মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল বললেই চোখে ভাসে সবুজ চা-বাগান, পাহাড়ি টিলা আর পর্যটকদের কোলাহল। তবে চায়ের এই রাজধানীতেই নীরবে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তির এক নতুন সম্ভাবনা। একটি মাত্র কম্পিউটার নিয়ে পথচলা শুরু করা এক যুবকের হাত ধরে আজ দাঁড়িয়ে গেছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা মূল্যের এক আইটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৬০ জন তরুণের।
এই গল্পের নায়ক শ্রীমঙ্গলের সন্তান ও সফল ফ্রিল্যান্সার জাকির হোসেন। তার স্বপ্নের উদ্যোগ ‘ইনপুট বাংলা’ (Input Bangla) এখন শুধুই একটি আইটি প্রতিষ্ঠান নয়; স্থানীয় বেকার ও উদ্যমী তরুণদের কাছে এক আশা ও ভরসার ঠিকানা। শ্রীমঙ্গলের মতো মফস্বল শহরে বসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০টি দেশের ক্লায়েন্টদের নিয়মিত প্রযুক্তিসেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজের জন্মভূমিতে বসেই যে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব–তা প্রমাণ করে স্থানীয় তরুণদের মনে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন জাকির।
এক কম্পিউটার থেকে আজকের বিশাল এই আইটি সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গল্পটি অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না। শুরুতে ছিল মূলধনের অভাব, ফ্রিল্যান্সিং খাতের অনিশ্চয়তা এবং নানামুখী প্রতিকূলতা। তবে অদম্য ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস ও কাজের প্রতি একাগ্রতায় দিন দিন কাজের পরিধি বেড়েছে। দেশে সীমানা পেরিয়ে দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম তৈরি করে ‘ইনপুট বাংলা’।
এ অর্জনের সবচেয়ে বড় দিক হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এতদিন যেসব তরুণদের কাজের খোঁজে রাজধানী ঢাকা বা দেশের বাইরে পাড়ি জমাতে হতো, তাদের জন্য নিজ শহরেই প্রযুক্তিভিত্তিক আয়ের টেকসই পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে জাকির হোসেন বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলকে বৈশ্বিক দরবারে একটি স্বনামধন্য ‘টেক সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। তা বাস্তবায়িত হলে চা ও পর্যটনের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিও হয়ে উঠবে শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান পরিচয়।
জাকির ও ‘ইনপুট বাংলা’র এই সফলতার গল্প প্রমাণ করে–সুযোগ ও স্বপ্নের পেছনে ছুটতে সব সময় বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সঠিক দিকনির্দেশনা আর পরিশ্রম থাকলে মফস্বলে বসেই যে বিশ্বজয় সম্ভব, চায়ের রাজ্যের এই নীরব প্রযুক্তি বিপ্লব তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল বললেই চোখে ভাসে সবুজ চা-বাগান, পাহাড়ি টিলা আর পর্যটকদের কোলাহল। তবে চায়ের এই রাজধানীতেই নীরবে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তির এক নতুন সম্ভাবনা। একটি মাত্র কম্পিউটার নিয়ে পথচলা শুরু করা এক যুবকের হাত ধরে আজ দাঁড়িয়ে গেছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা মূল্যের এক আইটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৬০ জন তরুণের।
এই গল্পের নায়ক শ্রীমঙ্গলের সন্তান ও সফল ফ্রিল্যান্সার জাকির হোসেন। তার স্বপ্নের উদ্যোগ ‘ইনপুট বাংলা’ (Input Bangla) এখন শুধুই একটি আইটি প্রতিষ্ঠান নয়; স্থানীয় বেকার ও উদ্যমী তরুণদের কাছে এক আশা ও ভরসার ঠিকানা। শ্রীমঙ্গলের মতো মফস্বল শহরে বসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০টি দেশের ক্লায়েন্টদের নিয়মিত প্রযুক্তিসেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। নিজের জন্মভূমিতে বসেই যে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব–তা প্রমাণ করে স্থানীয় তরুণদের মনে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন জাকির।
এক কম্পিউটার থেকে আজকের বিশাল এই আইটি সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গল্পটি অবশ্য মোটেও মসৃণ ছিল না। শুরুতে ছিল মূলধনের অভাব, ফ্রিল্যান্সিং খাতের অনিশ্চয়তা এবং নানামুখী প্রতিকূলতা। তবে অদম্য ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস ও কাজের প্রতি একাগ্রতায় দিন দিন কাজের পরিধি বেড়েছে। দেশে সীমানা পেরিয়ে দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম তৈরি করে ‘ইনপুট বাংলা’।
এ অর্জনের সবচেয়ে বড় দিক হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এতদিন যেসব তরুণদের কাজের খোঁজে রাজধানী ঢাকা বা দেশের বাইরে পাড়ি জমাতে হতো, তাদের জন্য নিজ শহরেই প্রযুক্তিভিত্তিক আয়ের টেকসই পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে জাকির হোসেন বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গলকে বৈশ্বিক দরবারে একটি স্বনামধন্য ‘টেক সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। তা বাস্তবায়িত হলে চা ও পর্যটনের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিও হয়ে উঠবে শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান পরিচয়।
জাকির ও ‘ইনপুট বাংলা’র এই সফলতার গল্প প্রমাণ করে–সুযোগ ও স্বপ্নের পেছনে ছুটতে সব সময় বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। সঠিক দিকনির্দেশনা আর পরিশ্রম থাকলে মফস্বলে বসেই যে বিশ্বজয় সম্ভব, চায়ের রাজ্যের এই নীরব প্রযুক্তি বিপ্লব তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপনার মতামত লিখুন