চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর রেলগেটের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে হতদরিদ্র বিধবা সামিরণের (৬০) আটটি ছাগল মারা গেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়। কষ্টের একমাত্র সম্বল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামিরণ বোয়ালমারী গ্রামের পূর্বপাড়ার মৃত সাত্তার আলীর স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তিনি। সংসারের আয়ের পাশাপাশি তিনি কষ্ট করে কয়েকটি ছাগল পালন করতেন। প্রতিদিন সকালে মানুষের বাড়িতে কাজ শেষ করে বিকেলে ছাগল চরাতে মাঠে যেতেন।
গতকাল বিকেলে ১০টি ছাগল নিয়ে আমিরপুর রেলগেটের অদূরে মাঠে চরাচ্ছিলেন সামিরণ। এ সময় অসাবধানতাবশত কয়েকটি ছাগল রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। ঠিক তখনই খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট এক্সপ্রেস ট্রেন চলে এলে আটটি ছাগল কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
চোখের সামনে ছাগলগুলোর করুণ মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সামিরণ। আর্তনাদ করে তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের বাড়ি কাজ করে বেঁচে আছি। না খেয়ে-না পরে অনেক কষ্ট করে ছাগলগুলো পালন করেছিলাম। এই ছাগলগুলোই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। আজ সব শেষ হয়ে গেল।’
সামিরণের এমন আহাজারিতে ওই এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বামীহারা বৃদ্ধার শেষ অবলম্বনটুকু হারিয়ে যাওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর দিনযাপন।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর রেলগেটের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে হতদরিদ্র বিধবা সামিরণের (৬০) আটটি ছাগল মারা গেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়। কষ্টের একমাত্র সম্বল হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই বৃদ্ধা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামিরণ বোয়ালমারী গ্রামের পূর্বপাড়ার মৃত সাত্তার আলীর স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তিনি। সংসারের আয়ের পাশাপাশি তিনি কষ্ট করে কয়েকটি ছাগল পালন করতেন। প্রতিদিন সকালে মানুষের বাড়িতে কাজ শেষ করে বিকেলে ছাগল চরাতে মাঠে যেতেন।
গতকাল বিকেলে ১০টি ছাগল নিয়ে আমিরপুর রেলগেটের অদূরে মাঠে চরাচ্ছিলেন সামিরণ। এ সময় অসাবধানতাবশত কয়েকটি ছাগল রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। ঠিক তখনই খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট এক্সপ্রেস ট্রেন চলে এলে আটটি ছাগল কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
চোখের সামনে ছাগলগুলোর করুণ মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সামিরণ। আর্তনাদ করে তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের বাড়ি কাজ করে বেঁচে আছি। না খেয়ে-না পরে অনেক কষ্ট করে ছাগলগুলো পালন করেছিলাম। এই ছাগলগুলোই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। আজ সব শেষ হয়ে গেল।’
সামিরণের এমন আহাজারিতে ওই এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বামীহারা বৃদ্ধার শেষ অবলম্বনটুকু হারিয়ে যাওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর দিনযাপন।

আপনার মতামত লিখুন