সংবাদ

পানিতে তলিয়ে স্কুল, ক্লাসে যেতে চরম দুর্ভোগ


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

পানিতে তলিয়ে স্কুল, ক্লাসে যেতে চরম দুর্ভোগ
ছবি: সংবাদ

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বছরের প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশ পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে থাকার ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। যাতায়াতের সময় প্রায়ই পিছলে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় নোংরা হচ্ছে এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া শৌচাগারে যাওয়ার পথও পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিশুরা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরীন জাহান মিম জানায়, "স্কুলে আসার পথে পানি জমে থাকে। পড়ে গিয়ে কাপড় নোংরা হয়, বই ভিজে যায়। আমরা খেলাধুলাও করতে পারি না।" অপর এক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, "পানির জন্য আমরা ঠিকমতো ওয়াশরুমেও যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপাশে যেতে হয়।"

স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও জমা পানিতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুসহ নানা রোগজীবানু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আহাদ ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম জানান, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পূর্ববর্তী পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি আমাদের প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।"

উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান মানিকনগরবাসী, যাতে কোমলমতি শিশুরা সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


পানিতে তলিয়ে স্কুল, ক্লাসে যেতে চরম দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বছরের প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশ পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে থাকার ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। যাতায়াতের সময় প্রায়ই পিছলে পড়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় নোংরা হচ্ছে এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া শৌচাগারে যাওয়ার পথও পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিশুরা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরীন জাহান মিম জানায়, "স্কুলে আসার পথে পানি জমে থাকে। পড়ে গিয়ে কাপড় নোংরা হয়, বই ভিজে যায়। আমরা খেলাধুলাও করতে পারি না।" অপর এক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, "পানির জন্য আমরা ঠিকমতো ওয়াশরুমেও যেতে পারি না। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপাশে যেতে হয়।"

স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও জমা পানিতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুসহ নানা রোগজীবানু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল আহাদ ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল ইসলাম জানান, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পূর্ববর্তী পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি আমাদের প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।"

উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান মানিকনগরবাসী, যাতে কোমলমতি শিশুরা সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত