সংবাদ

কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধের হুমকি


সাইদুজ্জামান সাগর, রাণীনগর (নওগাঁ)
সাইদুজ্জামান সাগর, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধের হুমকি
ছবি : সংবাদ

নওগাঁর রাণীনগরে উপজেলা এলজিইডির অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পে ১ ও ২ নম্বর ইটের খোয়ার বদলে নিম্নমানের ইট ও ঝাওয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির অভাবে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের পূর্ব কয়া পাড়া থেকে সরদার কয়া ও বড়িয়া পাড়া স্কুল মাঠ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে শুরু থেকেই চলছে এই নয়ছয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য ১ হাজার ১১০ মিটার রাস্তার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজের টেন্ডার পায় 'মেসার্স খান ট্রেডার্স' নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে রাস্তায় খোয়া ও বালুর সাব-বেজের কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ ইটের খোয়া দেওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। উল্টো খোয়ার চেয়ে বালুর পরিমাণ বেশি মেশানো হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে শ্রমিকেরা কাজ করলেও সেখানে এলজিইডির কোনো তদারকি কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আন্দাজ করে ডালি দিয়ে বালু ও নিম্নমানের ইটের খোয়া মেশাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

কাজের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দা রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘রাস্তার মোড়ের মাথায় একটু ভালো খোয়া দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো বালুর পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবাদ করায় মিস্ত্রিরা ভয় দেখিয়ে বলে-আপনার যা করার করেন, বেশি কথা বললে কাজ বন্ধ করে দেব।’

অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে কাজের দায়িত্বে থাকা হেডমিস্ত্রি আইয়ুব বলেন, ‘মেশিনে ভাঙার কারণে খোয়াগুলো এরকম লাগছে। ভাটা থেকে ইট নিলে ১ হাজার ইটের মধ্যে ১০০ থেকে ২০০টি খারাপ বের হবেই।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শাহিনুর বলেন, ‘আমরা এক নম্বর ইটই কিনেছি। কিন্তু ভাটা থেকে এক হাজারের মধ্যে ৩-৪ শ দুই নম্বর ইট তারা দিয়ে দেয়। এতে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান খান রেন্টু অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সিডিউল মেনেই কাজ করছি। কাজে এলজিইডির লোকও উপস্থিত থাকে। বালু সংকট থাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে বালু এনে কাজ চালানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় জানান, কাজ এখনো শেষ হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরেজমিনে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসঙ্গতি বা নিম্নমানের কাজ পাওয়া যায়, তবে ঠিকাদারকে তা আবার নতুন করে ঠিক করে দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, প্রতিবাদ করায় কাজ বন্ধের হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগরে উপজেলা এলজিইডির অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পে ১ ও ২ নম্বর ইটের খোয়ার বদলে নিম্নমানের ইট ও ঝাওয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলজিইডি কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির অভাবে উপজেলার একডালা ইউনিয়নের পূর্ব কয়া পাড়া থেকে সরদার কয়া ও বড়িয়া পাড়া স্কুল মাঠ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে শুরু থেকেই চলছে এই নয়ছয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য ১ হাজার ১১০ মিটার রাস্তার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজের টেন্ডার পায় 'মেসার্স খান ট্রেডার্স' নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে রাস্তায় খোয়া ও বালুর সাব-বেজের কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ ইটের খোয়া দেওয়ার কথা, তার চেয়ে অনেক কম দেওয়া হচ্ছে। উল্টো খোয়ার চেয়ে বালুর পরিমাণ বেশি মেশানো হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটিতে শ্রমিকেরা কাজ করলেও সেখানে এলজিইডির কোনো তদারকি কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আন্দাজ করে ডালি দিয়ে বালু ও নিম্নমানের ইটের খোয়া মেশাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

কাজের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দা রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন, ‘রাস্তার মোড়ের মাথায় একটু ভালো খোয়া দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো বালুর পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবাদ করায় মিস্ত্রিরা ভয় দেখিয়ে বলে-আপনার যা করার করেন, বেশি কথা বললে কাজ বন্ধ করে দেব।’

অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে কাজের দায়িত্বে থাকা হেডমিস্ত্রি আইয়ুব বলেন, ‘মেশিনে ভাঙার কারণে খোয়াগুলো এরকম লাগছে। ভাটা থেকে ইট নিলে ১ হাজার ইটের মধ্যে ১০০ থেকে ২০০টি খারাপ বের হবেই।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শাহিনুর বলেন, ‘আমরা এক নম্বর ইটই কিনেছি। কিন্তু ভাটা থেকে এক হাজারের মধ্যে ৩-৪ শ দুই নম্বর ইট তারা দিয়ে দেয়। এতে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রহমান খান রেন্টু অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সিডিউল মেনেই কাজ করছি। কাজে এলজিইডির লোকও উপস্থিত থাকে। বালু সংকট থাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে বালু এনে কাজ চালানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় জানান, কাজ এখনো শেষ হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরেজমিনে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসঙ্গতি বা নিম্নমানের কাজ পাওয়া যায়, তবে ঠিকাদারকে তা আবার নতুন করে ঠিক করে দিতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত