রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক। বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। আরোহী ছিলেন দুই তরুণী। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে।
সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও। চারদিক এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তারা। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তারা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে—এ তথ্য তাদের জানা ছিল না। তাদের একজন নওশীন তাবাসসুম, অন্যজন নওরিন জাহান। দুজনেই রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি ছাত্রীনিবাসে থাকেন।
নওশীন বলেন, এত দিন এই সড়ক যে এতটা প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত আছে, তা বোঝারই উপায় ছিল না। নওরিন বলেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দোকানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যে কী পরিমাণ ভোগান্তি হতো, তা এখন ফাঁকা জায়গাটি দেখে বোঝা যাচ্ছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বাঁধা পলিথিন বা ত্রিপলও নেই। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা।
সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। হোপ মার্কেটসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের দোকানপাট সরে গেছে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তার উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখলে ছিল হকারদের।
ফুটপাতের সীমানা দেয়ালের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে পলিথিন ও ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে দোকান বসানো হয়েছিল। মূল সড়কের ভেতরেও দুই থেকে তিন সারিতে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও।
সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। সরেজমিন সেখানে কোনো দোকান দেখা যায়নি। ভেঙে দেওয়া দোকানের বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন সোহানা রহমান। ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকেন তিনি। সোহানা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে।’
হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা সোহেল আরমান বলেন, ‘কী যে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম! আর এখন কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি লাগছে।’
এই ফুটপাত-সড়ক এমনই দখলমুক্ত থাকুক—এমন প্রত্যাশা করে সোহেল বলেন, সিটি করপোরেশন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে, আবারও অবৈধ কোনো দখলদারের কবলে না পড়ে ফুটপাত-সড়ক।
তবে এই ফাঁকা সড়ক ও ফুটপাতের অন্য একটি বাস্তবতাও রয়েছে। উচ্ছেদের ফলে শত শত হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী তাদের জীবিকার উৎস হারিয়েছেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই ফুটপাতের ওপর নির্ভর করে পরিবার চালাচ্ছিলেন। দোকান ভাঙার পর তারা কোথায় গেছেন, কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন—তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উচ্ছেদের পর হকারদের একটি বড় অংশ আশপাশের গলি, বাসস্ট্যান্ড ও কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অস্থায়ীভাবে বসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ আবার দিনমজুরি বা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।
হকারশূন্য ফুটপাথ ধরে হাঁটছেন পথচারীরা
নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি অংশ বলছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি—এটি নগরীর শৃঙ্খলা ও পথচারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও ভাবতে হবে। না হলে শহরের এক অংশের স্বস্তি অন্য অংশের বেকারত্বে পরিণত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত রবিনও এ বিষয়ে সহমত জানিয়ে বলেন, ‘ফুটপাত ফাঁকা ভালো, কিন্তু হকারদেরও তো বাঁচতে হবে। সরকারের উচিত তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া।’
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকে যায়—মিরপুর ১০ নম্বরের হকাররা কোথায় উধাও? এই উচ্ছেদ কতটা স্থায়ী হবে, আর হকারদের পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: নগরীর শৃঙ্খলা ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক। বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। আরোহী ছিলেন দুই তরুণী। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে।
সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও। চারদিক এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তারা। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তারা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে—এ তথ্য তাদের জানা ছিল না। তাদের একজন নওশীন তাবাসসুম, অন্যজন নওরিন জাহান। দুজনেই রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি ছাত্রীনিবাসে থাকেন।
নওশীন বলেন, এত দিন এই সড়ক যে এতটা প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত আছে, তা বোঝারই উপায় ছিল না। নওরিন বলেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দোকানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যে কী পরিমাণ ভোগান্তি হতো, তা এখন ফাঁকা জায়গাটি দেখে বোঝা যাচ্ছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বাঁধা পলিথিন বা ত্রিপলও নেই। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা।
সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। হোপ মার্কেটসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের দোকানপাট সরে গেছে।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তার উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখলে ছিল হকারদের।
ফুটপাতের সীমানা দেয়ালের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে পলিথিন ও ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে দোকান বসানো হয়েছিল। মূল সড়কের ভেতরেও দুই থেকে তিন সারিতে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও।
সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। সরেজমিন সেখানে কোনো দোকান দেখা যায়নি। ভেঙে দেওয়া দোকানের বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন সোহানা রহমান। ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকেন তিনি। সোহানা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে।’
হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা সোহেল আরমান বলেন, ‘কী যে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম! আর এখন কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি লাগছে।’
এই ফুটপাত-সড়ক এমনই দখলমুক্ত থাকুক—এমন প্রত্যাশা করে সোহেল বলেন, সিটি করপোরেশন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে, আবারও অবৈধ কোনো দখলদারের কবলে না পড়ে ফুটপাত-সড়ক।
তবে এই ফাঁকা সড়ক ও ফুটপাতের অন্য একটি বাস্তবতাও রয়েছে। উচ্ছেদের ফলে শত শত হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী তাদের জীবিকার উৎস হারিয়েছেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই ফুটপাতের ওপর নির্ভর করে পরিবার চালাচ্ছিলেন। দোকান ভাঙার পর তারা কোথায় গেছেন, কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন—তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, উচ্ছেদের পর হকারদের একটি বড় অংশ আশপাশের গলি, বাসস্ট্যান্ড ও কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অস্থায়ীভাবে বসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেখানেও স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ আবার দিনমজুরি বা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।
হকারশূন্য ফুটপাথ ধরে হাঁটছেন পথচারীরা
নগর পরিকল্পনাবিদদের একটি অংশ বলছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি—এটি নগরীর শৃঙ্খলা ও পথচারীদের নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও ভাবতে হবে। না হলে শহরের এক অংশের স্বস্তি অন্য অংশের বেকারত্বে পরিণত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত রবিনও এ বিষয়ে সহমত জানিয়ে বলেন, ‘ফুটপাত ফাঁকা ভালো, কিন্তু হকারদেরও তো বাঁচতে হবে। সরকারের উচিত তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া।’
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি থেকে যায়—মিরপুর ১০ নম্বরের হকাররা কোথায় উধাও? এই উচ্ছেদ কতটা স্থায়ী হবে, আর হকারদের পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: নগরীর শৃঙ্খলা ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন