সংবাদ

অপ্রতিম হত্যা: প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৪, অপরাধ স্বীকার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

অপ্রতিম হত্যা: প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৪, অপরাধ স্বীকার

কুমিল্লায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাদের কাছে থেকে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অপ্রতিমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
​ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
​সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কুমিল্লার ঘটনাটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা। সারাদেশবাসী খুব মর্মাহত। একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুই বলা যায়, তার বয়স সম্ভবত ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং ডেড বডি উদ্ধার করা হয়। তার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সমস্ত আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবমতে, আগে তিনজন, আজ একজনসহ মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।"
​গ্রেপ্তারদের পরিচয় ও তাদের বয়স সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুইজনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি, একজনের কম হতে পারে, এখনও এনআইডি চেক করা হচ্ছে। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।
​হত্যার প্রধান ক্লু ও ফোন উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, "যে মোবাইল নিয়ে ঘটনা, সেই মোবাইলটা উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানতম সন্দেহভাজন আসামির কাছে। ওর নাম তুহিন। সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ করানো যায় কি না, এগুলো নিয়ে কাজ করছে।"
​তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার ভেতরে সমস্ত আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করছে এবং নিহতের পোস্টমর্টেম করানো হয়েছে, তার দাফন হয়েছে আজকে।"
​আইনি প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, "আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা সহযোগিতা করব আমাদের সমস্ত যেটা আইনানুগ প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে। আশা করি বিচার বিভাগ সে বিষয়টায় গুরুত্ব দিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের জন্য যেভাবে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সেরকম একটা পদক্ষেপ নিবেন।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতিম হত্যা: প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ৪, অপরাধ স্বীকার

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাদের কাছে থেকে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অপ্রতিমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
​ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
​সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কুমিল্লার ঘটনাটা একটা মর্মান্তিক ঘটনা। সারাদেশবাসী খুব মর্মাহত। একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুই বলা যায়, তার বয়স সম্ভবত ১৩ বছর। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং ডেড বডি উদ্ধার করা হয়। তার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সমস্ত আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবমতে, আগে তিনজন, আজ একজনসহ মোট চারজন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। এখন বাকি আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।"
​গ্রেপ্তারদের পরিচয় ও তাদের বয়স সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুইজনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি, একজনের কম হতে পারে, এখনও এনআইডি চেক করা হচ্ছে। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তারা এই ছেলের বয়সের ৫ থেকে ১০ বছর বড়।
​হত্যার প্রধান ক্লু ও ফোন উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, "যে মোবাইল নিয়ে ঘটনা, সেই মোবাইলটা উদ্ধার করা হয়েছে প্রধানতম সন্দেহভাজন আসামির কাছে। ওর নাম তুহিন। সমস্ত আলামত পাওয়া গেছে। তারা ঘটনা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম বা ১৬৪ করানো যায় কি না, এগুলো নিয়ে কাজ করছে।"
​তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার ভেতরে সমস্ত আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করছে এবং নিহতের পোস্টমর্টেম করানো হয়েছে, তার দাফন হয়েছে আজকে।"
​আইনি প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, "আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো এই হত্যাকাণ্ডের বিচারটা আমরা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করাতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা সহযোগিতা করব আমাদের সমস্ত যেটা আইনানুগ প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে। আশা করি বিচার বিভাগ সে বিষয়টায় গুরুত্ব দিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের জন্য যেভাবে দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সেরকম একটা পদক্ষেপ নিবেন।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত