সংবাদ

জালে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে অজগর, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার


প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ পিএম

জালে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে অজগর, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার
ছবি : সংবাদ

মাছ ধরার জালে শক্তভাবে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখমুখী হয়েছিল একটি অজগর। জাল থেকে বের হতে না পেরে হাইল হাওরের বিলে ছটফট করছিল সাপটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় জাল কেটে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অজগরটিকে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের উকুলবেড়ির বিলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উকুলবেড়ির বিলে স্থানীয় রুমন মিয়ার পাতা জালে অজগরটি পেঁচিয়ে যায়। রাতেই বিষয়টি টের পান রুমন। তবে গভীর রাত ও অন্ধকার থাকায় তখন সাপটি উদ্ধারে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দরকে বিষয়টি জানান। তাহের আলী সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে।

খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বিলে পৌঁছান। তারা দেখতে পান, জালের সুতায় আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে আছে মাঝারি আকারের অজগরটি। প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতা অবলম্বন করে জাল কাটার কাজ শুরু হয়। তাহের আলী ও নৌকার মাঝি হায়েদ মিয়ার সহযোগিতায় টানা দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সাপটিকে সুতার বাঁধন থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা হয়। উদ্ধারের পর দেখা যায়, অজগরটি শরীরে বড় কোনো আঘাত পায়নি। পরে অক্ষত অবস্থায় সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘মাছ ধরার জালে আটকে অজগরটির প্রাণ সংশয় তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের সচেতনতা ও সহযোগিতায় দ্রুত খবর পাওয়ায় অজগরটিকে অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীদের মতে, বনাঞ্চলে চরম খাদ্যসংকট এবং আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে ঘিরে রাখা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চলের জমি দখল করে রিসোর্ট ও স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ তুলছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বিষধর শঙ্খচূড় ও অজগরের মতো প্রাণী লোকালয়ে ঢুকছে। শুধু গত আগস্ট মাসেই এই অঞ্চল থেকে বিষধর শঙ্খচূড় ও অজগরসহ অন্তত ১৭টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। হাইল হাওরের এই ঘটনাটি মানবের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বে আবাসস্থল রক্ষার জরুরি বার্তাই দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জালে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখে অজগর, দুই ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মাছ ধরার জালে শক্তভাবে পেঁচিয়ে মৃত্যুর মুখমুখী হয়েছিল একটি অজগর। জাল থেকে বের হতে না পেরে হাইল হাওরের বিলে ছটফট করছিল সাপটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় জাল কেটে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অজগরটিকে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের উকুলবেড়ির বিলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উকুলবেড়ির বিলে স্থানীয় রুমন মিয়ার পাতা জালে অজগরটি পেঁচিয়ে যায়। রাতেই বিষয়টি টের পান রুমন। তবে গভীর রাত ও অন্ধকার থাকায় তখন সাপটি উদ্ধারে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য তাহের আলী সব্দরকে বিষয়টি জানান। তাহের আলী সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে।

খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বিলে পৌঁছান। তারা দেখতে পান, জালের সুতায় আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে আছে মাঝারি আকারের অজগরটি। প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্কতা অবলম্বন করে জাল কাটার কাজ শুরু হয়। তাহের আলী ও নৌকার মাঝি হায়েদ মিয়ার সহযোগিতায় টানা দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সাপটিকে সুতার বাঁধন থেকে পুরোপুরি মুক্ত করা হয়। উদ্ধারের পর দেখা যায়, অজগরটি শরীরে বড় কোনো আঘাত পায়নি। পরে অক্ষত অবস্থায় সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘মাছ ধরার জালে আটকে অজগরটির প্রাণ সংশয় তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের সচেতনতা ও সহযোগিতায় দ্রুত খবর পাওয়ায় অজগরটিকে অক্ষত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বন্যপ্রাণী সেবাকর্মীদের মতে, বনাঞ্চলে চরম খাদ্যসংকট এবং আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে ঘিরে রাখা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চলের জমি দখল করে রিসোর্ট ও স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ তুলছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বিষধর শঙ্খচূড় ও অজগরের মতো প্রাণী লোকালয়ে ঢুকছে। শুধু গত আগস্ট মাসেই এই অঞ্চল থেকে বিষধর শঙ্খচূড় ও অজগরসহ অন্তত ১৭টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। হাইল হাওরের এই ঘটনাটি মানবের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বে আবাসস্থল রক্ষার জরুরি বার্তাই দিচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত