ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে বিরল দ্বিদলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে বিলটি পাস হওয়ার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন ট্রাম্প।
‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আইনের প্রধান লক্ষ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মস্কোর ঘনিষ্ঠ ধনকুবেররা (অলিগার্ক)। একই সঙ্গে রাশিয়ার মূলধারার একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও নতুন এই নিষেধাজ্ঞার জালে আটকানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রধান আয়ের উৎস জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ছায়া বহরের’ (শ্যাডো ফ্লিট) ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে এতে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
আইনটির একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক বসানোর একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। নতুন এই বিধানের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ভারত ও চীন; কারণ দেশ দুটি বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা। এই আইনের আওতায় ইরানের সামরিক ও জ্বালানি খাতের ওপরও আগের চেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আইনটি পাশের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন মন্তব্য করেছেন, এই পদক্ষেপ পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্রকে’ অচল করে দেবে। বিলটির সহলেখক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই অর্থনৈতিক চাপ মস্কোকে অবশেষে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করবে।
তবে বিলটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরেও কিছুটা দ্বিমত ছিল। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা উল্টো আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানানোর মাত্র কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিলে স্বাক্ষর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে বিরল দ্বিদলীয় সমর্থনের ভিত্তিতে বিলটি পাস হওয়ার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন ট্রাম্প।
‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই আইনের প্রধান লক্ষ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মস্কোর ঘনিষ্ঠ ধনকুবেররা (অলিগার্ক)। একই সঙ্গে রাশিয়ার মূলধারার একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও নতুন এই নিষেধাজ্ঞার জালে আটকানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রধান আয়ের উৎস জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ছায়া বহরের’ (শ্যাডো ফ্লিট) ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে এতে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
আইনটির একটি বিশেষ ধারা অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক বসানোর একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। নতুন এই বিধানের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ভারত ও চীন; কারণ দেশ দুটি বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা। এই আইনের আওতায় ইরানের সামরিক ও জ্বালানি খাতের ওপরও আগের চেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আইনটি পাশের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন মন্তব্য করেছেন, এই পদক্ষেপ পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্রকে’ অচল করে দেবে। বিলটির সহলেখক ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই অর্থনৈতিক চাপ মস্কোকে অবশেষে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করবে।
তবে বিলটি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরেও কিছুটা দ্বিমত ছিল। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা উল্টো আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানানোর মাত্র কয়েক দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বিলে স্বাক্ষর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন