সংবাদ

অনিয়ম মিললে পুরো প্রক্রিয়া বাতিলের হুঁশিয়ারি

ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভার‌তের সুপ্রিম কোর্ট


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভার‌তের সুপ্রিম কোর্ট

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’-এ নতুন করে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করার বৈধতা এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

ভোটার নিবন্ধনের সমান্তরাল তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া ‘এসআইআর’ চলাকালীন আবেদনকারীর পরিবার বা পূর্বপুরুষদের আগের তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র চাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো ব্যবস্থাটিই বাতিল ঘোষণা করা হতে পারে।
​সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এ সংক্রান্ত শুনানিতে বিতর্কিত ফর্মটির আইনি অনুমোদন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়। বেঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে সুপ্রিম কোর্ট ‘ফর্ম ৬’-এর কোনো রূপান্তর বা পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়নি।
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কঠোর কণ্ঠে জানতে চান, "নথি আদালতের সামনে এলে আমরা দেখতে চাই, শেষ পর্যন্ত কে এই পরিবর্তন করেছে এবং প্রশাসনিকভাবে এটি যুক্ত করার সাংবিধানিক এখতিয়ার কার ছিল।"
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে আদালত হুট করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে না। নির্বাচন কমিশনকে তাদের প্রামাণ্য নথি ও জবাব পেশ করতে হবে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত আইনবিরুদ্ধ প্রমাণিত হলে তা বাতিল করতে পিছপা হবে না আদালত।"
​নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয় যে মূল ফরম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাময়িকভাবে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে কমিশনের ভেতরেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুরবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশীর মতপার্থক্যের খবর সামনে এলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা কোন প্রক্রিয়ায় ও কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।"
​মামলাটি কেবল একটি আবেদন ফর্মের পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ও ক্ষমতার সীমানা নির্ধারণের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় আইনানুগ অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের লিখিত বক্তব্য ও দাপ্তরিক কাগজপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


ভোটার তালিকায় অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভার‌তের সুপ্রিম কোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’-এ নতুন করে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করার বৈধতা এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

ভোটার নিবন্ধনের সমান্তরাল তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া ‘এসআইআর’ চলাকালীন আবেদনকারীর পরিবার বা পূর্বপুরুষদের আগের তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র চাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো ব্যবস্থাটিই বাতিল ঘোষণা করা হতে পারে।
​সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে এ সংক্রান্ত শুনানিতে বিতর্কিত ফর্মটির আইনি অনুমোদন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়। বেঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে সুপ্রিম কোর্ট ‘ফর্ম ৬’-এর কোনো রূপান্তর বা পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়নি।
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কঠোর কণ্ঠে জানতে চান, "নথি আদালতের সামনে এলে আমরা দেখতে চাই, শেষ পর্যন্ত কে এই পরিবর্তন করেছে এবং প্রশাসনিকভাবে এটি যুক্ত করার সাংবিধানিক এখতিয়ার কার ছিল।"
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে আদালত হুট করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে না। নির্বাচন কমিশনকে তাদের প্রামাণ্য নথি ও জবাব পেশ করতে হবে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত আইনবিরুদ্ধ প্রমাণিত হলে তা বাতিল করতে পিছপা হবে না আদালত।"
​নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয় যে মূল ফরম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাময়িকভাবে অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি যুক্ত করা হয়েছিল। তবে কমিশনের ভেতরেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুরবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশীর মতপার্থক্যের খবর সামনে এলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়।
সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা কোন প্রক্রিয়ায় ও কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।"
​মামলাটি কেবল একটি আবেদন ফর্মের পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন নির্বাচন কমিশনের কাজের স্বচ্ছতা ও ক্ষমতার সীমানা নির্ধারণের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় আইনানুগ অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের লিখিত বক্তব্য ও দাপ্তরিক কাগজপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে আগামী সপ্তাহে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সর্বোচ্চ আদালত।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত