জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফর শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিস্তারিত ও দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব মো. রেজাউল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব মো. রেজাউল করিম বলেন, "এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের জন্য এক বিশেষ মর্যাদার বিষয়।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রাতঃরাশে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
পরবর্তী দিন ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা ও জলবায়ু বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলা সংক্রান্ত সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
একই দিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক পৃথক বৈঠকে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাইবেন তিনি এবং ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
সফরকালে অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশে বিনিয়োগ ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তুলে ধরবেন।
পাশাপাশি কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মতো বৈশ্বিক অভিভাবকদের সাথে কুশল ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন।
সার্বিক বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, "সামগ্রিকভাবে এ সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ।"

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফর শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিস্তারিত ও দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব মো. রেজাউল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব মো. রেজাউল করিম বলেন, "এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের জন্য এক বিশেষ মর্যাদার বিষয়।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রাতঃরাশে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর তিনি সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
পরবর্তী দিন ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা ও জলবায়ু বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি মোকাবিলা সংক্রান্ত সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
একই দিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি, টেকসই উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক পৃথক বৈঠকে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চাইবেন তিনি এবং ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য বিষয়ক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
সফরকালে অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশে বিনিয়োগ ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তুলে ধরবেন।
পাশাপাশি কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং জাতিসংঘ মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মতো বৈশ্বিক অভিভাবকদের সাথে কুশল ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন।
সার্বিক বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, "সামগ্রিকভাবে এ সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চায় বাংলাদেশ।"

আপনার মতামত লিখুন