সংবাদ

ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে বালিশের সম্পর্ক কতটা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে বালিশের সম্পর্ক কতটা

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড় ঘোরাতে গিয়ে টান বা ব্যথা অনুভব করা বেশ অস্বস্তিকর। এমন হলে অনেকেই বালিশকে কারণ মনে করেন। পুরোনো বালিশ, ভুল উচ্চতা কিংবা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না থাকার কারণে ঘুমের সময় ঘাড় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকলে সকালে ব্যথা বা শক্তভাব তৈরি হতে পারে।

তবে বালিশ রোদে দিলেই ঘাড়ের ব্যথা সেরে যায়-এমন সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বালিশ শুকনো ও পরিষ্কার রাখা অবশ্যই ভালো অভ্যাস, কিন্তু এটিকে ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা বলা যায় না।

বালিশে জমে কী?

প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে বালিশে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ধুলো ও আর্দ্রতা জমতে পারে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে ডাস্ট মাইটসহ বিভিন্ন অ্যালার্জেন জমার সুযোগ থাকে। আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রোদ ও বাতাসে বালিশ শুকিয়ে নেওয়া কিছু আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এতে বালিশ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়-এমন ধারণা ঠিক নয়।

বালিশের কভার নিয়মিত ধোয়া এবং বালিশ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

রোদে দেওয়ার পর আরাম কেন লাগতে পারে?

কিছু বালিশ দীর্ঘদিন ব্যবহারে চেপে যেতে পারে। আবার ভেতরে আর্দ্রতা জমলে সেটি ভারী ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। শুকিয়ে নেওয়ার পর বালিশ কিছুটা ফোলা ও আরামদায়ক লাগতে পারে।

তবে সব ধরনের বালিশ সরাসরি তীব্র রোদে দেওয়া উপযোগী নয়। বিশেষ করে ফোম বা বিশেষ উপাদানের বালিশের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা আগে দেখে নেওয়া উচিত।

আসল সমস্যা হতে পারে বালিশের উচ্চতা

ঘাড়ের আরামের জন্য বালিশের উচ্চতা ও সাপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। খুব উঁচু বা খুব নিচু বালিশে মাথা ও ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে।

চিত হয়ে ঘুমালে এমন বালিশ প্রয়োজন, যা মাথা ও ঘাড়কে অতিরিক্ত উঁচু না করে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখে। আর কাত হয়ে ঘুমালে মাথা যেন শরীরের সঙ্গে মোটামুটি সমান্তরালে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

কখন বালিশ বদলাবেন?

বালিশ চুপসে গেলে, দলা পাকালে, আকার বিকৃত হলে কিংবা আগের মতো সাপোর্ট না দিলে সেটি বদলানোর কথা ভাবা উচিত। বালিশের ধরন ও ব্যক্তির ঘুমের ভঙ্গি অনুযায়ী কোনটি আরামদায়ক হবে, তা ভিন্ন হতে পারে।

তাই শুধু রোদে দেওয়ার বদলে বালিশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উচ্চতা ও সাপোর্ট—সবকিছুর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ঘাড়ের ব্যথা যদি দীর্ঘদিন থাকে, খুব তীব্র হয় বা হাত অবশ, ঝিনঝিনি কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বালিশ রোদে দেওয়া পরিচ্ছন্নতার একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে বালিশের সম্পর্ক কতটা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড় ঘোরাতে গিয়ে টান বা ব্যথা অনুভব করা বেশ অস্বস্তিকর। এমন হলে অনেকেই বালিশকে কারণ মনে করেন। পুরোনো বালিশ, ভুল উচ্চতা কিংবা পর্যাপ্ত সাপোর্ট না থাকার কারণে ঘুমের সময় ঘাড় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকলে সকালে ব্যথা বা শক্তভাব তৈরি হতে পারে।

তবে বালিশ রোদে দিলেই ঘাড়ের ব্যথা সেরে যায়-এমন সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বালিশ শুকনো ও পরিষ্কার রাখা অবশ্যই ভালো অভ্যাস, কিন্তু এটিকে ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা বলা যায় না।

বালিশে জমে কী?

প্রতিদিন ব্যবহারের ফলে বালিশে ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ, ধুলো ও আর্দ্রতা জমতে পারে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে ডাস্ট মাইটসহ বিভিন্ন অ্যালার্জেন জমার সুযোগ থাকে। আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাকের বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

রোদ ও বাতাসে বালিশ শুকিয়ে নেওয়া কিছু আর্দ্রতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এতে বালিশ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়-এমন ধারণা ঠিক নয়।

বালিশের কভার নিয়মিত ধোয়া এবং বালিশ পরিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

রোদে দেওয়ার পর আরাম কেন লাগতে পারে?

কিছু বালিশ দীর্ঘদিন ব্যবহারে চেপে যেতে পারে। আবার ভেতরে আর্দ্রতা জমলে সেটি ভারী ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। শুকিয়ে নেওয়ার পর বালিশ কিছুটা ফোলা ও আরামদায়ক লাগতে পারে।

তবে সব ধরনের বালিশ সরাসরি তীব্র রোদে দেওয়া উপযোগী নয়। বিশেষ করে ফোম বা বিশেষ উপাদানের বালিশের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা আগে দেখে নেওয়া উচিত।

আসল সমস্যা হতে পারে বালিশের উচ্চতা

ঘাড়ের আরামের জন্য বালিশের উচ্চতা ও সাপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। খুব উঁচু বা খুব নিচু বালিশে মাথা ও ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে।

চিত হয়ে ঘুমালে এমন বালিশ প্রয়োজন, যা মাথা ও ঘাড়কে অতিরিক্ত উঁচু না করে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখে। আর কাত হয়ে ঘুমালে মাথা যেন শরীরের সঙ্গে মোটামুটি সমান্তরালে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।

কখন বালিশ বদলাবেন?

বালিশ চুপসে গেলে, দলা পাকালে, আকার বিকৃত হলে কিংবা আগের মতো সাপোর্ট না দিলে সেটি বদলানোর কথা ভাবা উচিত। বালিশের ধরন ও ব্যক্তির ঘুমের ভঙ্গি অনুযায়ী কোনটি আরামদায়ক হবে, তা ভিন্ন হতে পারে।

তাই শুধু রোদে দেওয়ার বদলে বালিশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, উচ্চতা ও সাপোর্ট—সবকিছুর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ঘাড়ের ব্যথা যদি দীর্ঘদিন থাকে, খুব তীব্র হয় বা হাত অবশ, ঝিনঝিনি কিংবা দুর্বলতার মতো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বালিশ রোদে দেওয়া পরিচ্ছন্নতার একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু ঘাড়ের ব্যথার চিকিৎসা নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত