সংবাদ

কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ লালমাই পাহাড়ে, আটক ১


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ লালমাই পাহাড়ে, আটক ১
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের এক দিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মিলছিল না। স্বজনেরা প্রযুক্তির সহায়তায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারলেও এর পর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গতকালই পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর মা নাহিদা বেগম ফেসবুকে আকুতি জানিয়ে সবার সাহায্য চেয়েছিলেন।

শনিবার দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন জঙ্গলে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।’

কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতীমের কাছে থাকা মূল্যবান আইফোনটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এবং এতে আর কারা যুক্ত ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের কাছে থাকা ফোনটিও পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলাম না।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ লালমাই পাহাড়ে, আটক ১

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের এক দিন পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মিলছিল না। স্বজনেরা প্রযুক্তির সহায়তায় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারলেও এর পর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গতকালই পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর মা নাহিদা বেগম ফেসবুকে আকুতি জানিয়ে সবার সাহায্য চেয়েছিলেন।

শনিবার দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন জঙ্গলে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।’

কোটবাড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিবুল আলম ভুঁইয়া বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতীমের কাছে থাকা মূল্যবান আইফোনটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এবং এতে আর কারা যুক্ত ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের কাছে থাকা ফোনটিও পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা ছেলেটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলাম না।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত