মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের জমি চাতুরীর মাধ্যমে লিখে নেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মা রুমা আক্তার ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে আসামিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মোরশেদ আলম তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে ইসরাত জাহান রিমির নামে ১৯.১০ শতাংশ জমি হেবা ঘোষণামূলে দলিল করে দেন। তবে প্রবাসীর স্ত্রী রুমা আক্তার নিজের মেয়ের এই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেনের সহায়তায় এবং মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী রিমির স্বামীর নাম গোপন করে গত ২৭ জুলাই (২০২৫) জমিটি রুমা আক্তার নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমি লিখে নেওয়ার পর রুমা আক্তার প্রবাসীর রেখে যাওয়া আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। পরে গত ২২ এপ্রিল (২০২৬) তিনি স্বামী মোরশেদ আলমকে তালাক দেন।
এসব জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা জানতে পেরে প্রতিবন্ধী রিমির স্বামী মঈন আহম্মেদ বাদী হয়ে গত ২৪ মে (২০২৬) মানিকগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় শাশুড়ি রুমা আক্তার, দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেন ও দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানাসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী মঈন আহম্মেদ বলেন, 'আমার স্ত্রী বাকপ্রতিবন্ধী। শাশুড়ি ও দলিল লেখক অসৎ উপায়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই জমি লিখে নিয়েছেন। পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়েছেন। আমি এই প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।'
রিমির চাচা খোরশেদ আলম জানান, তার প্রবাসী ভাই কষ্ট করে প্রতিবন্ধী মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য জমিটি দিয়েছিলেন। কিন্তু রিমির মা ও অন্য আসামিরা ছলচাতুরি করে জালিয়াতি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানা জানান, জমি রেজিস্ট্রির সময় সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় নিয়ম অনুযায়ীই তা সম্পন্ন হয়েছে।
আদালত প্রধান দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, আদালতের মাধ্যমে তারা যথাযথ ন্যায়বিচার পাবে।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের জমি চাতুরীর মাধ্যমে লিখে নেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মা রুমা আক্তার ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে আসামিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জেলা হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মোরশেদ আলম তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে ইসরাত জাহান রিমির নামে ১৯.১০ শতাংশ জমি হেবা ঘোষণামূলে দলিল করে দেন। তবে প্রবাসীর স্ত্রী রুমা আক্তার নিজের মেয়ের এই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেনের সহায়তায় এবং মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী রিমির স্বামীর নাম গোপন করে গত ২৭ জুলাই (২০২৫) জমিটি রুমা আক্তার নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমি লিখে নেওয়ার পর রুমা আক্তার প্রবাসীর রেখে যাওয়া আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১২ লাখ টাকা নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যান। পরে গত ২২ এপ্রিল (২০২৬) তিনি স্বামী মোরশেদ আলমকে তালাক দেন।
এসব জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনা জানতে পেরে প্রতিবন্ধী রিমির স্বামী মঈন আহম্মেদ বাদী হয়ে গত ২৪ মে (২০২৬) মানিকগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় শাশুড়ি রুমা আক্তার, দলিল লেখক রবিজ্জল হোসেন ও দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানাসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী মঈন আহম্মেদ বলেন, 'আমার স্ত্রী বাকপ্রতিবন্ধী। শাশুড়ি ও দলিল লেখক অসৎ উপায়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই জমি লিখে নিয়েছেন। পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়েছেন। আমি এই প্রতারণার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।'
রিমির চাচা খোরশেদ আলম জানান, তার প্রবাসী ভাই কষ্ট করে প্রতিবন্ধী মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য জমিটি দিয়েছিলেন। কিন্তু রিমির মা ও অন্য আসামিরা ছলচাতুরি করে জালিয়াতি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রার তানিয়া সুলতানা জানান, জমি রেজিস্ট্রির সময় সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় নিয়ম অনুযায়ীই তা সম্পন্ন হয়েছে।
আদালত প্রধান দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, আদালতের মাধ্যমে তারা যথাযথ ন্যায়বিচার পাবে।

আপনার মতামত লিখুন