সংবাদ

বাবাকে বাঁচাতে কলেজপড়ুয়া মেয়ের আকুতি


প্রতিনিধি, ​গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, ​গাইবান্ধা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

বাবাকে বাঁচাতে কলেজপড়ুয়া মেয়ের আকুতি
ছবি : সংবাদ

অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ কিনতে না পেরে দিন দিন মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. রওশন মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হৃদরোগ ও লিভারের জটিলতায় ভুগছেন তিনি। অর্থাভাবের কারণে বাবার জীবনের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আশঙ্কায় বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আকুল আকুতি জানিয়েছেন তার বড় মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী সুষমা আক্তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রওশন মিয়া বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হাসানুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিদিনের ব্যয়বহুল ওষুধের খরচ জোগানোর আর্থিক সামর্থ্য পরিবারটির একেবারেই নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাত্র এক শতক জমির ওপর জরাজীর্ণ একটি ঘরে কোনোমতে মাথা গুঁজে বাস করে পরিবারটি। সংসারে স্থায়ী উপার্জনের কোনো মাধ্যম নেই। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে সামান্য পারিশ্রমিক পান, তা দিয়ে কোনোমতে খাবার জোটানোই দায় হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রওশন মিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

অভাবের কারণে রওশন মিয়ার বড় মেয়ে সুষমা আক্তারের পড়াশোনাও এখন বন্ধ হওয়ার মুখে। তুলসীঘাট সামছুল হক ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী টাকার অভাবে নিজের বইপত্র পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। একদিকে বাবার জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ - দুই মিলিয়ে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুষমা আক্তার বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক অসুস্থ। প্রতিদিন চোখের সামনে বাবাকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখি, কিন্তু টাকার অভাবে ওষুধটুকু কিনে দিতে পারছি না - একজন সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর হতে পারে না। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমার বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার কাছে অনুরোধ করছি। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই পারে আমার বাবাকে বাঁচিয়ে রাখতে।’

অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে রওশন মিয়ার উন্নত চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাবাকে বাঁচাতে কলেজপড়ুয়া মেয়ের আকুতি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়মিত ওষুধ কিনতে না পেরে দিন দিন মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. রওশন মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হৃদরোগ ও লিভারের জটিলতায় ভুগছেন তিনি। অর্থাভাবের কারণে বাবার জীবনের প্রদীপ নিভে যাওয়ার আশঙ্কায় বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আকুল আকুতি জানিয়েছেন তার বড় মেয়ে কলেজশিক্ষার্থী সুষমা আক্তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রওশন মিয়া বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হাসানুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিদিনের ব্যয়বহুল ওষুধের খরচ জোগানোর আর্থিক সামর্থ্য পরিবারটির একেবারেই নেই।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাত্র এক শতক জমির ওপর জরাজীর্ণ একটি ঘরে কোনোমতে মাথা গুঁজে বাস করে পরিবারটি। সংসারে স্থায়ী উপার্জনের কোনো মাধ্যম নেই। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে সামান্য পারিশ্রমিক পান, তা দিয়ে কোনোমতে খাবার জোটানোই দায় হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রওশন মিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

অভাবের কারণে রওশন মিয়ার বড় মেয়ে সুষমা আক্তারের পড়াশোনাও এখন বন্ধ হওয়ার মুখে। তুলসীঘাট সামছুল হক ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী টাকার অভাবে নিজের বইপত্র পর্যন্ত কিনতে পারছেন না। একদিকে বাবার জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে নিজের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ - দুই মিলিয়ে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুষমা আক্তার বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক অসুস্থ। প্রতিদিন চোখের সামনে বাবাকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখি, কিন্তু টাকার অভাবে ওষুধটুকু কিনে দিতে পারছি না - একজন সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর হতে পারে না। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমার বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার কাছে অনুরোধ করছি। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই পারে আমার বাবাকে বাঁচিয়ে রাখতে।’

অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে রওশন মিয়ার উন্নত চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত