কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায় (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে শোক র্যালি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পালিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচি থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা এবং কিশোর গ্যাং ও মাদকের অপতৎপরতা বন্ধের জোর দাবি জানান।
সকালে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে একটি শোক র্যালি শহীদ আব্দুল কাইয়্যুম চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা অংশ নেন।
মানবেতর সমাবেশে কুবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ ছাড়া প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, ড. মুহাম্মদ শানসুজ্জামান মিলকী, অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন ও মাহমুদুল হাসান বক্তব্য দেন।
এদিকে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে পুলিশি তদন্তের দাবি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অপ্রতিমের কাছে থাকা মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
তবে পুলিশের এই ভাষ্য মানতে নারাজ কুবি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী কাজী মিরাজ ও নাঈম ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, শুধু আইফোনের জন্য এই হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি নিখোঁজের পর পুলিশ প্রশাসনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুবি সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের শিশু অপ্রতিম। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও আইফোনের মেসেজ সূত্র ধরে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায় (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে শোক র্যালি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল পালিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচি থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা এবং কিশোর গ্যাং ও মাদকের অপতৎপরতা বন্ধের জোর দাবি জানান।
সকালে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে একটি শোক র্যালি শহীদ আব্দুল কাইয়্যুম চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন ও মূল ফটক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা অংশ নেন।
মানবেতর সমাবেশে কুবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘অপ্রতিমকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ ছাড়া প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, ড. মুহাম্মদ শানসুজ্জামান মিলকী, অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন ও মাহমুদুল হাসান বক্তব্য দেন।
এদিকে দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে পুলিশি তদন্তের দাবি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অপ্রতিমের কাছে থাকা মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
তবে পুলিশের এই ভাষ্য মানতে নারাজ কুবি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী কাজী মিরাজ ও নাঈম ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, শুধু আইফোনের জন্য এই হত্যাকাণ্ড কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি নিখোঁজের পর পুলিশ প্রশাসনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কুবি সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের শিশু অপ্রতিম। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও আইফোনের মেসেজ সূত্র ধরে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন ইতিমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন