জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন, যার ফলে এখন যে কোনো দিন চাঞ্চল্যকর এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হতে পারে।
বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এই আলোচিত মামলার অন্য তিন অভিযুক্ত হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র অনুযায়ী চারজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আন্দোলন দমনের বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশ্য একমত পোষণ করা, গত ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় গোপন বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করা এবং সরাসরি ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার অভিযোগ। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা ট্রাইব্যুনালে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন যে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল আন্দোলন দমনের একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত কুৎসিত চক্রান্ত।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আইনি লড়াই নতুন মোড় নেয় এবং গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার পর আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় নেতা আজগর আলীর একটি উসকানিমূলক বক্তব্য মামলার অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি হানিফের নির্দেশে আন্দোলন দমনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল। গত বছরের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং ২ নভেম্বর বিচারকাজ শুরুর পর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক পর্ব পেরিয়ে মামলাটি এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন, যার ফলে এখন যে কোনো দিন চাঞ্চল্যকর এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হতে পারে।
বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বিস্তারিত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এই আলোচিত মামলার অন্য তিন অভিযুক্ত হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। ট্রাইব্যুনালের নথিপত্র অনুযায়ী চারজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আন্দোলন দমনের বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশ্য একমত পোষণ করা, গত ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় গোপন বৈঠক করে ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করা এবং সরাসরি ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার অভিযোগ। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা ট্রাইব্যুনালে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন যে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল আন্দোলন দমনের একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত কুৎসিত চক্রান্ত।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ১১ মে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আইনি লড়াই নতুন মোড় নেয় এবং গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার পর আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় নেতা আজগর আলীর একটি উসকানিমূলক বক্তব্য মামলার অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি হানিফের নির্দেশে আন্দোলন দমনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল। গত বছরের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং ২ নভেম্বর বিচারকাজ শুরুর পর দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক পর্ব পেরিয়ে মামলাটি এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আপনার মতামত লিখুন