অ্যালার্মে ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে রাত জাগা পর্যন্ত ব্যস্ততায় কাটে শহুরে মানুষের দিন। সকালে তাড়াহুড়া করে প্রস্তুতি, দ্রুত নাশতা সেরে কর্মস্থলের পথে বের হওয়া, দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে অফিসে পৌঁছানো—এরপর দিনের বড় একটি সময় কম্পিউটারের সামনে বসেই কেটে যায়। খাবারেও থাকে অনিয়ম। কাজের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক চাপ। দিন শেষে বাসায় ফিরেও মোবাইল বা ল্যাপটপে সময় কাটিয়ে অনেকের ঘুমাতে যেতে হয় গভীর রাতে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন এমনই। এই ব্যস্ত রুটিন শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, হৃদস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন ও মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। নগরজীবনের অনিয়মিত অভ্যাস এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বসে থাকাই যখন দিনের বড় অংশ
কর্মক্ষেত্রে কম্পিউটার ও মোবাইলনির্ভর কাজের কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এখন অনেকের নিয়মিত অভ্যাস। কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়ও গাড়ি বা গণপরিবহনে বসেই কাটে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক নড়াচড়ার সুযোগ কমে যায়।
অল্প দূরত্বেও গাড়ির ব্যবহার, সিঁড়ির বদলে লিফট বা এস্কেলেটর ব্যবহার এবং আলাদা করে হাঁটা বা ব্যায়ামের সময় না রাখার কারণে শরীরচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন অনেকে। তাই যাদের কাজের বেশির ভাগ সময় বসে কাটে, তাদের দৈনন্দিন রুটিনে নড়াচড়ার সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
খাবারে বাড়ছে অনিয়ম
ব্যস্ততার কারণে অনেকের খাবারের তালিকাতেও এসেছে পরিবর্তন। ঘরে তৈরি খাবারের বদলে ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত লবণ বা চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার অনেক সময় সহজ পছন্দ হয়ে ওঠে। অফিসে দুপুরের খাবার কিংবা বিকেলের নাশতায় বার্গার, ফ্রাই, ফাস্টফুড ও মিষ্টি পানীয়ও নিয়মিত হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন খাদ্যাভ্যাস চললে ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মতো হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রভাবিত হতে পারে।
যানজটের সঙ্গে বাড়ছে চাপ
শহুরে জীবনে যানজটও প্রতিদিনের মানসিক চাপের একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর তাড়া, রাস্তায় দীর্ঘ অপেক্ষা, যানবাহনের ভিড় ও হর্নের সঙ্গে যুক্ত হয় কর্মক্ষেত্রের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পারিবারিক দায়িত্ব ও আর্থিক চিন্তা।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চাপ সামলাতে কেউ ধূমপান বাড়িয়ে দিতে পারেন, কেউ খাবারে অনিয়ম করতে পারেন, আবার কেউ কমিয়ে দিতে পারেন ঘুমের সময়। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
অনিয়মিত ঘুমেও ঝুঁকি
ব্যস্ত নগরজীবনে ঘুমের সময়ও অনেকের অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। অফিসের কাজ, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো ও রাত জাগার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্যও পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।
অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন জরুরি
ঢাকার যানজট, কর্মঘণ্টা কিংবা নগরজীবনের সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা, সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য সময় রাখা যেতে পারে। খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে শুধু গ্যাস বা ক্লান্তি ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
শহুরে ব্যস্ততার মধ্যেও হৃদযন্ত্রের যত্নে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিনের জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের চর্চাই হৃদস্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অ্যালার্মে ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে রাত জাগা পর্যন্ত ব্যস্ততায় কাটে শহুরে মানুষের দিন। সকালে তাড়াহুড়া করে প্রস্তুতি, দ্রুত নাশতা সেরে কর্মস্থলের পথে বের হওয়া, দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে অফিসে পৌঁছানো—এরপর দিনের বড় একটি সময় কম্পিউটারের সামনে বসেই কেটে যায়। খাবারেও থাকে অনিয়ম। কাজের চাপের সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক চাপ। দিন শেষে বাসায় ফিরেও মোবাইল বা ল্যাপটপে সময় কাটিয়ে অনেকের ঘুমাতে যেতে হয় গভীর রাতে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন এমনই। এই ব্যস্ত রুটিন শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, হৃদস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন ও মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। নগরজীবনের অনিয়মিত অভ্যাস এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বসে থাকাই যখন দিনের বড় অংশ
কর্মক্ষেত্রে কম্পিউটার ও মোবাইলনির্ভর কাজের কারণে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এখন অনেকের নিয়মিত অভ্যাস। কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়ও গাড়ি বা গণপরিবহনে বসেই কাটে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক নড়াচড়ার সুযোগ কমে যায়।
অল্প দূরত্বেও গাড়ির ব্যবহার, সিঁড়ির বদলে লিফট বা এস্কেলেটর ব্যবহার এবং আলাদা করে হাঁটা বা ব্যায়ামের সময় না রাখার কারণে শরীরচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন অনেকে। তাই যাদের কাজের বেশির ভাগ সময় বসে কাটে, তাদের দৈনন্দিন রুটিনে নড়াচড়ার সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
খাবারে বাড়ছে অনিয়ম
ব্যস্ততার কারণে অনেকের খাবারের তালিকাতেও এসেছে পরিবর্তন। ঘরে তৈরি খাবারের বদলে ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত লবণ বা চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার অনেক সময় সহজ পছন্দ হয়ে ওঠে। অফিসে দুপুরের খাবার কিংবা বিকেলের নাশতায় বার্গার, ফ্রাই, ফাস্টফুড ও মিষ্টি পানীয়ও নিয়মিত হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘদিন এমন খাদ্যাভ্যাস চললে ওজন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মতো হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রভাবিত হতে পারে।
যানজটের সঙ্গে বাড়ছে চাপ
শহুরে জীবনে যানজটও প্রতিদিনের মানসিক চাপের একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো অফিসে পৌঁছানোর তাড়া, রাস্তায় দীর্ঘ অপেক্ষা, যানবাহনের ভিড় ও হর্নের সঙ্গে যুক্ত হয় কর্মক্ষেত্রের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পারিবারিক দায়িত্ব ও আর্থিক চিন্তা।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। চাপ সামলাতে কেউ ধূমপান বাড়িয়ে দিতে পারেন, কেউ খাবারে অনিয়ম করতে পারেন, আবার কেউ কমিয়ে দিতে পারেন ঘুমের সময়। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
অনিয়মিত ঘুমেও ঝুঁকি
ব্যস্ত নগরজীবনে ঘুমের সময়ও অনেকের অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। অফিসের কাজ, অতিরিক্ত স্ক্রিনে সময় কাটানো ও রাত জাগার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্যও পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে।
অভ্যাসে ছোট পরিবর্তন জরুরি
ঢাকার যানজট, কর্মঘণ্টা কিংবা নগরজীবনের সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে।
দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটা, সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার করা এবং নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের জন্য সময় রাখা যেতে পারে। খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে শুধু গ্যাস বা ক্লান্তি ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
শহুরে ব্যস্ততার মধ্যেও হৃদযন্ত্রের যত্নে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রতিদিনের জীবনযাপনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের চর্চাই হৃদস্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আপনার মতামত লিখুন