনো বিষাক্ত সাপে কামড় দেয়। তবে ঠিক কখন কামড় দিয়েছিল, তা পরিবারের সদস্যরা টের পাননি। শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করে। হাতে সাপের কামড়ের দাগ দেখতে পেয়েও পরিবারের স্বজনেরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে এক ওঝা বা সাপুরের কাছে নিয়ে যান। ওঝা অপচিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রোগীকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে স্বজনেরা রাত ৩টার দিকে শিশু আসুযাতকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইনজামামুল হক শিহাব ইসিজি করার পর শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, সাপে কাটার পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এনে 'অ্যান্টিভেনম' দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। সচেতনতার অভাবে কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় অকালে ঝরে গেল একটি শিশুটির প্রাণ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আক্ষেপ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাংশায় সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর পাংশায় সাপের কামড়ের শিকার হওয়া এক শিশুকে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পর শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটির নাম আসুযাত (৫)। সে পাংশা উপজেলার যশাই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে কোনো বিষাক্ত সাপে কামড় দেয়। তবে ঠিক কখন কামড় দিয়েছিল, তা পরিবারের সদস্যরা টের পাননি। শরীরে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করে। হাতে সাপের কামড়ের দাগ দেখতে পেয়েও পরিবারের স্বজনেরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে প্রথমে এক ওঝা বা সাপুরের কাছে নিয়ে যান। ওঝা অপচিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রোগীকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে স্বজনেরা রাত ৩টার দিকে শিশু আসুযাতকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইনজামামুল হক শিহাব ইসিজি করার পর শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, সাপে কাটার পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এনে 'অ্যান্টিভেনম' দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। সচেতনতার অভাবে কুসংস্কারের ওপর ভরসা করায় অকালে ঝরে গেল একটি শিশুটির প্রাণ। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আক্ষেপ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত