হঠাৎ চুল পড়ার পর অনেকেই প্রথমে শ্যাম্পু বা চুলের যত্নের পণ্য পরিবর্তনের কথা ভাবেন। কিন্তু চুল পড়ার পেছনে সবসময় বাহ্যিক কারণ থাকে না। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকেও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
চুল শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক অঙ্গ নয়। তাই শরীরে কোনো ধরনের ঘাটতি বা পরিবর্তন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় অঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে শরীর বেশি গুরুত্ব দেয়। এর প্রভাব চুলের বৃদ্ধিতেও পড়তে পারে।
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্য এবং স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন প্রয়োজন। এসবের কোনো একটিতে সমস্যা হলে চুল পাতলা হওয়া বা বেশি ঝরে পড়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা
থাইরয়েড গ্রন্থি কম বা বেশি সক্রিয় - দুই ধরনের সমস্যাই চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুলের ফলিকলেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে চুল পাতলা হওয়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝরে পড়তে পারে।
আয়রনের ঘাটতিতেও বাড়তে পারে চুল পড়া
চুলের বৃদ্ধির সঙ্গে শরীরে আয়রনের উপস্থিতিরও সম্পর্ক রয়েছে। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজনীয়, আর হিমোগ্লোবিন শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে।
আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তাল্পতা তৈরি হলে চুলের বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন চুল পড়ার পাশাপাশি ক্লান্তি বা দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে পিসিওএসের সম্পর্ক
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের সঙ্গেও চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। এ অবস্থায় অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে মাথার চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
এর পাশাপাশি শরীরের অন্য অংশে অতিরিক্ত লোম দেখা দিতে পারে। চুল পাতলা হওয়ার সঙ্গে মাসিকের অনিয়ম, ব্রণ বা অন্যান্য হরমোন-সংক্রান্ত লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অটোইমিউন রোগেও হতে পারে চুল পড়া
কিছু অটোইমিউন রোগের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে চুল পড়া। অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চুলের ফলিকলের ওপর আক্রমণ করতে পারে।
লুপাসের মতো কিছু অটোইমিউন রোগেও চুল পড়ে যেতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় মাথার নির্দিষ্ট অংশে হঠাৎ গোলাকারভাবে চুল উঠে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে চুল পাতলা হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসের প্রভাবও থাকতে পারে
রক্তে শর্করার ভারসাম্য ও রক্তসঞ্চালনের সমস্যাও চুলের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব চুলের ফলিকলেও পড়তে পারে।
তবে শুধু চুল পড়ার ভিত্তিতে ডায়াবেটিস হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই সঠিক পথ।
পুষ্টির ঘাটতি এড়ানো জরুরি
কোনো নির্দিষ্ট রোগ না থাকলেও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল পড়তে পারে। খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতি, শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে শরীরের বেশি পুষ্টির প্রয়োজন - এসব কারণেও কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, বায়োটিন ও প্রোটিন চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তবে পরীক্ষা ছাড়া নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ কিছু পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মানসিক চাপের প্রভাব দেখা দিতে পারে পরে
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ চুল পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চাপ শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের চুল পড়ার একটি পরিচিত ধরন হলো টেলোজেন এফ্লুভিয়াম। বড় ধরনের মানসিক চাপ, অসুস্থতা বা শারীরিক ধাক্কার প্রায় দুই থেকে তিন মাস পর হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
এ কারণে অনেক সময় চুল পড়ার সঙ্গে আগের মানসিক চাপের যোগসূত্র বোঝা কঠিন হয়। অর্থাৎ চাপের পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পরও তার প্রভাব চুলে দেখা দিতে পারে।
শুধু শ্যাম্পু বদলালেই সমাধান নাও হতে পারে
চুল পড়ার পেছনে যদি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে শুধু শ্যাম্পু বা বাহ্যিক প্রসাধনী পরিবর্তন করে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান নাও হতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সেটির চিকিৎসা প্রয়োজন। আবার আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন-
এসব লক্ষণ থাকলে শুধু চুলের যত্নের পণ্য পরিবর্তনের পরিবর্তে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
হঠাৎ চুল পড়ার পর অনেকেই প্রথমে শ্যাম্পু বা চুলের যত্নের পণ্য পরিবর্তনের কথা ভাবেন। কিন্তু চুল পড়ার পেছনে সবসময় বাহ্যিক কারণ থাকে না। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকেও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
চুল শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক অঙ্গ নয়। তাই শরীরে কোনো ধরনের ঘাটতি বা পরিবর্তন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় অঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে শরীর বেশি গুরুত্ব দেয়। এর প্রভাব চুলের বৃদ্ধিতেও পড়তে পারে।
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্য এবং স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন প্রয়োজন। এসবের কোনো একটিতে সমস্যা হলে চুল পাতলা হওয়া বা বেশি ঝরে পড়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা
থাইরয়েড গ্রন্থি কম বা বেশি সক্রিয় - দুই ধরনের সমস্যাই চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুলের ফলিকলেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফলে চুল পাতলা হওয়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝরে পড়তে পারে।
আয়রনের ঘাটতিতেও বাড়তে পারে চুল পড়া
চুলের বৃদ্ধির সঙ্গে শরীরে আয়রনের উপস্থিতিরও সম্পর্ক রয়েছে। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজনীয়, আর হিমোগ্লোবিন শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখে।
আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তাল্পতা তৈরি হলে চুলের বৃদ্ধিও ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘদিন চুল পড়ার পাশাপাশি ক্লান্তি বা দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে পিসিওএসের সম্পর্ক
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের সঙ্গেও চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। এ অবস্থায় অ্যান্ড্রোজেন বা পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে মাথার চুল পাতলা হয়ে যেতে পারে।
এর পাশাপাশি শরীরের অন্য অংশে অতিরিক্ত লোম দেখা দিতে পারে। চুল পাতলা হওয়ার সঙ্গে মাসিকের অনিয়ম, ব্রণ বা অন্যান্য হরমোন-সংক্রান্ত লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অটোইমিউন রোগেও হতে পারে চুল পড়া
কিছু অটোইমিউন রোগের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে চুল পড়া। অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চুলের ফলিকলের ওপর আক্রমণ করতে পারে।
লুপাসের মতো কিছু অটোইমিউন রোগেও চুল পড়ে যেতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় মাথার নির্দিষ্ট অংশে হঠাৎ গোলাকারভাবে চুল উঠে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে চুল পাতলা হওয়ার মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসের প্রভাবও থাকতে পারে
রক্তে শর্করার ভারসাম্য ও রক্তসঞ্চালনের সমস্যাও চুলের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব চুলের ফলিকলেও পড়তে পারে।
তবে শুধু চুল পড়ার ভিত্তিতে ডায়াবেটিস হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই সঠিক পথ।
পুষ্টির ঘাটতি এড়ানো জরুরি
কোনো নির্দিষ্ট রোগ না থাকলেও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল পড়তে পারে। খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতি, শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে শরীরের বেশি পুষ্টির প্রয়োজন - এসব কারণেও কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, বায়োটিন ও প্রোটিন চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তবে পরীক্ষা ছাড়া নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ কিছু পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মানসিক চাপের প্রভাব দেখা দিতে পারে পরে
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ চুল পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চাপ শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে চুলের বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের চুল পড়ার একটি পরিচিত ধরন হলো টেলোজেন এফ্লুভিয়াম। বড় ধরনের মানসিক চাপ, অসুস্থতা বা শারীরিক ধাক্কার প্রায় দুই থেকে তিন মাস পর হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
এ কারণে অনেক সময় চুল পড়ার সঙ্গে আগের মানসিক চাপের যোগসূত্র বোঝা কঠিন হয়। অর্থাৎ চাপের পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পরও তার প্রভাব চুলে দেখা দিতে পারে।
শুধু শ্যাম্পু বদলালেই সমাধান নাও হতে পারে
চুল পড়ার পেছনে যদি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে শুধু শ্যাম্পু বা বাহ্যিক প্রসাধনী পরিবর্তন করে দীর্ঘমেয়াদে সমাধান নাও হতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে সেটির চিকিৎসা প্রয়োজন। আবার আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন-
এসব লক্ষণ থাকলে শুধু চুলের যত্নের পণ্য পরিবর্তনের পরিবর্তে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

আপনার মতামত লিখুন