বাতাস ছাড়া মানুষ এক মুহূর্তও বাঁচতে পারে না। সেই বাতাসই যদি বিষাক্ত হয়ে ওঠে, তাহলে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য বড় ঝুঁকিতে পড়ে। দেশে বায়ুদূষণ বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ছয়টি বড় শহরে বায়ুদূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও বিপুল। বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।
বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় শিকার শিশু, প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুর সূক্ষ্ম কণা ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিতেও ক্ষতি করতে পারে। হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টিকে এখন আর পরিবেশের গণ্ডিতে আটকে রাখার সুযোগ নেই। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
বায়ুদূষণের উৎস আমাদের অজানা নয়। নির্মাণকাজ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ইটভাটা, শিল্পকারখানা, যানবাহন, বর্জ্য পোড়ানো এবং গৃহস্থালি চুলার ধোঁয়া এর বড় উৎস। দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব ও দুর্বল তদারকির কারণে দূষণ কমছে না।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করা দরকার। খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো যাবে না। শিল্পকারখানার ধোয়া নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসব কাজে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি। নাগরিকদের নিয়মিত বায়ুমানের তথ্য জানাতে হবে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার গুরুত্বও কম নয়। কোন উৎস থেকে কত দূষণ হচ্ছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য দরকার। পাশাপাশি দূষণের প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। শুধু সরকারের একার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। নাগরিক, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
বাতাস ছাড়া মানুষ এক মুহূর্তও বাঁচতে পারে না। সেই বাতাসই যদি বিষাক্ত হয়ে ওঠে, তাহলে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য বড় ঝুঁকিতে পড়ে। দেশে বায়ুদূষণ বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ছয়টি বড় শহরে বায়ুদূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও বিপুল। বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।
বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় শিকার শিশু, প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুর সূক্ষ্ম কণা ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালিতেও ক্ষতি করতে পারে। হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টিকে এখন আর পরিবেশের গণ্ডিতে আটকে রাখার সুযোগ নেই। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
বায়ুদূষণের উৎস আমাদের অজানা নয়। নির্মাণকাজ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ইটভাটা, শিল্পকারখানা, যানবাহন, বর্জ্য পোড়ানো এবং গৃহস্থালি চুলার ধোঁয়া এর বড় উৎস। দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব ও দুর্বল তদারকির কারণে দূষণ কমছে না।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর প্রয়োগ জরুরি। নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করা দরকার। খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো যাবে না। শিল্পকারখানার ধোয়া নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসব কাজে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি। নাগরিকদের নিয়মিত বায়ুমানের তথ্য জানাতে হবে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গবেষণার গুরুত্বও কম নয়। কোন উৎস থেকে কত দূষণ হচ্ছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য দরকার। পাশাপাশি দূষণের প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। শুধু সরকারের একার পক্ষে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। নাগরিক, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন